ঝালকাঠিতে বিদেশফেরত ৪ প্রবাসী কোয়ারেন্টাইনে

ঝালকাঠিতে পাঁচজন প্রবাসীকে কোয়ারেন্টাইনে রেখেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। বুধবার সকাল থেকে রাজাপুরে তাদের নিজ ঘরে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।

বিদেশফেরত চারজনই জেলার রাজাপুর উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা।

বিষয়টি প্রথমে গণমাধ্যম কর্মীদের থেকে গোপন রাখা হলেও বুধবার রাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

সূত্র জানায়, কয়েক দিন আগে চীন থেকে একজন, বুধবার সকালে সৌদি আরব থেকে দুই জন, ইতালি থেকে একজন এবং রাতে সিঙ্গাপুর থেকে আরও একজন ব্যক্তি রাজাপুরের গ্রামের বাড়িতে আসেন।

স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে প্রত্যেকের বাড়িতে গিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মীরা তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। এ সময় তাদের শরীরে কোনো করোনাভাইরাসের আলামত পাওয়া না গেলেও তাদের পাঁচজনকেই নিজ ঘরে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।

রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আবুল খায়ের মাহমুদ রাসেল বলেন, চীন থেকে ফেরত আসা ব্যক্তির ইতিমধ্যেই ১৪ দিনের বেশি অতিবাহিত হওয়ায় তাকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সৌদি আরব থেকে দুজন, ইতালি থেকে একজন এবং সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আসা একজন ব্যক্তির বাড়িতে গতকাল রাতে আমি নিজে গিয়েছি এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। বাড়িতেই আলাদা কক্ষে তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তাদের ব্যাপারে আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। যাতে তারা এই ১৪দিন বাইরের লোকেদের সঙ্গে না মেশে।

ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদার বলেন, আমরা সদ্য বিদেশ ফেরত চারজনকেই কোয়ারেন্টাইনে রেখেছি। তাদের শরীরে কোনো প্রকার ভাইরাসের লক্ষণ পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া সারা জেলায় আমাদের স্বাস্থ্য সহকারীরা খোঁজখবর রাখছে। কেউ বিদেশ থেকে এলেই করোনাভাইরাস প্রতিরোধের স্বার্থে তাকে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হবে।

এছাড়া সদর হাসপাতালসহ তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি করে কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে পাঁচটি করে বেড রয়েছে। সন্দেহভাজন কাউকে পাওয়া গেলে তাকে সেখানে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। এ ব্যাপারে আতঙ্কিত না হওয়ারও পরামর্শ দেন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদার।