পাংথুমাইয়ের জলপ্রপাত

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা  গ্রাম পাংথুমাই। যেখানে রয়েছে অপূর্ব ঝরনা। ভারতীয় সীমান্তে অবস্থিত প্রায় হাজার ফুট উঁচু পাহাড় বেয়ে নেমে আসা ঝরনাটি কয়েক বছর আগেও পরিচিত ছিল না। গিয়েছিলাম সেই ঝরনা দেখতে। সকাল সাড়ে ৭টায় শ্রীমঙ্গল শহর থেকে সিলেটগামী বাসে করে যাত্রা শুরু। সকাল ১০টায় কদমতলী বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে যাই। সেখান থেকে অটোরিকশায় যাই আম্বরখানা পয়েন্ট। সেখানকার এক রেস্টুরেন্টে সকালের নাশতা করে নিই। এরপর গোয়াইনঘাট উপজেলার বাইপাস সড়কের উদ্দেশে আরেকটি সিএনজিতে যাত্রা শুরু করি। প্রায় দুই ঘণ্টা যাওয়ার পর সাড়ে ১২টার দিকে পৌঁছে যাই গোয়াইনঘাট উপজেলায়। আবার আরেকটি অটোরিকশা করে ‘পাংথুমাই’ গ্রামের উদ্দেশে যাত্রা। গোয়াইনঘাট-পাংথুমাই সড়কের পাশে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের হাজার ফুট উঁচু ও খাঁড়া পাহাড়ের পাশ দিয়ে আমাদের অটোরিকশা এগোতে থাকে। যতই পাংথুমাই গ্রামের দিকে যাচ্ছি, ততই মুগ্ধতায় ডুবে গ্রাস করছে।

পিয়াইন নদীর তীরঘেঁষা পাংথুমাই গ্রামের পাশে ভারতের মেঘালয় পাহাড় যেন আকাশ ছুঁয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে ‘পরগনা’ ও ‘হারকান্দি’ নামে দুটি ছোট নদী রয়েছে। নদী পেরিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা সিএনজি অটোরিকশা চলার পর আমরা পৌঁছে যাই ২ নম্বর পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের মাতুরতল বাজারে। এখানকার আদিবাসীদের পানবাগানের ভেতর দিয়ে সরু পথ পেরিয়ে সামান্য হাঁটতেই পৌঁছে যাই পাংথুমাই গ্রাম।

গ্রামের রাস্তার পাশেই বাংলাদেশের সীমানায় স্কুলের বিশাল খেলার মাঠ। মাঠটির পাশেই ছোট ছড়া। এই ছড়ার নাম ‘মায়ামতি’, অনেকের কাছে ‘ফাটাছড়া’ নামেও পরিচিত। এর পশ্চিমপাড় বাংলাদেশের সীমানায় হলেও পূর্বপাড় ভারতীয় ভূখণ্ডে। ‘মায়ামতি ছড়া’র পাড়েই হাজার ফুট উচ্চতার খাঁড়া পাহাড়। আর এ পাহাড় বেয়েই তীব্র বেগে নেমে এসেছে বড়হীল জলপ্রপাত। মোট তিনটি ধাপে এ জলপ্রপাতের পানি অঝোর ধারায় গড়িয়ে পড়ছে। বর্ষার সময় এর তীব্রতা আরও বাড়ে। জলপ্রপাতটির মাঝামাঝিতে ভারতীয় ভূখণ্ডে একটি ছোট রাস্তা রয়েছে। আর জলপ্রপাতের ওপরই ঝুলন্ত সেতু।

জানা যায়, মেঘালয় রাজ্যের ইস্ট খাসিয়া হিল জেলার পাইনশোলা থানার এই পাহাড়ি জলপ্রপাত বাংলাদেশ-ভারতের ১২৬৯ নম্বর পিলারের পূর্বদিকে অবস্থিত। এ জলপ্রপাতটি ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থিত হলেও এর সম্মুখভাগ পড়েছে বাংলাদেশের দিকে। নয়নজুড়ানো এই জলপ্রপাতটির পাশে ভারতীয় অংশে রয়েছে আদিবাসী খাসিয়া পানপুঞ্জি।
যেভাবে যাবেন

দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাস, ট্রেন ও বিমানে করে পৌঁছাতে পারবেন সিলেটে। সিলেটের আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরে যাওয়ার সিএনজি অটোরিকশা পাওয়া যায়। দূরত্ব ৪৬ কিলোমিটার। সময় লাগবে দুই ঘণ্টা। সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া জনপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা। সিএনজি রিজার্ভ নিলে ভাড়া পড়বে ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে। গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরের বাইপাস সড়ক থেকে পাংথুমাই গ্রামের দূরত্ব প্রায় ১১ কিলোমিটার। রিজার্ভ নিলে সিএনজি ভাড়া নেবে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে। সেখানে যেতে সময় লাগবে আনুমানিক এক ঘণ্টা। সিলেট থেকে রিজার্ভ সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে সরাসরি পাংথুমাই জলপ্রপাতে যাওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে ভাড়া নেবে আসা-যাওয়া মিলিয়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা মধ্যে।

কোথায় থাকবেন

পাংথুমাই গ্রামে থাকার ব্যবস্থা নেই। এখানে যেতে-আসতে সিলেট থেকে ৩ঘন্টার মতো সময় লাগে। তাই ফিরে সিলেট শহরেই থাকতে পারেন। সিলেটে নানা বাজেটের হোটেল পাবেন। উল্লেখযোগ্য হলো_ হোটেল রোজ ভিউ, ফোন : ০৮২১৭২১৪৩৯; দরগা গেটে হোটেল স্টার প্যাসিফিক, ফোন : ০৮২১৭২৭৯৪৫; ভিআইপি রোডে হোটেল হিলটাউন, ফোন : ০৮২১৭১৬০৭৭; বন্দরবাজারে হোটেল মেট্রো ইন্টারন্যাশনাল, ফোন : ০৮২১৭২১১৪৩;  নাইওরপুলে হোটেল ফরচুন গার্ডেন, ফোন : ০৮২১৭১৫৫৯০; জেল সড়কে হোটেল ডালাস, ফোন : ০৮২১৭২০৯৪৫; লিংক রোডে হোটেল গার্ডেন ইন, ফোন : ০৮২১৮১৪৫০৭; আম্বরখানায় হোটেল পলাশ, ফোন : ০৮২১৭১৮৩০৯; জিন্দাবাজারে হোটেল মুন লাইট, ফোন :০৮২১৭১৪৮৫০; তালতলায় গুলশান সেন্টার, ফোন : ০৮২১৭১০০১৮ ইত্যাদি।