পাপিয়ার মামলার তদন্তভার র‌্যাবে

যুব মহিলা লীগ থেকে বহিষ্কৃত শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তদন্তের জন্য র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতির পর মামলাটি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে র‌্যাব-১-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার-বিন-কাশেম বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মামলাটি তদন্তের জন্য অনুমতি দিয়েছে। এরপর মঙ্গলবার মামলার সব ধরনের নথিপত্র র‌্যাবকে বুঝিয়ে দিয়েছে পুলিশ। মামলা পর্যালোচনা করে আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করবে র‌্যাব।

গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর গুলশানে একটি  অভিজাত হোটেলের প্রেসিডেন্ট স্যুট নিজের নামে সবসময় বুকড করে নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছিলেন পাপিয়া। এমনকি তিনি হোটেলটির বারে বিল বাবদ প্রতিদিন পরিশোধ করতেন প্রায় আড়াই লাখ টাকা। পাপিয়ার বার্ষিক আয় ১৯ লাখ টাকা। অথচ গত তিন মাসেই বিল পরিশোধ করেছেন প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ টাকা। তিনি নারীসংক্রান্ত অপকর্ম ছাড়াও অস্ত্র, মাদক বিক্রি, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন তদবির বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। এরপর পাপিয়াসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিমানবন্দর ও শেরেবাংলা নগর থানায় অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং আইনে পৃথকভাবে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় ১৫ দিনের রিমান্ডে পাপিয়া ও তার স্বামী সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

র‌্যাব সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছে দুই লাখ টাকা, ইয়াবা, মদ ও জাল মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের নিয়ে পাপিয়ার নরসিংদী ও ফার্মগেটের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে ফার্মগেটের বাসা থেকে নগদ ৫৮ লাখ টাকা, অবৈধ পিস্তল ও গুলি, বিদেশি মুদ্রা ও মদ উদ্ধার করা হয়।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দেশত্যাগের সময় পাপিয়া ওরফে পিউসহ (২৮) চারজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১।