মাঠে গোয়েন্দারা

পাপিয়া মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে

নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামিমা নূর পাপিয়ার দেওয়া তথ্য নিয়ে মাঠে নেমেছেন গোয়েন্দারা। রিমান্ডে পাপিয়া ও তার স্বামীসহ দুই সহযোগী যেসব তথ্য দিয়েছেন তা খতিয়ে দেখতেই কাজ করছেন তারা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে আরও জানিয়েছেন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে একের পর এক নারী কেলেঙ্কারির তথ্য দিচ্ছেন পাপিয়া। বিপুল পরিমাণ অর্থপাচার করেছেন বলেও স্বীকার করেছেন। পাপিয়ার ‘কানেকশনে’ বিদেশ থেকে যেসব তরুণী আসা-যাওয়া করতেন এবং দেশ থেকে যারা বাইরে যেতেন তাদের নামের একটি তালিকা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সংস্থার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, পাপিয়া ও তার সঙ্গীরা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গুলশানের অভিজাত হোটেল কারা যেতেন এবং তার অনৈতিক কাজের সঙ্গে কারা জড়িত সে বিষয়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার প্রভাবশালী লোকজন। পাপিয়া কাউকে জড়ানোর জন্য মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া স্বীকার করেছেন, নারী ব্যবসার আড়ালে মুদ্রাপাচার ছিল তার অন্যতম বাণিজ্য। বেশ কয়েকটি দেশের অ্যাকাউন্টে তার অর্থ রয়েছে। এ তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মানি লন্ডারিং অনুসন্ধানে সিআইডি : পাপিয়ার মানি লন্ডারিংয়ের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। যাচাই-বাছাইয়ের পর যদি তার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিআইডির ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি আরও জানান, পাপিয়ার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য জানতে ইতিমধ্যেই দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্য পুরো তথ্য হাতে পাওয়া যাবে। সেসব তথ্য হাতে পাওয়ার পর মানি লন্ডারিংয়ে যদি পাপিয়ার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণিত হয় তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি অর্থপাচার, বিদেশি জাল মুদ্রা সংরক্ষণ ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে র‌্যাব-১ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে পাপিয়া, তার স্বামী ও দুই সহযোগীকে। পরে তাদের নিয়ে ফার্মগেটের বাসায় অভিযান চালিয়ে ৫৮ লাখ টাকা, বিদেশি মুদ্রা ও পিস্তল, গুলি ও মদ উদ্ধার করে র‌্যাব। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি এবং শেরেবাংলা নগর থানায় দুটি মামলা করে র‌্যাব। তিন মামলায় পাপিয়াসহ চারজন রিমান্ডে রয়েছেন।