সাংবাদিকদের আইনমন্ত্রী

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতেই বিচারক প্রত্যাহার

পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম আবদুল আওয়াল ও তার স্ত্রীর জামিনকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল তা নিয়ন্ত্রণ বা প্রশমিত করার জন্যই সেখানকার জেলা ও দায়রা জজ মো. আবদুল মান্নানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি আরও বলেন, জামিন চাওয়াকে কেন্দ্র করে আবদুল আওয়ালের আইনজীবী এবং ওই জেলাবারের  আইনজীবীদের সঙ্গে ওই বিচারক অত্যন্ত অশালীন এবং রূঢ় আচরণ করেন। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘জামিন দেওয়া না দেওয়ার এখতিয়ার সম্পূর্ণ আদালতের। কিন্তু আদালত যদি এমন কোনো ব্যবহার করেন, এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং আইনের শাসন রক্ষা করা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তখন কিন্তু একটি ব্যবস্থা নিতে হয়। সেখানে আইনজীবীরা আদালত বর্জন করেন। লোকজন রাস্তায় বেরিয়ে যায়। সেই অবস্থার আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখানে আইনের শাসনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘এই জেলা জজ আইনজীবীদের সঙ্গে যে ব্যবহার করেছেন, সেটা না করলে আজকের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। তার এ ধরনের ব্যবহার করা সমীচীন হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘দেশে আইনের শাসন নিশ্চিত হচ্ছে, বিচার হচ্ছে। কিন্তু উদ্ভুত পরিস্থিতিতে যে ব্যবস্থা নিতে হয়, সেটা আমাকে নিতেই হবে। এখানে সরকারি দলের লোক না বিরোধী দলের লোক, সেটা বিবেচনা করা হয়নি। পরিস্থিতি যাতে আরও খারাপ না হয় সেজন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ আনিসুল হক আরও বলেন, ‘মামলার মেরিট নিয়ে কথা বলতে চাই না। এখনো এই মামলার চার্জশিট হয়নি, শুধু এফআইআর (এজাহার) হয়েছে।’

আইনমন্ত্রী জানান, আগামী সাত দিনের মধ্যে সাতটি মানব পাচার ট্রাইব্যুনাল বিচারকাজ শুরু করবে। তিনি বলেন, ‘বিশে^ মানব পাচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে। আমরা যদি মানব পাচার আদালত তাড়াতাড়ি স্থাপন না করি তাহলে আমাদের তৃতীয় স্তরে নামিয়ে দেওয়ার একটা সম্ভাবনা আছে। সেই প্রেক্ষিতে আমরা সাতটি মানব পাচার ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করেছি এবং আগামী সাত দিনের মধ্যে এটি কাজ শুরু করবে।’