শ্রীপুরে আ.লীগ নেতার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন শিক্ষক

ব্যবস্থাপনা কমিটির বিরোধের জের ধরে আওয়ামী লীগ নেতার হামলার শিকার হয়েছেন মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বাখেরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক কুমার মিত্র ও সহকারী শিক্ষক জিয়াউর রহমান জুয়েল। ফের হামলার হুমকি দেওয়ায় ভয়ে গত দুদিন ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জিয়াউর রহমান। অভিযুক্ত সব্দালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসফিকুর রহমান মিল্টন মারধরের পাশাপাশি জিয়াউর রহমানের দাড়ি টেনে কিছু অংশ ছিঁঁড়ে ফেলেছেন।

হামলার শিকার ওই বিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক জিয়াউর রহমান জুয়েলের অভিযোগ, স্থানীয় সব্দালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসফিকুর রহমান গত চার মেয়াদে বাখেরা ম্যাধমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত সোমবার বিকেলে স্থানীয় সব্দালপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের একটি উন্নয়ন সভায় অভিভাবক ও এলাকাবাসী নতুন সভাপতি হিসেবে মুসফিকুর রহমানের চাচাতো ভাই যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলীর নাম প্রস্তাব করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত মুসফিকুর রহমান ‘তিনি কেন সভাপতি হতে পারবেন না’ জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক মিত্র ও সহকারী শিক্ষক জিয়াউর রহমান সরকারি নীতিমালায় পরপর দুই বছর সভাপতি থাকার নিয়ম নেই বলে জানান। তাদের এ কথায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই সময় ঘটনাস্থলেই মুসফিকুর রহমান প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক জিয়াউর রহমান জুয়েলকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও মারধর করেন। জিয়াউর রহমান জানান, একপর্যায়ে মিল্টন তার দাড়ি টেনে ছিঁড়ে ফেলেন।

গতকাল বুধবার দুপুরে বাখেরা গ্রামে গিয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক দীপক কুমার মিত্র এ বিষয়ে কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে মোবাইল ফোনে মারধরের কথা স্বীকার করলেও ‘বিচার চাওয়ার সাহস নেই’ বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক জিয়াউর রহমানের ওপর আবারও হামলা হতে পরে এ আশঙ্কায় তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ করে বাড়ি থেকে অন্যত্র গা ঢাকা দিয়েছেন বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানান। জিয়াউর রহমানের স্ত্রী জানান, মারধরের কারণে তার স্বামীর মুখ ও কপাল ফুলে গেছে। আবারও মারধরের হুমকি দেওয়ায় তিনি এখন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

তবে অভিযুক্ত শ্রীপুরের সব্দালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসফিকুর রহমান মিল্টন মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি শিক্ষকদের শুধু গালমন্দ করেছেন। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসিন কবির জানান, ঘটনার বিষয়ে তিনি জানতে পেরেছেন। কিন্তু কেউ তার কাছে অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।