প্রায় ৪ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল না দেয়ায় ২ ভাইসহ আ. লীগ নেতার জেল

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিদ্যুৎ বিলের টাকা পরিশোধ না করায় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাজী বেনজীর ও তার ২ ভাইকে তিন বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একটি স্পিনিং মিলে পল্লী বিদ্যুতের ৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বকেয়া বিল পরিশোধে ব্যর্থ হওয়া সংক্রান্ত মামলায় ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক তিন সহোদরকে এই সাজা দেয়া হয়। একই সঙ্গে আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

শনিবার আদালতের রায় ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংক্রান্ত আদেশ আড়াইহাজার থানায় পৌঁছায়। আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও গোপালদী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীবরদী গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি, সদাসদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী বেনজীর আহম্মেদ বেনু, তার বড় ভাই কাজী শফিকুল ইসলাম ও ছোট ভাই কাজী জহিরুল ইসলামের মালিকানাধীন মরিয়ম স্পিনিং মিলের ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৯ টাকা পল্লী বিদ্যুতের বিল বকেয়া ছিল। একাধিকবার সময় নিলেও বকেয়া বিল পরিশোধে তারা ব্যর্থ হয়। পরে ২০১৬ সালে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকার পল্লী বিদ্যুৎ আদালত-১ এ নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর পক্ষে এজিএম আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন।

আদালত থেকে বিল পরিশোধে কয়েক দফা সময় নিলেও প্রতিষ্ঠানের মালিকরা টাকা পরিশোধ করেননি। এমনকি আদালত এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলেও তারা জবাব দেননি। দীর্ঘ শুনানির পর স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুন লিলিফা আক্তার ওই স্পিনিং মিলের স্বত্বাধিকারী ৩ ভাইকে তিন বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই দিন ওই তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা কাজী বেনজির আহম্মেদ দেশ রূপান্তরকে জানান, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পাশাপাশি পল্লী বিদ্যুতের সঙ্গে মীমাংসার চেষ্টা চলছে।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, ওয়ারেন্ট হওয়ার পরও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে সাজাপ্রাপ্তরা।

আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, রায়ের কপি ও ওয়ারেন্টের কাগজপত্র থানায় পৌঁছেছে। আদালতের রায় অনুযায়ী এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।