সড়কে এক দিনে ২৩ জন নিঃশেষ

জীবনরক্ষায় এখনো বাগে আসেনি সড়ক। নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন ও আইন থামাতে পারেনি বেপরোয়া গাড়ির চাকা, চালকের স্বেচ্ছাচারিতা। থামছে না সড়কে মৃত্যুর গণনা। সড়ক এখন প্রতিদিনের প্রাণহানির ঘটনা। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৩ জন।

হবিগঞ্জের জেরিন তালুকদারের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয় নারায়ণগঞ্জের কাতারপ্রবাসী ইমন খানের। হবু স্ত্রী জেরিনকে আংটি পরানোর কথা ছিল। দুই পরিবার অপেক্ষায় ছিল শুভক্ষণের। বৃহস্পতিবার রাতে হবু বর ইমন খানসহ পরিবারের ১২ জন একটি মাইক্রোবাসে নারায়ণগঞ্জ থেকে হবিগঞ্জ রওনা দেয়। পথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের কান্দিগাঁও পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায় মাইক্রোবাসটি। এতে পরিবারের ১০ জন নিহত হন। গতকাল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর থেকে বৃহস্পতিবার রাতে একটি মাইক্রেবাসে সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন ১০ যুবক। পথে রাত আড়াইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর এলাকায় মাইক্রোবাসটির সঙ্গে সুনামগঞ্জ থেকে আসা ঢাকাগামী লিমন পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ছয়জন। গুরুতর আহত হন আরও চারজন।

এদিকে রাজশাহীতে বউভাতের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার সময় বর-কনেসহ দুটি নৌকা ডুবে এক শিশুর মৃত্যু ও কমপক্ষে ২০ জন নিখোঁজ রয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজশাহী নগরের শ্রীরামপুর এলাকায় পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। মৃত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া শিশুর নাম মরিয়ম খাতুন (৬)। সে রাজপাড়া থানার মথুরা এলাকার রতন আলীর মেয়ে।

নৌকাডুবির পর জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সাতজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রাত ১২টায় নদীতে উদ্ধারকাজ স্থগিত করা হয়। আজ শনিবার সকাল থেকে  তা আবার শুরু হবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। বিস্তারিত নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে : বিয়ের আংটি পরাতে গিয়ে পরিবারের ১০ জন লাশ : বিয়ে করার জন্য দিন কয়েক আগে দেশে এসেছিলেন ইমন খান। উদ্দেশ্য বিয়ে করা। বিয়ে ঠিক হয়েছিল হবিগঞ্জের জেরিন তালুকদারের সঙ্গে। হবু স্ত্রীকে আংটি পরানোর জন্য বর ইমন খানসহ পরিবারের ১২ জন একটি মাইক্রোবাসে নারায়ণগঞ্জ থেকে হবিগঞ্জ রওনা দেয়। পথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের কান্দিগাঁওয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায় মাইক্রোবাসটি। এতে পরিবারের ১০ জন নিহত হন। নিহতরা হলেন ফতুল্লার পাগলা মুসলিমপাড়া এলাকার ইমন খান (২৫), তার বাবা আব্বাসউদ্দিন (৫৫), ছোট ভাই রাব্বি (২০), স্বজন সুমনা আক্তার (৩৫), ইমরান হোসেন (১৬), রাজীব (২৫), আসমা আক্তার (২৫), খলিলুর রহমান (২৮), খাদিজা আক্তার (৪) ও হাজি মহসিন (৭০)।

আহতরা হলেন গাড়িচালক নাদিম (৩৬), আবুল হোসেন (৫৫) ও রফিক (৪৫)। তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল।

নিহত ইমন খানের ছোট ভাই আবদুল্লাহ গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী। দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে ফতুল্লার পাগলা মুসলিমপাড়ায় বসবাস করেন তারা। বড় ভাই ইমন কাতারপ্রবাসী ছিলেন। এক মাস আগে বিয়ে করার জন্য ছুটিতে দেশে আসেন। সিলেটের সুনামগঞ্জে কনে পছন্দ হওয়ায় আংটি পরানোর জন্য এক দিন আগেই রওনা হয়েছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে মাইক্রোবাসটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেলে ঘটনাস্থলেই ওই পরিবারের আটজনের মৃত্যু হয়। আহতদের চিৎকারে ছুটে আসে স্থানীয়রা। শেরপুর হাইওয়ের পুলিশ, নবীগঞ্জের ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করেন। এ সময় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মাইক্রোবাসচালকসহ আহত পাঁচজনকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর মধ্যে সকাল ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সুমনা (৩৪) ও তার মেয়ে খাদিজার (৪) মৃত্যু হয় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে। চিকিৎসাধীন রয়েছেন সুমনার ভাই আবুল, ভাতিজা রফিকুল ইসলাম ও মাইক্রোবাসচালক নাদিম।

ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, তার ভাই ইমনের বিয়ের পাত্রী দেখতে তারা আত্মীয়স্বজন মিলে ১২ জন বৃহস্পতিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে মাইক্রোবাসযোগে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। তিনি আর্তনাদ করতে করতে বলেন, ‘ফজরের নামাজের পর গাড়িতে থাকা অনেকেই কিছুটা ঘুমের মধ্যে ছিলেন। এ সময়ই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো পরিবার তছনছ হয়ে গেছে। দুর্ঘটনার পর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। আর জ্ঞান ফেরার পর দেখি হাসপাতালে।’

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় দেশ রূপান্তরকে জানান, আহতদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছে।

মাজার জিয়ারতের পথে প্রাণ গেল ৬ যুবকের : নারায়ণগঞ্জের বন্দর থেকে বৃহস্পতিবার রাতে মাইক্রোবাসে করে সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারতের জন্য রওনা দিয়েছিলেন ১০ যুবক। কিন্তু রাত আড়াইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর এলাকায় সুনামগঞ্জ থেকে আসা ঢাকাগামী লিমন পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মাইক্রোটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ছয়জন। গুরুতর আহত হন আরও চারজন।

নিহতরা হলেন মাইক্রোবাসের চালক সোহান (২০), হারুন মিয়া (৪০), শাহীন মিয়া (২৮), সাগর (২২), রিফাত (১৬) ও ইমন মিয়া (১৯)। আহতরা হলেন শাকিল (৩০), বিজয় (২২), আবির (৩৫) ও জিসান (২৫)। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হতাহতদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৫নং ওয়ার্ড বন্দরের দেউলি এলাকায়।

আহত জিসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, তিনি ও তার বন্ধু সাগর একসঙ্গে বসেছিলেন। বাসের সঙ্গে তাদের মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হওয়ার পর তিনি মাইক্রোবাস থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যান। সাগরসহ অন্য আরোহীরা মাইক্রোবাসের ভেতরই ছিলেন। সাগর অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান।

নিহত সোহানের মামা মাসুদ বলেন, ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, প্রিয় ভাগ্নের সেই মুখখানাই চিনতে হিমশিম খাচ্ছি। কী করব বুঝতে পারছি না। আমার থেকে অসহায় এখন আর কেউ নেই।’

বিশ^ রোডের খাটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় বাসটিও মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। তবে বাসের কোনো যাত্রী আহত হয়নি। খাটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) প্রেমধন মজুমদার জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কিছু সময়ের মধ্যেই আমরা ঘটনাস্থলে আসি। অনেককে সাহায্যের জন্য ডেকেছি। কিন্তু আগুনের তীব্রতার কারণে ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। যদি এগিয়ে আসত তাহলে হয়তো জীবিত উদ্ধার করা যেত। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নেভানোর পর মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে হতাহতদের বের করা হয়। ঘটনাস্থলেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে পাঁচজন নিহত হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরেকজন নিহত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, মাইক্রোবাসটিতে আগুন লেগে যাওয়ায় চারদিক আলোকিত হয়ে উঠেছিল। পরে আশপাশে লোকজন এসে প্রথমে চারজনকে বের করতে পারলেও আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় অন্যদের বের করতে পারেনি। দাউ দাউ করে আগুন জ¦লছিল তখন।

খাটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে অন্তত ২৯টি বাঁক রয়েছে। এ বাঁকের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি চালকের কোনো ত্রুটি ছিল কি না তারও তদন্ত চলছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল ফায়ার সার্ভিস অফিসের স্টেশন অফিসার এসএম শামীম জানান, মাইক্রোবাসটিতে দুর্ঘটনার পর গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণেই আগুন ধরে যায়।

বনানীতে বাসের ধাক্কায় ঢাবি শিক্ষার্থী নিহত : রাজধানীর বনানীর সেতু ভবনের সামনে যাত্রীবাহী একটি বাসের ধাক্কায় ফয়সাল শাকিল নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্ধ্যকালীন এমবিএর এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। তিনি মোটর সাইকেলযোগে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে মিরপুরের বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে বনানীর সেতু ভবনের সামনের রাস্তায় পেছন দিক থেকে এনা পরিবহনের একটি  দ্রুতগতির বাস তাকে ধাক্কা দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। বনানী থানার পরিদর্শক (অভিযান) ফাইহান ওয়ালিউল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় জড়িত এনা পরিবহনের বাসটি জব্দ করা হলেও বাসের চালক ও হেল্পাররা কৌশলে পালিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, একই জায়গা থেকে সপ্তাহখানেক আগে কর্মজীবী দুই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সড়ক দুর্ঘটনার কথা বললেও গতকাল পর্যন্ত দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনকে শনাক্ত করতে পারেনি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফাইহান ওয়ালিউল্লাহ বলেন, আমরা চেষ্টা করছি।

ফেনীতে ঘুরতে বেরিয়ে সড়কে প্রাণ গেল দুই বন্ধুর : কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন ছয় বন্ধু। রাত ১১টার দিকে সোনাগাজী সড়কের মতিগঞ্জ বাজার এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ব্রিজের নিচে পড়ে যায় একটি মোটরসাইকেল। এতে ঘটনাস্থলে আজিজুল হক সাহেদ (২৫) নামে একজন মারা যান। জিয়াউদ্দিন বাবলু (২২) নামে আরেকজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহত সাহেদ মিরসরাই উপজেলার ৪নং ধুম ইউনিয়নের নাহেরপুর গ্রামের তাজুল ইসলামে ছেলে ও বাবলু একই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ইমামপুর গ্রামেরে মৃত বশির আহম্মদের ছেলে। বাবলু মিরসরাই মাদ্রাসা থেকে এবার কামিল পরীক্ষার্থী ছিলেন।

নিহত বাবলুর বড় ভাই সোহেল খান জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তারা কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে বন্ধুরা সোনাগাজীতে ঘুরতে গিয়েছিল। মতিগঞ্জ বাজারের পাশে রাস্তায় একটি ব্রিজের কাজ চলছিল। দেখতে না পেরে মোটরসাইকেলসহ তারা নিচে পড়ে যায়।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মাঈনউদ্দিন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে সাহেদ নিহত হলেও পরে বাবুল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। ভালুকায় ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ২ : ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাছভর্তি ট্রাকের সঙ্গে অন্য একটি মাছবাহী পিকআপের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ট্রাকের হেলপার ও হাসপাতালে নেওয়ার পর পিকআপের এক যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে মহাসড়কের ভালুকার মেহরাবাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় সিলেট জেলার মধ্যনগর থেকে মাছবোঝাই একটি ট্রাক ঢাকায় যাচ্ছিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই ট্রাকে চাকা নষ্ট হয়ে যায়। তেলাপিয়া মাছবাহী একটি পিকআপ এসে বিকল ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিলে পিকআপটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ট্রাকটি রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ট্রাকের হেলপার ঘটনাস্থলেই আজিল (২২) নিহত হন। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার তালাককোর্ট গ্রামের আবদুছ ছালামের ছেলে। হাসপাতালে নেওয়ার পর পিকআপযাত্রী নেত্রকোনা জেলার টাগরাকোটা গ্রামের মানিকের ছেলে রাজন (২৮) মারা যান।

সাভারে ট্রাকচাপায় শিল্পপুলিশ সদস্য নিহত : কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়ে ট্রাকের চাপায় আকাশ আহম্মেদ (২২) নামে শিল্পপুলিশের এক সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের উল্লাইল বাসস্ট্যান্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আকাশ ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার আবদুল মজিদের ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জ শিল্পপুলিশ কার্যালয়ে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং বর্তমানে পরিবার নিয়ে আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় থাকতেন।

সাভার হাইওয়ে পুলিশ জানায়, মোটরসাইকেল আরোহী আকাশ সকালে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। পথে সাভারের উল্লাইল এলাকায় পৌঁছলে পণ্যবাহী একটি ট্রাক মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই পুলিশ সদস্যের। খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের লাশ, দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল ও ঘাতক ট্রাকটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় বাসচাপায় পিন্টু (৪০) নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাস ও চালককে আটক করেছে থানা পুলিশ। পিন্টু টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার কাজীর পাচুরিয়া গ্রামের মৃত কাজী সাজেদ আলী ছেলে। তিনি মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকায় একটি ডিশ অফিসে কাজ করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নওগাঁয় সাবেক ইউপি সদস্য নিহত : নওগাঁ আত্রাইয়ে অটো চার্জার ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে মোতালেব হোসেন (৬০) নামে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার সিংড়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি পাঁচুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য। নিহত মোতালেব উপজেলার গুড়নইর গ্রামের মৃত লায়েবুল্লার ছেলে।

আত্রাই থানার ওসি মোসলেম উদ্দিন বলেন, শুক্রবার বিকেলে মোতালেব হোসেন তার বাড়ি থেকে আত্রাইয়ের সাহেবগঞ্জ বাজারের উদ্দেশে একটি আটো চার্জার ভ্যানে করে যাচ্ছিলেন। এ সময় সিংড়ায় পৌঁছলে একটি বাইসাইকেলকে সাইড দিতে গিয়ে অটো চার্জার ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়।

রাজশাহীতে বর-কনেসহ দুটি নৌকা ডুবে নিখোঁজ ২০ : রাজশাহীতে বউভাতের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার সময় বর-কনেসহ দুটি নৌকা ডুবে এক শিশুর মৃত্যু ও কমপক্ষে ২০ জন নিখোঁজ রয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজশাহী নগরের শ্রীরামপুর এলাকায় পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। মৃত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া শিশুর নাম মরিয়ম খাতুন (৬)। সে রাজপাড়া থানার মথুরা এলাকার রতন আলীর মেয়ে।

নৌকাডুবির পর জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সাতজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া নৌকার যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুটি নৌকার অন্তত ২০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাত-আটজন শিশুও আছে।

জানা যায়, বউভাতের অনুষ্ঠান শেষে বরের বাড়ি থেকে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জীবিত উদ্ধার হওয়া বরের নাম রুমন আলী (২৬)। কনে এখনো নিখোঁজ। রুমনের বাড়ি পদ্মার ওপারে পবা উপজেলার চরখিদিরপুর গ্রামে। বাবার নাম ইনসার আলী। আর কনের নাম সুইটি খাতুন (২০)। তার বাড়ি রাজশাহী শহরসংলগ্ন পবা উপজেলার ডাঙেরহাট গ্রামে। বাবার নাম শাহীন আলী। গত বৃহস্পতিবার রুমন-সুইটির বিয়ে হয়। শুক্রবার দুপুরের দিকে সুইটির আত্মীয়-স্বজনরা বর-কনেকে আনতে যান। ফেরার পথে মাঝপদ্মায় নৌকা ডুবে যায়।

যারা উদ্ধার হয়েছেন তারা হলেন খাদিমুল ইসলাম (২৩), রতন আলীর স্ত্রী বৃষ্টি খাতুন (২২), সুমন আলী (২৮) ও তার স্ত্রী নাসরিন বেগম (২২) এবং মেয়ে সুমনা আক্তার (৬), মতিউর রহমানের স্ত্রী বুলু খাতুন (৩৫), মেরাজুল ইসলামের ছেলে রাতুল, মর্তুজার মেয়ে রুনা (১৬)।

খাদিমুল নৌকার মাঝি ছিলেন। বৃষ্টি খাতুন জীবিত উদ্ধার হলেও তার মেয়ে মরিয়ম খাতুন (৬) মারা গেছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মায়ের সঙ্গে তাকে উদ্ধার করা হয়। আর মেয়েকে নিয়ে সাঁতরে উঠেছিলেন সুমন-নাসরিন দম্পতি। বৃষ্টি খাতুন জানিয়েছেন, তার স্বামী রতন সাঁতার জানেন না। তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

নৌকাডুবির পর আশপাশের অসংখ্য মানুষ এবং স্বজনরা শ্রীরামপুর এলাকায় নদীপাড়ে ভিড় করেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুর রউফ জানিয়েছেন, দুটি নৌকায় ৩৫ জনের মতো যাত্রী ছিল। এর মধ্যে ১৭ জন নারী ও ৬ জন শিশু। সন্ধ্যায় দুই নৌকা ধাক্কা খেয়ে ডুবে যায়। কতজন নিখোঁজ রয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।