ত্বকের যত্নে নানা কিছু ব্যবহার করলেও ঘি-এর ব্যবহার কমই দেখা যায়। অথচ ঘি দিয়ে ত্বক চর্চা করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।
১. শুষ্ক ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ঘি ম্যাজিকের মতো কাজ করে। ঘিতে আছে ত্বকের উপযোগী ফ্যাটি এসিড, যা ত্বকের কোষে আর্দ্রতা পৌঁছে দেয়। পরিমাণমতো ঘি সামান্য গরম করে নিন। গোসল করার আধঘণ্টা আগে তিন থেকে পাঁচ মিনিট ভালোভাবে পুরো শরীরে ঘি মাসাজ করুন।
২. ত্বককে আর্দ্রতা দিতে ময়েশ্চারাইজার হিসেবেও ঘি কার্যকর। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার মুখে ঘি দিয়ে মাসাজ করুন। ত্বক হয়ে উঠবে মসৃণ ও নরম। চাইলে ঘি-এর সঙ্গে সামান্য পানিও মিশিয়ে নিতে পারেন। এই মিশ্রণ মুখে লাগিয়ে আলতো করে মাসাজ করুন। ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
৩. ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতেও ঘি খুব কার্যকর। কাঁচা দুধ, বেসন অথবা মসুর ডালের সঙ্গে সমপরিমাণ ঘি মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। পরিষ্কার ত্বকে পুরু করে এই মিশ্রণ লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষার পর ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের রোদে পোড়াভাব দূর হবে।
৪. ঘিতে থাকা অ্যান্টি-এজিং উপাদান ত্বকের বলিরেখা দূর করতে ভালো কাজ করে। এ ছাড়া ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে কোষে পুষ্টি জোগায়। তাই অকালবার্ধক্য থেকেও ত্বক রক্ষা পায়। ভালো মানের বিশুদ্ধ ঘি প্রতিদিন ত্বকে মাসাজ করুন। যাদের ত্বকে বলিরেখা দেখা দিতে শুরু করেছে, তারা ঘি-এর নিয়মিত ব্যবহারে দারুণ উপকার পাবেন।
৫. বডি অয়েলের বিকল্প হতে পারে ঘি। গোসলের আগে প্রতিদিন ঘি মাসাজ করলে ত্বক সজীব ও নরম থাকবে। সমপরিমাণ নারকেল তেল এবং ঘি মিশিয়ে শরীরে লাগান। আধঘণ্টা রেখে গোসল করে নিন। গোসলের পরই দেখবেন ত্বক কোমল হয়ে গেছে।
৬. ডার্ক সার্কল কমিয়ে চোখের চারপাশের ত্বক সতেজ করে তুলতেও ঘি কাজে লাগাতে পারেন। চোখের চারপাশের ত্বক এতটাই কোমল হয় যে, সঠিক যত্ন না নিলে শুষ্কতা, বলিরেখা ইত্যাদিও সহজেই আক্রান্ত করে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিয়ম করে চোখের চারপাশে ঘি লাগিয়ে নিন। আঙুলের সাহায্যে আলতো করে মাসাজ করুন। সকালে ধুয়ে ফেলুন। কিছুদিনের মধ্যেই উপকার পাবেন।
৭. ঠোঁট ফাটা কিংবা ঠোঁটের কালো ভাব দূর করতেও ঘি উপকারী। তা ছাড়া দাগ-ছোপ হালকা করতেও ঘি ব্যবহার করতে পারেন। ঠোঁটের কালচে ভাব দূর করতে চাইলে প্রতিদিন রাতে ঘি ব্যবহার করা শুরু করুন।
আঙুলে করে অল্প ঘি নিয়ে পুরো ঠোঁটে মাসাজ করুন। সারা রাত রেখে পরদিন সকালে ধুয়ে নিন।