রাজশাহীর পদ্মায় নৌকাডুবি

আরও দুই লাশ উদ্ধার এখনো নিখোঁজ নববধূ

বউভাতের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে রাজশাহীর পদ¥ানদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় গতকাল রবিবার আরও দুই লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে নৌকাডুবির ঘটনায় মোট আটটি লাশ উদ্ধার হলো। তবে নববধূ সুইটি খাতুন পূর্ণির খোঁজ মেলেনি। গতকাল বিকেল পর্যন্ত সুইটির সন্ধানে অপেক্ষায় স্বজনরা।

গত শনিবার রাতে উদ্ধার অভিযানে বিরতি দেওয়া হয়। এরপর গতকাল সকাল থেকে আবারও শুরু হয় উদ্ধারকাজ। মূলত নববধূ সুইটিসহ নিখোঁজ তিনজনের খোঁজেই শুরু হয় অভিযান। ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দলের সঙ্গে স্থানীয় মাঝিদের চেষ্টায় সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দুজনের লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। দুপুরে নগরীর আলীগঞ্জ মোল্লাপাড়া এলাকার রবিউল ইসলাম রবির মেয়ে রুবাইয়া আক্তার স্বর্ণার (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয় ঘটনাস্থলের পাশ থেকেই। বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েক কিলোমিটার দূরে চারঘাটের টাঙ্গন এলাকায় উদ্ধার হয় ডাইঙ্গেরহাট এলাকার আবু হোসেনের মেয়ে আঁখি খাতুনের (২৫) লাশ। নিহত স্বর্ণা কনে সুইটির ফুপাতো বোন। আঁখি খাতুন ডাইঙ্গেরহাট গ্রামের আবু হোসেনের মেয়ে ও সুইটির খালা। আঁখির স্বামীর নাম আসাদুজ্জামান জনি। তার বাড়ি নগরের কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম পূর্বপাড়ায়।

আঁখির ভাই কিরণও ছিলেন ডুবে যাওয়া নৌকায়। তিনি গতকাল বলেন, ‘নৌকা ডুবে গেলে ১০-১২ হাত দূর থেকে আমার বোন আঁখি ডাক দিয়ে বলে ভাই সনিয়াকে (আঁখির মেয়ে) বাঁচা। এরপর আমি তার দিকে এগিয়ে গেলে সনিয়াকে আমার হাতে ধরিয়ে দেয়। আমি সনিয়াকে নিয়ে উদ্ধারকারী বালুবাহী নৌকাতে উঠে যাই। এরপর তাকিয়ে দেখি আঁখি আর নেই। সনিয়াকে নৌকায় রেখে আবার পানিতে নেমে খোঁজাখুঁজি করেছি। কিন্তু পাইনি। মেয়েকে বাঁচিয়ে নিজেই তলিয়ে গেল বোনটা আমার।’

এদিকে নববধূর সুইটির সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে ডুবুরি ও স্থানীয় জেলেরা। স্বজন ও স্থানীয় লোকজন গতকালও পদ্মা নদীর পাড়ে অপেক্ষা করছেন। স্বজনের কান্না যেন থামছেই না। ডুবে যাওয়ার দুদিন পরও কাউকে জীবিত উদ্ধারের আশা ছেড়েই দেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সুইটির বাবা শাহীন আলী এখনো অপেক্ষার প্রহর গুনছেন জীবিত মেয়েকে ফিরে পেতে।

গতকাল দুপুরে তিনি পদ্মার পাড়ে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘মা তুই যেন মৃত না হোস (তোর যেন মৃত্যু না হয়)। হয়তো জীবিত অবস্থায় কারো বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিস এমনটি যেন হয়।’

গত শুক্রবার বৌভাতের অনুষ্ঠান শেষে কনে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে নগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় দুটি নৌকা ডুবে যায়। এ ঘটনায় শুক্রবার এক ও শনিবার পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা হলেনড় বোন শাহীনুর বেগমের স্বামী রতন আলী (৩০), তাদের মেয়ে মরিয়ম খাতুন (৮), চাচা শামীম (৩৫), চাচি মিনারা বেগম (২৮), চাচাতো বোন রোশনি (৭) ও খালাতো ভাই এখলাস হোসেন (২২)।