বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা বিএনপিতে

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে বিএনপি। এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার তাদের সঙ্গে বসতে যাচ্ছেন দলের দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতা। কেন্দ্রীয় ও নগর বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

২৯ মার্চ অনুষ্ঠেয় চসিক নির্বাচনে ইতিমধ্যে মেয়র পদে একক প্রার্থী দিয়েছে দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। নিজেদের মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থীর তালিকাও প্রকাশ করেছে দল দুটি। কিন্তু ঘোষিত তালিকার বাইরে উভয় দলের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতাকর্মী কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এবারের চসিক নির্বাচনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে বিভিন্ন ওয়ার্ডে দলীয় মনোনয়নের বাইরে প্রায় ১৫ জন দলীয় নেতাকর্মী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। আবার দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে কারও কারও পদত্যাগের ঘটনাও ঘটেছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশ দলীয় পরিচয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও কয়েকজন জমা দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। এদের মধ্যে রয়েছেন ৫ নম্বর মোহরা ওয়ার্ড স্থানীয় বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি জানে আলম জিকু, ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডে মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আর ইউ চৌধুরী শাহীন, ৮ নম্বর শুলকবহর ওয়ার্ডে  স্বেচ্ছাসেবক দলের নগর কমিটির যুগ্ম সম্পাদক জমির উদ্দিন নাহিদ, ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে মহানগর যুবদল নেতা বাদশা আলমগীর, ১৪ নম্বর লালখান বাজার ওয়ার্ডে মহানগর বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হালিম স্বপন, ১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ তৈয়ব, ২০ নম্বর দেওয়ানবাজার ওয়ার্ডে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক লিয়াকত আলী, ২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে

স্থানীয় বিএনপি নেতা রিয়াদ খান, ২৬ নম্বর উত্তর হালিশহর ওয়ার্ডে দলীয় মনোনয়নের বাইরে মহানগর বিএনপির সদস্য আজিজুর রহমান বাবুল ও মহসীন আলী চৌধুরী, ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ডে মহানগর যুবদল নেতা মেজবাহ উদ্দিন, ৩৮ নম্বর দক্ষিণ-মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডে বিএনপি নেতা মো. আজম উদ্দিন ও ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডে ইপিজেড থানা বিএনপি নেতা হাসান মাহমুদ আনসারী। সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদেও বিএনপির দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন আকবর শাহ থানা মহিলা দলের সভাপতি ইসমত আরা জেরিন ও বাকলিয়া থানা মহিলা দলের সভাপতি শামীমা নাসরিন।

দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে ২০৫ জন ফরম জমা দেন। বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীমের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম এসব ফরম যাচাই-বাছাই করে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৪১ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৪ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করে। কিন্তু এ তালিকা প্রত্যাখ্যান করেন মনোনয়নপ্রত্যাশীদের অনেকে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডে একক প্রার্থী রাখার প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন নেতারা। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কয়েকটি ওয়ার্ডে প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তনও আসতে পারে। ইতিমধ্যে একটি ওয়ার্ডে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় সেখানে প্রার্থীর পরিবর্তন করা হয়েছে। আজ দলের বর্ধিত সভার পর বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে নগর বিএনপি নেতাদের বৈঠকের কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও কাউন্সিলর মনোনয়ন বোর্ডের প্রধান মাহবুবুর রহমান শামীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, যেসব ওয়ার্ডে দলের একাধিক নেতা কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। আশা করছি, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত তারিখের আগেই এ ক্ষেত্রে সমাধান আসবে।