আমনে ধান কেনায় রেকর্ড করেছে সরকার। এবার আমনে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ সোয়া ৬ লাখ টন ধান কেনা হয়েছে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে আমন সংগ্রহ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এ তথ্য জানান। এ সময় কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক উপস্থিত ছিলেন।খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ছোটখাটো বিচ্যুতি ছাড়া কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ৬ লাখ ২৭ হাজার টন ধান সংগ্রহ সম্ভব হয়েছে। কৃষককে ন্যায্যমূল্য দেওয়ার জন্যই আমাদের এই প্রয়াস। আমরা ধানের লক্ষ্যমাত্রার ৯৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছি। এছাড়া সেদ্ধ চাল ৯৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ ও আতপ চাল ৯৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
ধান কেনার ক্ষেত্রে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে। ১৬টি উপজেলায় অ্যাপের মাধ্যমে ধান কেনা হয়েছে। গত বছর নতুন সরকার কৃষকের ধানের ন্যায্য দাম দেওয়ার জন্য সারা দেশে ২০০ পেডি সাইলো নির্মাণের ঘোষণা দেয়। চলমান সরকারের মেয়াদ এক বছর তিন মাস পার হয়ে গেলেও সেই পেডি সাইলো আলোর মুখ দেখেনি। সারা দেশে ধানের সাইলো নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে দেশ রূপান্তরের এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০টি প্যাডি সাইলোর প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে আছে। আমরা হয়তো আগামী অর্থবছর থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারব। আশা করি এই অর্থবছরে একনেক পার করে নিয়ে সামনের অর্থবছর থেকে বাস্তবায়নে যেতে পারব।
কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ফসল উৎপাদন করে কৃষক যদি লাভ করতে না পারে তবে তার জীবনের প্রয়োজনগুলো কীভাবে মেটাবে? গত বোরোতে কৃষক দাম পায়নি। তখন থেকেই আমরা চিন্তা করছিলাম কীভাবে কৃষকের কাছ থেকে সরাসারি ধান কিনে কিছুটা লাভ তাদের দেওয়া যায়। গত বছর বোরো ধান কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরিকল্পনা করতে সময় লেগেছিল, তারপরও ভালো সংগ্রহ হয়েছিল। এবার আমনের আগে আমরা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে কোনো মূল্যে চাষির কাছ থেকে ধান কিনতে হবে।
ধান সংগ্রহের জন্য ধানের আর্দ্রতা মাপতে পর্যাপ্ত পরিমাণ মিটার কেনা হয়েছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষকের বাড়ি গিয়ে কৃষি কর্মকর্তা ময়েশ্চার মিটার দিয়ে ধান মেপে দেবেন। তারপর কৃষক সরকারি গুদামে সেই ধান পৌঁছে দেবে।
এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নিয়ে ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকার প্রকল্পটি যে কোনো দিন একনেকে উঠবে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের জন্য গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয় ১০০ কোটি টাকা ছাড় দিয়েছে। আমরা এটা ডিস্ট্রিবিউশন করে দিয়েছি। সংবাদ সম্মেলনে খাদ্য সচিব ড. নাজমানারা খানুম, কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সরোয়ার মাহমুদসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।