অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে শাবনূরকে ক্ষমা চাইতে হবে

কয়েক দিন ধরে মিডিয়ায় তোলপাড় চলছে ঢাকার সিনেমার নন্দিত অভিনেত্রী শাবনূরের সংসার ভাঙা নিয়ে। বনিবনা না হওয়ায় স্বামী অভিনেতা অনিক মাহমুদকে ডিভোর্স দিয়েছেন তিনি। শাবনূর অভিযোগ আনেন- স্বামীর অন্য মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক আছে এবং তিনি মাদকাসক্ত হয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। এ নিয়ে এতদিন চুপ থাকলেও এবার মুখ খুলেছেন অনিক মাহমুদ। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ

আপনার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। কিন্তু আপনি কোনো কথাই বলছেন না। তাহলে ধরে নেব, সব অভিযোগ সত্যি?

আমি এতদিন চুপ ছিলাম আমার সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে আর শাবনূরের ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করে। কিন্তু এখন আর চুপ থাকতে পারলাম না। পুরো অবস্থা আমাকে মুখ খুলতে এক প্রকার বাধ্যই করল। শাবনূর অনেক জনপ্রিয় একজন অভিনেত্রী, সে আমার একমাত্র সন্তানের মা। এজন্য আমি তাকে অবশ্যই সম্মান করি। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে শাবনূর যেসব অভিযোগ এনেছে তার একটিও সত্য নয়। যদি সে অভিযোগগুলো প্রমাণ করতে পারে, তাহলে আমাকে যে শাস্তি দেওয়া হবে আমি তা মাথা পেতে নিতে রাজি আছি। আর প্রমাণ দিতে না পারলে তাকে সব অভিযোগ প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না হলে আমিই তার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করব।

আপনার বিরুদ্ধে মাদকাসক্তির অভিযোগ তাহলে মিথ্যা?

আমি প্রয়োজনে ডোপ টেস্ট করাতে রাজি আছি।

কোনো সমস্যাই যেহেতু নেই, তাহলে আপনারা দূরে সরে ছিলেন কেন?

কেন আমি শাবনূরের কাছ থেকে দূরে সরে আছি, এটা নিয়েও অনেক আজগুবি কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আসল কারণটা বললে শাবনূরের জন্যই হিতে বিপরীত হবে। আমি এতদিন যা বলিনি আজ বলব। আমি জানতে পারি আমার আগে তার সঙ্গে চীনের এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। শুধু তাই নয়, ২০১৭ সালে এক ব্যক্তির সঙ্গে সে মালয়েশিয়া গিয়েছিল। তার ইস্কাটনের বাসায় তাকে মদ্যপ অবস্থায় অন্য পুরুষের সঙ্গে বেশ কয়েকবার আমি পেয়েছি। এত কিছুর পর শাবনূরের কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়াটাই কি স্বাভাবিক নয়?

আপনি নাকি ছেলের ভরণপোষণও দেন না?

একটা কথা বলুন, কোনো বাবা তার সন্তানের জন্য কিছু দিলে তার কি প্রমাণ রাখে! আমি যেমন আগেও আমার সন্তানের ভরণপোষণ দিয়ে আসছি, এখনো দেব। আমার সন্তানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিতে হবে। এটা একজন বাবার দাবি।

আপনি নাকি ডিভোর্স পেপারই এখনো হাতে পাননি?

আমি এখনো কোনো প্রকার নোটিস পাইনি। তাই আমি ঠিক বুঝতে পারছি না এটা কার ষড়যন্ত্রে হচ্ছে। প্রত্যেক স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই ঝগড়া হয়, ভুল বোঝাবুঝি হয়। কিন্তু সে তালাক দেওয়ার কথা কখনোই আমার সঙ্গে আলোচনা করেনি। এখন সে আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ এনে আমাকে পরিবার ও সমাজের কাছে ছোট করে দিচ্ছে। আমার পরিবারেরও মর্যাদা ক্ষুণœ হচ্ছে। আমার বাবা এখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। আমার বাবার কিছু হয়ে গেলে তার জন্য দায়ী থাকবে শাবনূর।