করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। আগামী সোমবারের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন আকারে জানাতে বলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে করোনার ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে মৌখিক নির্দেশনা দেয়। বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।
হাইকোর্ট যেসব বিষয় জানতে চেয়ে কিছু ক্ষেত্রে নির্দেশনা দিয়েছে সেগুলো হলো ১. দেশের স্থল, নৌ ও বিমানবন্দর, বিশেষ করে বিমানবন্দরে যখন বিদেশিরা বাংলাদেশে আসছেন, তখন অভ্যন্তরে প্রবেশের আগে তাদের কী ধরনের পরীক্ষা করা হচ্ছে, যারা পরীক্ষা করছেন তারা প্রশিক্ষিত কি না এবং যেসব যন্ত্রপাতি দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে, সেগুলোর সক্ষমতা রয়েছে কি না। ২. দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনাভাইরাসের জন্য পৃথক কেবিনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে তা না হওয়ায় সেগুলোতে করোনাভাইরাসের জন্য প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সব ধরনের ব্যবস্থা (পৃথক কেবিনসহ চিকিৎসা সরঞ্জাম) নিতে হবে। ৩. প্রতিটি হাসপাতাল বা বন্দরে যেখানে শনাক্তের জন্য করোনাভাইরাস পরীক্ষার প্রয়োজন হবে, সেখানে সরঞ্জাম পর্যাপ্ত রয়েছে কি না, যদি না থাকে জরুরি ভিত্তিতে তা আমদানি করতে হবে।
সম্প্রতি চীনের উহান প্রদেশ থেকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস অন্তত ৮৪টি অঞ্চল ও দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। চীনে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে এরই মধ্যে মারা গেছে তিন হাজারের বেশি মানুষ। চীনের যে শহর (উহান) থেকে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে সেখানে প্রাণ গেছে ২ হাজার ৩০৫ জন মানুষের। ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে ৯৫ হাজারের বেশি মানুষ। করোনায় চীনের বাইরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ইতালি ও ইরানে। ইতালিতে ১০৭ ও ইরানে মৃত্যু হয়েছে ৯২ জনের। তবে চীনে থাকা বাংলাদেশি বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এখন পর্যন্ত কারও মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের তথ্য পাওয়া না গেলেও সিঙ্গাপুরে পাঁচ প্রবাসী বাংলাদেশি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে একজন এবং ইতালিতে একজন বাংলাদেশি প্রবাসীর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ করোনার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে