বেলকুচির ২ নম্বর পৌর ওয়ার্ডের দেলুয়া এলাকার বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক হাত হারানো তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র হোসাইন (১১) সুচিকিৎসার অভাবে ক্রমেই মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তার চিকিৎসার জন্য প্রায় ৩ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু তার হতদরিদ্র বাবা শরিফউদ্দিনের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে হাসপাতাল ছেড়ে নিজ বাড়ির বিছানায় শুয়ে সে মৃত্যুর প্রহর গুনছে।
হোসাইনের দিনমজুর বাবা শরিফউদ্দিন জানান, গত বছর ১৯ আগস্ট বেলকুচি পৌর এলাকার মুকুন্দগাতীর কড়িতলা মোড়ের রেইনবো রেস্টুরেন্টে তার ছেলে হোসাইনকে টাকার লোভ দেখিয়ে কাজে নিয়ে যায় জরিনা খাতুন, রফিক, শফিকুল, চায়না খাতুন। ওইদিনই ওই রেস্টুরেন্টের ছাদে পল্লীবিদ্যুতের তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় হোসাইন। এতে তার দুই হাত, মাথা, বুক ও পিঠের ৬০ ভাগ অংশ ঝলসে যায়। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তার বাম হাত ঝলসে পুরো মাংস উঠে যাওয়ায় চিকিৎসকরা অপারেশনের মাধ্যমে ওই হাতটি কেটে ফেলেন। এরপর সেখানে তার টানা ২ মাস ১৫ দিন চিকিৎসা চলে। এ সময় শরীরে একাধিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কিছুটা সুস্থ হলেও পুরোপুরি হয়নি। চিকিৎসকরা জানান, পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও পাঁচ-ছয় মাস সময় লাগবে। এরই মধ্যে চিকিৎসা বাবদ ৬ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। এতে তার ঘটিবাটি যা ছিল তা বিক্রি করে শেষ। ফলে টাকার অভাবে পুরো চিকিৎসা শেষ না করেই হোসাইনকে বাড়ি নিয়ে আসেন তিনি। সেই থেকে গত প্রায় তিন মাস হলো বাড়ির বিছানায় শুয়ে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে শিশু হোসাইন। এখনো তার শরীরের পোড়া ক্ষত পুরোপুরি শুকায়নি। অসহ্য যন্ত্রণায় নিদ্রাহীন দিনরাত কাটছে।
শরিফউদ্দিন বলেন, ‘আমার কোনো বাড়ি নেই। অন্যের জমিতে ঝুপড়িঘর তুলে স্ত্রী, অসুস্থ এই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে থাকি।’ তিনি ধনাঢ্য ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। শিশু হোসাইনের চিকিৎসায় সাহায্য পাঠানোর জন্য মোবাইল ফোন ও বিকাশ পার্সোনাল অ্যাকাউন্ট নম্বর ০১৭৫১২৫৩৩৩২।