দুই কারণে বাংলাদেশিদের করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম বলে জানিয়েছেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. বিজন কুমার শীল।
শনিবার সাভারে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের উদ্যোগে করোনাভাইরাস নিয়ে ‘স্যুপ টু সিক বেড’ (Soup to sick bed) শীর্ষক সেমিনার তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক বিজন বলেন, ‘শরীরে এনজাইম এসিই২ নামক পদার্থের অনুপাত যাদের বেশি তাদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। সে তুলনায় বাংলাদেশিদের খাদ্যাভ্যাস এবং এনজাইম এসিই২ এর অনুপাত শরীরে কম থাকায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।’
‘তবে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করায় এবং কার্যকর কোনো চিকিৎসা না থাকায় এ রোগের লক্ষণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ সম্পর্কে আমাদের সচেষ্ট থাকতে হবে’ যোগ করেন তিনি।
অধ্যাপক বিজন আরও বলেন, ‘২০০৩ সালে সার্স করোনা নামের যে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হয়েছিল, ২০১৯ সালে আক্রমণকারী করোনাভাইরাসের সঙ্গে তার ৮০ ভাগ মিল রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘শুকনো কাশি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া হলো করোনাভাইরাসের প্রাথমিক লক্ষণ যা আমাদের ফুসফুস, পাকস্থলী, লিভার ও কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল এবং যারা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য রোগে ভুগছেন এ রকম বয়স্ক ব্যক্তিদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।’
অধ্যাপক বিজন বলেন, ‘বিশেষ মাস্ক, সঠিকভাবে হাত ধোয়া, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে না আসা সর্বোপরি বিদেশ ভ্রমণ থেকে বিরত থেকে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া অনেকাংশে কমানো যেতে পারে।’
এছাড়া প্রতিদিন সঠিক পরিমাণে ভিটামিন সি গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি। এ ভাইরাস আক্রমণ থেকে রক্ষায় জনসচেতনতা বিশেষ করে ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন অধ্যাপক বিজন।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।