দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন আজ

দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা অংশ উন্মুক্ত হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করবেন। এশিয়ান হাইওয়ে করিডর-১-এর অংশ এই এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকা প্রান্ত হতে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত দূরত্ব ৫৫ কিলোমিটার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ দূরত্ব অতিক্রম করতে সাধারণভাবে সময় লাগবে মাত্র ৪২ মিনিট। আর ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে সময় লাগবে ২৭ মিনিট। অবশ্য এখনই ঢাকা থেকে সরাসরি ভাঙ্গা পর্যন্ত যাওয়া যাবে না। পদ্মা সেতু হওয়ার পর এ সুফল পুরোপুরি ভোগ করা যাবে।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প ব্যবস্থাপক এবং মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তফা জানান, ঢাকার যাত্রাবাড়ী মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালের জুলাই মাসে। ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল এই প্রকল্পের। মাওয়া থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ আগেই শেষ হয়েছিল। বাকি ছিল ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার অংশের কাজ। চলতি মাসে প্রকল্পটির কাজ প্রায় শেষ হয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৬ হাজার ২৫২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের কাজ শুরুর পর পরবর্তী সময়ে সংশোধিত ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৮৯২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর বাইরে মূল প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়নি এমন কিছু কাজের জন্য ২০১৮ সালের জুনে ৪ হাজার ১১১ কোটি টাকার আরেকটি পৃথক ডিপিপি অনুমোদন করে সরকার। এই ডিপিপি অনুযায়ী, কাজের মেয়াদ ধরা হয়েছে জুন ২০২০ সাল পর্যন্ত। দুটি ডিপিপি মিলিয়ে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে মোট ব্যয় হচ্ছে ১১ হাজার ৩ কোটি টাকা। আট লেনের এই এক্সপ্রেসওয়েটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন-এসডব্লিউও (পশ্চিম)।

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে থাকছে বেশ কয়েকটি বাস-বে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংযোগ সড়ক থেকে ঢোকা ও বের হওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এই এক্সপ্রেসওয়ের অনেকগুলো পয়েন্টে। তাই এটিকে পূর্ণাঙ্গ এক্সপ্রেসওয়ে বলা যাবে না। তবে এক্সপ্রেসওয়ে বা হাইওয়ের অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে এতে।

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে হচ্ছে দেশের প্রথম এক্সপ্রেস হাইওয়ে, যেখানে মূল সড়কে থাকবে চারটি লেন। সঙ্গে সড়কের দুই পাশে থাকছে সাড়ে ৫ মিটার করে (একেক পাশে দুই লেন করে) দুটি সার্ভিস লেন। এই এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করতে টোল দিতে হবে সব ধরনের যানবাহনকে।

এই এক্সপ্রেসওয়ের মাঝ বরাবর রয়েছে ৫ মিটার প্রস্থের মিডিয়ান। নির্মাণকাজ হয়েছে দুটি প্যাকেজে। প্রথম প্যাকেজে যাত্রাবাড়ী ইন্টারসেকশন থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার এবং দ্বিতীয় প্যাকেজে শরীয়তপুরের পাচ্চর থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার। এই এক্সপ্রেসওয়েতে মোট সেতুর সংখ্যা হচ্ছে ৩১টি। এগুলোর মধ্যে পিসি গার্ডারের সেতু ২০টি ও আরসিসির ১১টি। নির্মাণ হয়েছে ৪৫টি কালভার্টও। নির্মাণ হয়েছে আবদুল্লাহপুর, হাঁসারা, শ্রীনগর, কদমতলী, পুলিয়া বাজার ও ভাঙ্গা ফ্লাইওভার। এছাড়া জুরাইন, কুচিয়ামোড়া, শ্রীনগর ও আতাদিতে চারটি রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ করা হয়েছে। গ্রেট সেপারেটর হিসেবে ১৫টি আন্ডারপাস ও ৩টি ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ করা হয়েছে যাত্রাবাড়ী, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ও ভাঙ্গায়। এক্সপ্রেসওয়ের দুই প্রান্তে দুটি টোল প্লাজা নির্মাণ করা হয়েছে।

গত বুধবার ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে মাওয়া পর্যন্ত এই এক্সপ্রেসওয়ে ঘুরে দেখা গেছে, এখনো এ মহাসড়কের টুকিটাকি কাজ সম্পন্ন করতে চলছে ব্যস্ততা। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কোথাও চলছে ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড স্থাপনের কাজ, কোথাও রং করা হচ্ছে আর কোথাওবা ঘষামাজা চলছে। এই আন্তর্জাতিক এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

ফরিদপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুল বারী বলেন, এই এক্সপ্রেসওয়ে হওয়াতে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে। সড়কের যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা আসবে বলে মনে করি।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, এটি চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে। আগে ঢাকা যেতে যে সময় লাগত এখন তার চার ভাগের এক ভাগ সময় লাগবে।