মন্ত্রিসভা বৈঠক

রূপপুরের বর্জ্য ফেরত নেবে রাশিয়া

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বর্জ্য রাশিয়া ফেরত নেবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে সংশোধিত প্রটোকল অনুমোদনের বিষয়ে ব্রিফিংয়ের সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ তথ্য জানান। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে সংশোধিত প্রটোকল অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ শেষ হওয়ার পরপরই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি একটি নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানি পরিচালনা করবে। ওই কোম্পানির মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জনবল নিয়োগ করা হচ্ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কোনো অভিজ্ঞতা না থাকায় এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে অপারেশন শুরুর পর থেকে সুষ্ঠুভাবে যাতে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা যায় সে জন্য রাশান ফেডারেশনের সহযোগিতা প্রয়োজন। সে জন্য কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধন হলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রাশান ফেডারেশনের সহযোগিতা নেওয়া সম্ভব হবে; যা এই বিদ্যুৎকেন্দ্র সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও জানান, মন্ত্রিসভা বৈঠকে একটা বিষয় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, আমরা বিষয়টি ক্লিয়ার করে দিতে চাই। যেহেতু আমাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই এবং আমাদের জায়গা ছোট, সুতরাং প্ল্যান্ট চালানোর ফলে যত বর্জ্য আসবে সব রাশান কর্তৃপক্ষ এ দেশের বাইরে নিয়ে গিয়ে তা ডিসপোজ করবে। আমাদের টেরিটরিতে কোনো কিছু ডিসপোজাল হবে না। আজ এই জিনিসটা ক্যাবিনেট মিটিংয়ে করে দেওয়া হয়েছে। যত গার্বেজ আসবে রাশান কর্তৃপক্ষ এ দেশের টেরিটরির বাইরে নিয়ে ডিসপোজ করবে।

এ ছাড়া কিউরেটর নিয়োগ দেওয়ার বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর আইন-২০২০’-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একজন কিউরেটর ও আরেকজন সহকারী কিউরেটর থাকবেন। কিউরেটরের পদ খসড়ায় ছিল না। বৈঠকে আলাপ-আলোচনা করে এ দুটি পদ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভার্চুয়াল জাদুঘরের বিষয়টি মন্ত্রিসভা আইনে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। শুধু ফিজিক্যালি না বাইরে থেকে কেউ যদি ভার্চুয়ালি জাদুঘর দেখতে চায় সেটারও একটা সিস্টেম থাকবে। ডিজিটাল জাদুঘর সিস্টেমও আইনে রয়েছে।

গতকাল এ ছাড়া বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরের জন্য ‘সেকেন্ড অ্যাডেনডাম টু বি প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড বিটুইন দ্য গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ অ্যান্ড দ্য গভর্নমেন্ট রিপাবলিক অব ইন্ডিয়া’র খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে মন্ত্রিসভায়।