প্রতিকৃতির মুখোশ পরে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে স্বাগত জানানোর ঘটনায় সমালোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই মুজিববর্ষের লোগোসংবলিত টিস্যু বক্স তৈরির অভিযোগ উঠেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) বিরুদ্ধে। বিষয়টি নজরে আসার পর গতকাল বৃহস্পতিবার ফেইসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল টিস্যু বক্সগুলো বাজেয়াপ্ত ও এর পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও উঠেছে সমালোচনার ঝড়। এ প্রেক্ষাপটে গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাউশির নির্দেশে নয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মুজিববর্ষের লোগোসহ টিস্যু ছাপিয়ে নমুনা হিসেবে মাউশিতে পাঠিয়েছে, যা পরে বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি স্বীকার করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি এসএমএস টেকনোলজিস নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মাউশি ১ হাজার টিস্যু বক্স, ৬০০ টয়লেট টিস্যু, ১ হাজার কলম (লাল/কালো), ৩০০ পেনসিল ব্যাটারি, ২০০ হ্যান্ডওয়াশসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র সরবরাহের কার্যাদেশ দেয়। এর মধ্যে টিস্যু বক্সে মুজিববর্ষের লোগো ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি টিস্যু বক্সের দাম ৫৬ টাকা বলে কার্যাদেশপত্র থেকে জানা গেছে।
এ বিষয়টি নজরে আসার পর ফেইসবুক স্ট্যাটাসে মুজিববর্ষের লোগো অনাকাক্সিক্ষতভাবে যত্রতত্রভাবে প্রিন্ট করার ঘটনায় মাউশিকে তিরস্কার করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল। একই সঙ্গে টিস্যু বক্সগুলো বাজেয়াপ্ত ও এর সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করারও ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি অতি উৎসাহীদের সাবধানও করেছেন তিনি।
এদিকে মাউশির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন, গত কয়েক দিন ধরেই এ টিস্যু বক্স মাউশির বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, উপপরিচালকসহ অনেক কর্মকর্তাই ব্যবহার করছেন। টিস্যু বক্সে বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহারের বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক সৈয়দ গোলাম ফারুক গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের ফাইন্যান্স এবং প্রকিউরমেন্ট উইং থেকে মাউশির ব্যবহার্য সব মালামাল ক্রয়ের দায়িত্বে রয়েছে। উইংটি মুজিববর্ষের লোগোসহ টিস্যু বক্স দিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলেনি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমাদের নিয়মানুযায়ী যে নমুনা দিয়েছে সেখানেও লোগোটি ছিল না। কিন্তু যখন তারা চূড়ান্তভাবে মালামালগুলো আমাদের দেওয়ার জন্য পাঠায় তখন সেগুলোতে মুজিববর্ষের লোগো পাওয়া যায়। কিন্তু মালামাল গ্রহণকারী কমিটি সেগুলো গ্রহণ করেনি। ফলে তাদের রেখে যাওয়া কিছু মালামাল মাউশিতে রয়ে গেছে। ফলে হয়তো টিস্যু শেষ হয়ে যাওয়ায় স্টোর রুম থেকে কেউ কেউ সেগুলো নিয়ে ব্যবহার করেছে। পরে জানতে পারলাম, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মুজিববর্ষের ওয়েবসাইটের একটি নির্দেশনা দেখে তারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে টিস্যু বক্সে মুজিববর্ষের লোগো ব্যবহার করেছে। তারপরও আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব, বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’
অন্যদিকে এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএমএস টেকনোলজির স্বত্বাধিকারী মাসুদ আহমেদ শিকদার গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাউশি আমাদের লোগো ব্যবহার করতে বলেনি। আমরা তাদের লোগোসংবলিত বক্স নমুনা হিসেবে দিয়েছি। তারা পছন্দ করে কি না, সেটাই জানতে চাওয়া হয়েছিল। আমরা তো এখনো মালামাল তাদের ডেলিভারি করিনি।’
এর আগে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি বগুড়া পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবনির্মিত বঙ্গবন্ধু অ্যাকাডেমিক ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির মুখোশ পরে শিক্ষামন্ত্রীকে স্বাগত জানায় শিক্ষার্থীরা। এই ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। ছবিটি ফেইসবুকেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে যায়। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকেই সেখানে মন্তব্য করেন। বিষয়টি মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় উঠলে প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনায় বিরক্তি প্রকাশ করেন। বৈঠক উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি হওয়া কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।’ এ সময় মুজিববর্ষে কর্মসূচির নামে বাড়াবাড়ি না করা ও অহেতুক অর্থ ব্যয় না করার বিষয়টি আলোচনায় আসে।