জি কে শামীমের প্রকল্পগুলোর তথ্য চেয়েছে পিএমও

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে দুর্নীতিসহ নানা অপরাধে গ্রেপ্তার হওয়া কথিত যুবলীগ নেতা ঠিকাদার জি কে শামীমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান জি কে বিল্ডার্স সরকারের যেসব প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত সেগুলোর বিষয়ে জরুরিভাবে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও)।

গত রবিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক শামীম আহমেদ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ১০ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবের কাছে পাঠিয়ে আজ বুধবারের মধ্যে আবশ্যিকভাবে তথ্য পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, জি কে (বিল্ডার্স) নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্র্তৃক চলমান প্রকল্পগুলোর তালিকা আবশ্যিকভাবে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো। তথ্য দেওয়ার জন্য যে ছক দেওয়া হয়েছে, সেখানে প্রকল্পের নাম, প্রকল্পের মেয়াদ, ক্রমপুঞ্জীভূত অগ্রগতি, চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের তথ্য চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের কাজ চলমান আছে কি না জানাতে বলা হয়েছে। কাজ চলমান রাখার স্বার্থে ভিন্ন কোনো উদ্যোগ থাকলে তাও জানাতে বলা হয়েছে চিঠিতে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ স্থানীয় সরকার বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে।

জানতে চাইলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জি কে বিল্ডার্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল প্রকল্পের তথ্য চেয়ে পাঠানো চিঠি পেয়েছি। ইতিমধ্যে প্রকল্পগুলোর সার্বিক তথ্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছি।

গত বছর আলোচিত ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় ২০ সেপ্টেম্বর যুবলীগের স্বঘোষিত এই নেতাকে সাতজন দেহরক্ষী, বহু টাকা, অস্ত্র ও মাদকসহ আটক করে র‌্যাব। র‌্যাব বলেছিলে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিদেশে টাকা পাচারেরও অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে অস্ত্র ও মাদক মামলায় তিনি কারাগারে। তার ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। গত বছরের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঠিকাদারি চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেন। এরপর গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বেশ কয়েকটি প্রকল্পের চুক্তি বাতিল করে। উচ্চ আদালত জি কে শামীমকে দুটি মামলায় জামিন দিয়েছিল। যা সম্প্রতি প্রকাশ হওয়ার পর ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টে জামিন বাতিলের আবেদন করলে হাইকোর্ট তা মঞ্জুর করে।

জি কে শামীম গ্রেপ্তারের পর তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জি কে বিল্ডার্স সরকারের কী কী কাজ করছে সেগুলো আলোচনায় আসে। ওই সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, জি কে বিল্ডার্স সচিবালয়ের নতুন ভবন, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, গাজীপুরে র‌্যাবের কমপ্লেক্স, আজিমপুরে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণসহ এককভাবে সরকারের ১৩টি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। আবার একই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে আরও ৪২টি প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত। সব কটি প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ৪ হাজার ৬৪২ কোটি ২০ লাখ টাকা। যার মধ্যে ১ হাজার ৩০১ কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। আর সব মিলিয়ে জিকেবির এককভাবে করা প্রকল্পগুলোর গড় ভৌত অগ্রগতি ৬৮ শতাংশ। আর যৌথভাবে করা প্রকল্পগুলোর ভৌত অগ্রগতি ৪২ শতাংশ। আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভবন এবং ন্যাশনাল নিউরো সায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের একটি ভবন যৌথভাবে নির্মাণ করছে জি কে বিল্ডার্স। জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান এবং সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে দুটি আলাদা প্রকল্পও করছে এই প্রতিষ্ঠান। বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের চারটি অংশের কাজ করছে জিকেবি। জি কে বিল্ডার্সের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। পাঁচ বছর আগে শেষ হওয়ার কথা এমন প্রকল্পও সে গ্রেপ্তারের সময় চলমান ছিল। আবার গত বছরে শেষ করতে হবে এমন প্রকল্পের কাজ সে শুরুই করেনি।

জি কে শামীম গ্রেপ্তারের পর তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ওই সময় তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম প্রকল্পগুলোর কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য শামীমের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের কথা বলেন। ইতিমধ্যে কয়েকটি প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে। আরও কয়েকটি বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে।