মজাদার খাবারের সঙ্গে সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে খাবার খেতে ভালোবাসে ভোজনরসিকরা। আশপাশে জলজ প্রাণী, সামুদ্রিক কোরাল ভেসে বেড়াচ্ছে এমন হলে সে দৃশ্য আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে। পানির নিচের এমনই কিছু রোমাঞ্চকর রেস্টুরেন্ট নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা
৫.৮ রেস্টুরেন্ট, হুরাওয়াহি রিসোর্ট, মালদ্বীপ
বেশ ঠাণ্ডা একটা পরিবেশ, চারপাশে অসংখ্য মাছের ছড়াছড়ি, সামনে পছন্দসই খাবার, জুস, হাতে বই, পাশে বসা পছন্দের মানুষ। খেতে খেতে নানা রঙের মাছ, হাঙর, অক্টোপাসের চলাফেরা দেখা শিহরণ জাগানোর মতোই। বলছিলাম মালদ্বীপের হুরাওয়াহি রিসোর্টের ৫.৮ রেস্টুরেন্টের কথা। পানির নিচে চারপাশে কাচের দেয়াল দিয়ে তৈরি করা এ রেস্টুরেন্টটি নির্মিত হয় ২০১৬ সালের শেষের দিকে। রেস্টুরেন্টের নামের সঙ্গে ৫.৮ যুক্ত করার কারণ হচ্ছে, পানি থেকে এই রেস্টুরেন্টের অবস্থান ৫.৮ মিটার অর্থাৎ প্রায় ১৯ ফুট নিচে। পুরো রেস্টুরেন্টটির ওজন ৪০০ মেট্রিক টন আর দৈর্ঘ্যে ৯০ স্কয়ার মিটার।
শুরুতে ভোজনরসিকদের একটি জেটি পার হয়ে একটি আলাদা পথ ধরে ঘোরানো সিঁড়ি পার হয়ে তবেই অ্যাকোরিয়াম রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করতে হবে। রেস্টুরেন্টে দশটি টেবিল রাখা আছে। প্রতিটি টেবিল থেকেই পানির নিচের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। রেস্টুরেন্টে বসে সামুদ্রিক প্রাণিদের দেখা পাওয়া যায় খুব কাছ থেকে। আপনি যে সত্যিই পানির নিচে বসে খাবার খাচ্ছেন এই বিষয়টিকে আরও উপভোগ্য করতে রেস্টুরেন্টের খাবার পরিবেশনের আয়োজনগুলো আরও মজার। এখানে পরিবেশিত প্লেট, বাটিগুলোর আদলও সামুদ্রিক প্রবালের মতো। খাওয়ার সময় মনে হবে একটি বড় শামুকে করে খাবার খাচ্ছেন।
খাবার পরিবেশনে যেন ভোজনরসিকরা আগ্রহ না হারিয়ে ফেলে তাই প্রতিনিয়ত খাবার মেন্যুতে ভিন্নতা আনার চেষ্টা করা হয় এখানে। মাংস, সামুদ্রিক প্রাণী, নানা স্বাদের স্থানীয় এবং আমদানি করা উপাদান দিয়ে খাবার রান্না করা হয়। ৫.৮ রেস্টুরেন্টে এপ্রিকট নামের এক ধরনের ফল ও কাঠবাদাম দিয়ে ‘ডাইভার স্ক্যালুপ’ নামে একটি মজার খাবার বানানো হয়। ভোজনরসিকদের কাছে এই খাবারটি বেশ জনপ্রিয়। রাত এবং দুপুরের খাবারের মেন্যুতে সাতটি করে খাবার পাওয়া যায়। এখানে শিশুদের খাবার জন্য আলাদা কোনো মেন্যু নেই। আপাতত শুধু বড়দের খাবারের জন্যই এই রেস্টুরেন্ট।
এই রেস্টুরেন্টে যারা আসেন তাদের বেশিরভাগই হুরাওয়াহি রিসোর্টের অতিথি। মালদ্বীপের লাভিয়ানি আতোলে অবস্থিত এই ফাইভ স্টার রিসোর্টটির নকশা করেছেন জাপানিজ স্থপতি ইউজি ইয়ামাজাকি। মালে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে সামুদ্রিক বিমানে করে এই রিসোর্টে আসতে সময় লাগে চল্লিশ মিনিট। যদি আপনি বুফে ভালোবাসেন তবে অ্যাকুরিয়াম রেস্টুরেন্ট ছাড়াও এই রিসোর্টের আরও আছে বিচের পাশে ক্যানেলি রেস্টুরেন্ট।
রেস্টুরেন্টের চারপাশে প্রচুর নান্দনিক সামুদ্রিক প্রবাল সাজানো আছে। কোরাল রাখার ভাবনাটি ছিল হুরাওয়াহির ডাইভ কোচ পেইজ বেনেটের। তিনি নষ্ট হতে যাওয়া বেশ কিছু কোরালের সন্ধান পেয়েছিলেন। সেগুলোতে প্রাণ ফিরবে এমন আশায় রেস্টুরেন্টে নিয়ে আসেন বেনেট। শুরুতে কোরালগুলো ছোট হলেও ধীরে ধীরে এগুলো বড় হতে শুরু করে। কিছু নির্দিষ্ট মাছ আছে যারা বাঁচে এই কোরালের মাঝেই। বেনেট এমনভাবেই কোরাল বাছাই করতেন যেন সেই মাছগুলো কোরালের কাছে চলে আসে। আর এতে অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীরাও কোরালের কাছাকাছি আসা-যাওয়া করবে। ছোট ছোট মাছের আনাগোনা যখন বেড়ে যায় তখন বেনেট বড় বড় কোরাল নিয়ে আসেন। আর এই কোরালগুলোই এখন রেস্টুরেন্টের অন্যতম আকর্ষণ।
আন্ডার রেস্টুরেন্ট, নরওয়ে
নরওয়ের উত্তর সাগরের পানির পাঁচ ফুট নিচে মাত্র এক বছর আগে নির্মিত হয়েছে ইউরোপের সবচেয়ে বড় পানির নিচের রেস্টুরেন্ট ‘আন্ডার’। নরওয়েবাসীদের ভাষায় এই শব্দকে বলা হয় ‘ওয়ান্ডার’ অর্থাৎ ‘চমৎকার’। লম্বায় এর দৈর্ঘ্য ১১০ ফুট। রেস্টুরেন্টটি মূলত একটি কংক্রিটের সø্যাব, দেখে মনে হয় এর অর্ধেক অংশ পানিতে ডুবে আছে। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে এই রেস্টুরেন্টের কাজ শুরু হয়। ২০১৯ সালের মার্চের ২০ তারিখ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। রেস্টুরেন্টের কংক্রিটের দেয়াল দেড় ফুট পুরু। পুরো জায়গার আয়তন ৫০০ স্কয়ার মিটার। রেস্টুরেন্টের তিনটি লেভেল আছে। ১১ মিটার প্রশস্ত প্যানোরামিক জানালা দিয়ে সমুদ্রের তলদেশের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এখানে একসঙ্গে ৪০ জন অতিথি খাবার খেতে পারেন।
রেস্টুরেন্ট অর্থাৎ সø্যাবটি পানির নিচে স্থাপনের ছয় মাস আগে উপকূলে নিয়ে আসা হয়। শক্তিশালী যানের সাহায্যে ৬০০ ফুট দূরে টেনে নেওয়া হয়। কাঠামোটির অর্ধেকের বেশি অংশ পানিতে ডুবানো আছে। অতিথিদের উপকূল থেকে রেস্টুরেন্টে যেতে হলে কাচের একটি প্রবেশপথ পার হতে হয়। পানির প্রায় ১৬ ফুট নিচে রেস্টুরেন্টের কাঠামোর টিকে থাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল প্রচুর বাতাস এবং পানির ঢেউ। তখন একে একটু বাঁকা করে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যেন ঢেউ কাটিয়ে টিকে থাকার সক্ষমতা তৈরি হয়।
এই রেস্টুরেন্টটির নকশা করেছেন নরওয়ের স্থপতি জেটিল ট্রেডাল থরসেন। নরওয়ের আর্কিটেকচার ফার্ম সেøাহেট্টা’র এই মালিক অসলোর অপেরা হাউজ এবং নিউ ইয়র্কের ‘দ্য ন্যাশনাল মিউজিয়াম সেপ্টেম্বর ১১ মেমোরিয়াল মিউজিয়াম’-এর নকশাও করেছিলেন। তিনি এমনভাবে এই রেস্টুরেন্টের নকশা করেছেন যে, এটিকে দেখে কোনো অ্যাকোরিয়াম মনে হয় না, বরং এখান থেকে সত্যি সত্যি পানির নিচের দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
রেস্টুরেন্টের কাচের দেয়ালে পানির সবুজ আলো ছড়িয়ে পড়ে বলে দিনের বেলাতেও সবুজাভ আভা ছড়িয়ে পড়ে ভেতরে। নান্দনিক এই জায়গায় খাবারের তালিকায় আছে নানা ধরনের স্থানীয় এবং সামুদ্রিক খাবার। আছে মোট ১৮ ধরনের খাবার। নানা ধরনের পানীয়সহ বিভিন্ন স্বাদের খাবারের জন্য প্রতিজন ব্যক্তিকে মূল্য গুনতে হয় ৩৭০০ ক্রাউন অর্থাৎ ৪৩০ ডলার।
আল মাহারা, বুর্জ আল আরব হোটেল, দুবাই
পানির নিচে রেস্টুরেন্টের তালিকায় বেশ ওপরের দিকেই নাম আছে দুবাইয়ের বিলাসবহুল হোটেল বুর্জ আল আরবের। রেস্টুরেন্টের বিবরণে যাওয়ার আগে এই হোটেল সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেওয়া দরকার। ‘বুর্জ’ শব্দের অর্থ টাওয়ার। ‘বুর্জ আল আরব’ অর্থ ‘আরবের টাওয়ার’। বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম এই হোটেলটির অবস্থান আরব আমিরাতের দুবাইতে। জুমাইরা বিচ থেকে ২৮০ মিটার (৯২০ ফুট) দূরে একটি কৃত্রিম দ্বীপের ওপর বিশালাকার এই ভবনটি দাঁড়িয়ে। একটি ব্রিজের মাধ্যমে মূল ভূমির সঙ্গে এটি এমনভাবে লাগানো যে দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সাগরের বুকে একটি জাহাজের পাল স্থির হয়ে রয়েছে। ৫৬ তলা বিশিষ্ট এই হোটেলের ৩৯ ভাগই ব্যবহার করা যায় না। অর্থাৎ কেবল উচ্চতা বাড়িয়ে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্যই এই অংশটুকু নির্মাণ করা হয়েছে। হোটেলটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৯৪ সালে, শেষ হয় ১৯৯৯ সালে। পুরো ভবনে লিফট আছে ১৬টি।
নান্দনিক এই ভবনের নকশাকারের নাম টম রাইট। তার ওপর দায়িত্ব ছিল এমন কিছু নির্মাণের যেটি হবে দুবাইয়ের ‘আইকন’। সিডনির অপেরা হাউজ, লন্ডনের বিগ বেন, প্যারিসের আইফেল টাওয়ার যেমন পরিচিত, দুবাই বললেই যেন বুর্জ আল আরবের নাম আসে। হোটেলটিকে দেখলে বোঝা যায়, টম তার কাজ বেশ ভালোভাবেই করেছিলেন। বুর্জ আল আরবকে বিশ্ববাসী এক নামেই চেনে। হোটেলটির আকৃতি ঐতিহ্যবাহী আরবীয় নৌকার পালের মতো। এটির অর্থ দুবাইয়ের ভবিষ্যতের দিকে পাল তুলে এগিয়ে যাওয়া। বুর্জ আল আরবে এক রাত কাটাতে খরচ পড়ে চব্বিশ হাজার ডলার অর্থাৎ প্রায় বিশ লক্ষ টাকা।
৫৬ তলা বিশিষ্ট এই বুর্জ আল আরবের তিনটি তলা রয়েছে পানির নিচে। এখানেই রয়েছে বিখ্যাত ‘আল মাহারা’ রেস্টুরেন্ট। রেস্টুরেন্টে খেতে বসলেই আপনার অনুভূতি এমন হবে যেন আপনি সাবমেরিনে করে চলেছেন। বিশাল একটি অ্যাকোরিয়ামের পাশে বসে খাবার খাওয়ার সময় দেখতে পাবেন, আপনার চারপাশে অসংখ্য মাছ পানিতে সাঁতার কাটছে। এই অ্যাকোরিয়ামে ৯, ৯০, ০০০ লিটার পানি রয়েছে। ৭.১ ইঞ্চি পুরু অ্যাক্রিলিক কাচ দিয়ে পানির চাপকে প্রতিহত করার ব্যবস্থাও করা আছে এখানে। প্রতি বছর এই হোটেলের রেস্টুরেন্টগুলোতে নানা খাবারে ১০ টন চকলেট ব্যবহার করা হয়। আল মাহারায় খাবারের দাম ১৯৫-৩৫০০ দিরহামের ভেতর। সামুদ্রিক নানা খাবারের স্বাদ মিলবে এখানে। ২০১৬ সাল থেকে আল মাহারার দায়িত্ব পালন করে আসছেন শেফ নাথান আউটল। সামুদ্রিক খাবারের মজাদার স্বাদের জন্য তিনি বেশ পরিচিত এক নাম।
খরচ করে খাবার খেতে যাবেন সেজন্য পোশাকের ব্যাপারে আপনার নিজস্ব পছন্দ থাকতেই পারে। কিন্তু বুর্জ আল আরবে খেতে গেলে পোশাকের ব্যাপারেও মানতে হয় কিছু বিধিনিষেধ। পুরুষদের জন্য রেস্টুরেন্টে যাওয়ার পোশাকের মধ্যে আছে, কলারযুক্ত শার্ট, ফুল প্যান্ট অথবা স্মার্ট জিন্স, এবং শু। নারীরা পরতে পারেন স্কার্ট, স্মার্ট জিন্স, ফুলপ্যান্টের সঙ্গে টপস। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় পোশাকের বেলায় কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। খেলাধুলা বা ব্যায়ামের কোনো পোশাক পরে এখানে খেতে আসার অনুমতি নেই।
সাবসিক্স রেস্টুরেন্ট, মালদ্বীপ
পানির মাঝে এমন এক জায়গায় আপনি বসে আছেন যার আশপাশে প্রচুর পরিমাণে প্রবাল আর সামুদ্রিক প্রাণীর আনাগোনা। মেঝে থেকে জানালা, সিলিং-যেদিকেই তাকানো যায় সবখানেই নানা রঙের ছড়াছড়ি। নীল, কমলা, সবুজ রঙের এমন বিচ্ছুরণ দেখলে কোনো পার্টিতে চলে এসেছেন কি না এমনও ভেবে বসতে পারেন এক মুহূর্তে। জীবন্ত প্রাণীদের নিয়ে এমনই মোহনীয় পানির নিচের এক রেস্টুরেন্টের নাম সাবসিক্স। মালদ্বীপের রাজধানী মালে থেকে ৪০ মিনিট বিমান দূরত্বে ঢালু অতলের নিয়ামা দ্বীপে এই রেস্টুরেন্টের অবস্থান। নিয়ামা দ্বীপের এই অংশটুকু ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত। দ্বীপে নেমে আবার ১৫ মিনিট স্পিডবোটে করে গেলে তবেই পৌঁছানো যায় সাবসিক্সে। রেস্টুরেন্টে প্রবেশের আগে একটি সিঁড়ি বেয়ে নিচের দিকে নামতে হয়।
২০১০ সালে রেস্টুরেন্টটি চালু হয়। রেস্টুরেন্টের সঙ্গে সঙ্গে একে বিশ্বের প্রথম পানির নিচের নাইটক্লাবও বলা হয়। অবশ্য সাবসিক্স এই জায়গাকে বলে ‘আন্ডারওয়াটার প্লে গ্রাউন্ড’। সাবসিক্সে সকাল, দুপুর, রাত এমনকি মধ্যরাতেও খাবারের আয়োজন করা হয়। বিয়ের আয়োজনে ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করতে অনেকেরই পছন্দ সাবসিক্স। স্বচ্ছ কাচের মতো নীল পানিতে রাখা হয়েছে প্রায় ৯০ ধরনের সামুদ্রিক প্রবাল। আর সাবসিক্সের এই পানিতে বাস করছে প্যারট ফিশ, মুরিশ আইডলস, মোরি ইলস, জায়ান্ট গ্রুপারস, বাটারফ্লাই ফিশ, ড্যামসেলফিশ, হকসবিল কচ্ছপসহ অনেক জলজ প্রাণী। সামুদ্রিক প্রবাল যেন হারিয়ে না যায় সেজন্য সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানীদের সাহায্যে রেস্টুরেন্টটি নির্মাণের সময় প্রবাল দিয়ে পুরো রেস্টুরেন্ট ঘিরে দেওয়ার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে এই প্রবালগুলো বড় হয়ে পুরো জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে আছে। দেখে মনে হয় যেন, রেস্টুরেন্টটি প্রবালের নিচে ঢাকা পড়ে গেছে।
পানি থেকে ছয় ফুট নিচে অবস্থিত সাবসিক্স নির্মাণে ‘ফাইন্ডিং নিমো’ অ্যানিমেশন সিনেমার কিছু দৃশ্যের সঙ্গে মিল রাখা হয়েছে। যেমন-প্রবাল আকৃতির ঝাড়বাতি, শামুক আকৃতির বার এবং জলজ প্রাণীদের শরীরের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে রঙিন আলো। ২০১৫ সালের দিকে সাবসিক্সে নতুন আরও কিছু পরিবর্তন আনা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাবসিক্সে সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য নতুন আরও অনেক বিষয় যুক্ত করা হবে বলে জানান রেস্টুরেন্টটি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান পার অ্যাকুয়ামের জেনারেল ম্যানেজার ডিয়েটমার কোগার্ল।