আবাহনীর মধুর প্রতিশোধ

১৬ জুলাই ২০১৯। আবাহনী শিবিরে নেমে এসেছিল অমানিশার অন্ধকার। গত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে তারা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানের কাছে পরাস্ত হয়েছিল বিস্ময়কর ৪-০ ব্যবধানে। বিস্ময়কর এই অর্থে শক্তিতে আবাহনী ছিল অনেক এগিয়ে। তারপর সে লিগে বাজে দিনটি উপস্থিত হয়েছিল চিরশত্রুদের বিপক্ষে। সেই হারের ক্ষত শুকানোর সুযোগটা এরপর আবাহনী আর পায়নি। আর যে দেখাই হয়নি দু’দলের মধ্যে। গতকাল সে সুযোগ পেয়ে কড়ায় গ-ায় হিসাবটা চুকিয়ে দিয়েছে ছয়বারের লিগ চ্যাম্পিয়নরা। সাবেক ফুটবলারদের উদ্যোগে গড়া নতুন মোহামেডানকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করে ম্যাচটা আবাহনী জিতেছে সেই ৪-০ ব্যবধানেই। মধুর প্রতিশোধ তো একেই বলে।

এমন ম্যাচে কিন্তু গোল পাননি আবাহনীর গোলের মূল দায়িত্বে থাকা নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার সানডে চিজোবা। তাতে তার আক্ষেপ থাকার কথা নয়। বাকি তিন অ্যাটাকিং পার্টনার ঠিকই গোলের কাজটা করেছেন। আবাহনীকে স্বস্তি এনে দিতে জোড়া গোল করেন হাইতিয়ান কারভেন্স বেলফোর্ট। এছাড়া কিরগিজ ফরোয়ার্ড এডগার বার্নহার্ড এবং নাবিব নেওয়াজ জীবন করেন একটি করে গোল।

গোলের হিসাবে হয়তো সবাই বেলফোর্টকে এই জয়ের মূল কৃতিত্ব দেবেন। কিন্তু খেলা যারা দেখেছেন তারা প্রত্যেকে স্বীকার করবেন, এই ম্যাচে অন্য পর্যায়ের ফুটবল খেলেছেন এডগার বার্নহার্ড। গোল করেছেন, করিয়েছেনও। মূলত সানডেকে বোতলবন্দি করতে ব্যস্ত থাকা মোহামেডানের রক্ষণভাগে ফাটল ধরানোর কাজটাই করেছেন এই কিরগিজ। সঙ্গে দারুণ সঙ্গ দিয়ে গেছেন জীবন। পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমসের শেখানো কৌশল প্রয়োগে এই মৌসুমের সেরা ম্যাচটাই খেলল আবাহনী, যা আকাশি-হলুদদের নিয়ে গেছে বসুন্ধরা কিংস ও সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে (৪ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট)। আগের ম্যাচে পুলিশ এফসিকে হারিয়ে ব্রাদার্সের সঙ্গে ১-১ ড্রয়ের দুঃখ ভুলেছিল আবাহনী। উইনিং কম্বিনেশন তাই ভাঙতে চাননি আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ। তাতেই কাজ দিয়েছে। ৪-২-৩-১ ফরমেশনের ছকে ফেলে মোহামেডানকে দর্শকে পরিণত করে আয়েশি জয় পেয়েছে ধানম-ির ক্লাবটি। পেশাদার লিগে ২৪তম দেখায় ১১তম জয় পেয়েছে আবাহনী। ৮টি ড্রয়ের পাশে ৫টি হারেই বোঝা যায় এ সময়টায় দু’দলের শক্তির তারতম্য।

১৬তম মিনিটে আবাহনীকে এগিয়ে নেন বেলফোর্ট। মামুনুল ইসলামের কর্নারে অনেকটা লাফিয়ে উঠে এই হাইতিয়ানের হেড জালে জড়ায়। ৩৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বার্নহার্ড। ৪৩ মিনিটে বেলফোর্টকে দ্বিতীয় গোল পেতে বড় অবদান বার্নহার্ডের। এক ডিফেন্ডারকে চমৎকারভাবে কাটিয়ে লো-ক্রস ফেলেন গোলমুখে। সানডে ডামি করে বল ছেড়ে দিলে বেলফোর্ট আলতো প্লেসিংয়ে ৩-০ করেন। ৬৩ মিনিটে গোলদাতার তালিকায় নাম লেখান অধিনায়ক জীবন। মামুনুলের একটি লম্বা ক্রসে হেড করে গোলমুখে দেন সানডে। চতুর্থ গোলটি করেন জীবন।