কভিড-১৯ : প্রাদুর্ভাব, মহামারী, বৈশ্বক মহামারী

বিশ্বজুড়ে প্রায় ১১৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে কভিড-১৯। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাকে মহামারী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। কখন একটি রোগকে মহামারী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয় এবং কেন সে বিষয়ে বিস্তারিত লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

মহামারী কী

মহামারীর ইংরেজি শব্দ এপিডেমিক (epidemic)। তবে বিশেষজ্ঞরা যখন মহামারী বলতে ‘প্যানডেমিক’ (pandemic) বলেন তখন বুঝতে হবে রোগটি ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে এবং আরও প্রাদুর্ভাব ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। গ্রিক শব্দ ‘প্যান’ (Pan) অর্থ সব এবং ‘ডেমোস’ (Demos) অর্থ মানুষ। প্যানডেমিক শব্দটি ব্যবহার করা হয় যখন বিশ্বজুড়ে রোগটির প্রাদুর্ভাবে অসংখ্য মানুষ মারা যায়। অর্থাৎ একই সময়ে যখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোনো সংক্রামক রোগে অনেক মানুষ আক্রান্ত হয় তখন একে বিশ্ব মহামারী বলা হয়। যখন নতুন কোনো ভাইরাসের সংক্রমণের শিকার হয় অসংখ্য মানুষ এবং একজন থেকে অনেকের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে যায় তখন সেটি বিশ্ব মহামারীতে রূপ নেয়। সাম্প্রতিক উদাহরণ করোনাভাইরাস। ১১ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসকে ‘বৈশ্বিক মহামারী’ হিসেবে ঘোষণা দেয়। কোনো ধরনের প্রতিষেধক টিকা বা চিকিৎসা আবিষ্কার না হওয়ায় এর বিস্তার পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। এর আগে ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লুকে মহামারী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

প্রাদুর্ভাব, মহামারী ও বৈশ্বিক মহামারী

করোনাভাইরাস থেকে সৃষ্ট রোগ কভিড-১৯-কে বৈশ্বিক মহামারী হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার আগেই বিশ্বের সব দেশে এ রোগটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এ রোগের মধ্যে তিনটি বৈশিষ্ট্য প্রাদুর্ভাব (outbreak), মহামারী (epidemic) ও বৈশ্বিক মহামারী (pandemic) একত্রে আছে। তিনটি শব্দ আপাতদৃষ্টিতে একই রকম মনে হলেও আসলে তিনটি আলাদা।

প্রাদুর্ভাব : শব্দটি ছোট হলেও এর ব্যাপকতা অনেক বেশি। প্রাদুর্ভাব শব্দটি সাধারণত ব্যবহার করা হয় যখন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট জায়গা এবং জাতির মধ্যে কোনো রোগ বেশি মাত্রায় ছড়িয়ে গেলে প্রাদুর্ভাবের বিষয়টি সহজেই চোখে পড়ে। এক বা দুজন কোনো রোগে আক্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক, তবে যদি একত্রে অনেক মানুষ আক্রান্ত হলে সেটিকে প্রাদুর্ভাব বলা হয়। প্রাদুর্ভাব ঘটলে একটি নতুন রোগের সংক্রমণ এবং তাতে আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে চোখে পড়ে। কভিড-১৯ রোগটি প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়াকে প্রাদুর্ভাব বলা যায়। ঠিক কতজন মানুষ এ রোগে আক্রান্ত সে বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরগুলো অনুসন্ধান শুরু করেছে। এ বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়ার পর জানা যাবে রোগটির প্রাদুর্ভাব কতটুকু এবং কীভাবে একে প্রতিরোধ করা যায়।

মহামারী : বিপুল ভৌগোলিক এলাকাজুড়ে মহামারী ছড়ায়। চীনের উহান শহরে বাইরের মানুষের মধ্যে যখন ‘সার্স-কভ-২’ (কভিড-১৯ রোগ হওয়ার কারণ এ সংক্রমণ) সংক্রমিত হয়েছিল তখনই মহামারী বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেছিলেন এটি মহামারীর রূপ নিতে পারে। এমন বিশ্বাসের আরেকটি কারণ হলো, এখন পর্যন্ত এ রোগের কোনো চিকিৎসা বা ভ্যাকসিন তৈরি করা সম্ভব হয়নি।

বৈশ্বিক মহামারী : একটি দেশ ছাড়িয়ে যখন অন্য একটি দেশে রোগটি প্রাদুর্ভাব ছড়ায় এবং সেটি আয়ত্তের বাইরে চলে যায় তখন সেটিকে বলা হয় বৈশ্বিক মহামারী। স্থানীয় কোনো একটি জায়গায় মহামারী ছড়ানোর পর নতুন নতুন এলাকা আক্রান্ত হতে পারে। কভিড-১৯-এ আক্রান্ত একজন ব্যক্তি যখন চীন থেকে আমেরিকায় ফিরে যায় তখন সেটি বৈশ্বিক মহামারী নয়। কিন্তু যদি তার মাধ্যমে তার পরিবার অথবা বন্ধুবান্ধব আক্রান্ত হতে শুরু করে এবং ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে যায় তখন সেটি বিশ্বব্যাপী মহামারীতে রূপ নেয়। মহামারী বিশেষজ্ঞরাও স্বীকার করেন, যখন নতুন কোনো একটি এলাকায় রোগ ছড়ানো শুরু হয় তখন আসলেই সেটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ মহামারী সবসময় হয় না। অনেক বছর পরপর মহামারীর কথা শোনা যায়। বিশ শতকের মধ্যে তিনবার বৈশ্বিক মহামারীর ঘটনা ঘটেছে। করণীয় সম্পর্কে জানা থাকে না বলে অধিকাংশ মানুষ মহামারীতে কীভাবে সুস্থ থাকবে সে বিষয়ে বুঝতে পারে না।

শব্দগুলো চিকিৎসাবিদ্যার নয়, রাজনৈতিক

মহামারী বিশেষজ্ঞরা মূলত রোগটি কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় সে বিষয়ে কাজ করেন। এ পদ্ধতিটি সাধারণত বিভিন্ন দেশের সরকার অথবা আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো কী করছে তার থেকে আলাদা। করোনার আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি ঘটনাকে বৈশ্বিক মহামারী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। একটি হচ্ছে ১৯১৮ সালের ইনফ্লুয়েঞ্জা (স্প্যানিশ ফ্লু) এবং ২০০৯ সালের ইনফ্লুয়েঞ্জা এইচওয়ানএনওয়ান (সোয়াইন ফ্লু)। যদিও মহামারী বিশেষজ্ঞরা অনেক আগে থেকেই করোনাকে বৈশ্বিক মহামারী হিসেবে বলে আসছিলেন। ১১ মার্চ পর্যন্ত, ১১৪টি দেশে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২০ হাজার। এর মধ্যে শুধু আমেরিকাতেই আছে এক হাজারেরও বেশি রোগী। বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় করোনার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক মহামারী হলো বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার সর্বোচ্চ স্তর এবং বিশ্বের একাধিক অঞ্চলে প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দেয়। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনো এ মহামারীর সংক্রমণ রোধ করা নিয়ে আশাবাদী। তারা ভাবছে, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান বের করা যাবে। বর্তমানে কভিড-১৯-এর প্রভাব পড়েছে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামাজিক ক্ষেত্রেও। এসব সমস্যার সমাধান করতে হলে অবশ্যই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারা এটিকে বৈশ্বিক বলছে বলেই যে রোগটি ভয়াবহ এবং এতে মৃত্যুর হার আরও বেড়ে যাবে তা নয়, আবার এতে সংক্রমণের হার যে হুট করে কমে যাবে তাও নয়। পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে সুস্থ থাকার চেষ্টা করতে হবে যতটুকু সম্ভব ততটুকু। তবে বলা যায়, করোনা বিশ্বজুড়ে একটি বিশাল প্রভাব রেখে যাচ্ছে।

মহামারী করোনা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতামত

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেড্রোস গেব্রেইয়েসুস ১১ মার্চ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিশ্বব্যাপী মহামারীর রূপ নিয়েছে। ভাইরাসটির বিস্তার নিয়ে আমরা সবসময় নজর রাখছিলাম, তবে এর ভয়াবহ রকম সক্রিয়তা দেখে আমরা উদ্বিগ্ন। প্যানডেমিক শব্দটাকে হালকাভাবে নিলে হবে না। অপব্যবহার করা হলে, এ শব্দটি অপ্রয়োজনীয় আশঙ্কা সৃষ্টি করবে, অথবা লড়াই যে শেষ সে কথাকে স্বীকৃতি দিয়ে দেবে, যার জেরে দুর্ভোগ ও মৃত্যু বাড়বে। সংক্রমিত হয়েও রোগটির হাত থেকে বেঁচে ফিরেছেন বেশ কয়েকটি দেশের মানুষ। এটি নিয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মহামারী ঘোষণা করলেও রোগটির ঝুঁকির ব্যাপারে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলেও জানান তিনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাজ বদলাচ্ছে না, দেশগুলো যা করে চলেছে তারও কোনো বদল হচ্ছে না। চীন থেকে সূচনা হওয়া এ নতুন করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯-এর সংক্রমণে সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত পৃথিবীজুড়ে এক লাখের বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছে এবং ৪ হাজার ৩০০-এরও বেশি মৃত্যু হয়েছে।

কখন মহামারী ঘোষণা করা হয়

কোনো রোগ মহামারী কি না সেটি শেষ পর্যন্ত ঘোষণা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। একটি নির্দিষ্ট সংখ্যায় মৃত্যু অথবা সংক্রমণ পৌঁছলে তবেই ঘোষণা আসে এমন নয়। বিভিন্ন দেশে অতি অল্প সময়ের মধ্যে অধিক মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ঘটলে তবেই এমন ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০০৩ সালে সার্স করোনাভাইরাস বিশ্বের ২৬টি দেশে ছড়ালেও তখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সেটিকে মহামারী বলে ঘোষণা দেয়নি।

মহামারী ঘোষণার কারণে বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক সৃষ্টি হলে সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা পরাস্ত হতে পারে। কেননা এর ভয়াবহতা জেনে মানুষ হাল ছেড়ে দিতে পারে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় লেখালেখি হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, সোয়াইন ফ্লুকেও আসলে সে সময় মহামারী না বললেও চলত। এতে সচেতনতার চেয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে বেশি। জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো রোগটির প্রাদুর্ভাব হওয়ার আগেই অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ আবিষ্কার করে ফেলেছিল। করোনাভাইরাসের বিষয়টিও তাই। যদিও ভ্যাকসিন উদ্ভাবিত হয়নি, তবু কিছু নিয়মকানুন মেনে চললে সপ্তাহখানেকের ভেতরই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা যায়।

কেমন প্রস্তুতি নিতে হবে মানুষকে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেহেতু কভিড-১৯-কে বৈশ্বিক মহামারী হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পর এর প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কেমন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত প্রশ্ন উঠছে সেটি নিয়ে। তারাও বলছে, এটি বলার অর্থ আগের পরামর্শ বাদ দেওয়া নয়। এখনো দেশে দেশে রোগটি ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে যতটুকু সম্ভব চিকিৎসা নেওয়া, অসুস্থদের সুস্থ মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকা এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা টিকিয়ে রাখার কথা বলা হচ্ছে। লন্ডনের কিংস কলেজের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ রিসার্চ অ্যাকাডেমিক ক্লিনিক্যাল লেকচারার ডক্টর নাথালি ম্যাকডারমট বলেন, বিশ্বকে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একটি সম্ভাব্য মহামারীর জন্য প্রস্তুত হওয়ার কথা বলা হচ্ছিল। সম্ভবত সব দেশই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। তাই নতুন এ ঘোষণার কারণে আগে দেওয়া পরামর্শ বদলে যাবে না। এ ঘোষণার কারণে বিশ্বজুড়ে রোগটি সম্পর্কে মনোযোগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন সব দেশ একে অন্যের সঙ্গে সহযোগিতার মাত্রা বাড়াবে এবং কঠিন পরিস্থিতিকে সামলে নিতে সবাই একত্রিত হবে।

যেসব রোগে  মহামারীর ঘোষণা এসেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে

দ্য ইনফ্লুয়েঞ্জা প্যানডেমিক :বিংশ শতাব্দীর শুরুর সময়টি ছিল নানা কারণে আলোচিত। ১৯১৮ সালের নভেম্বর মাসে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটলেও নীরবে অনেক মানুষ শামিল হচ্ছিল আরেকটি মৃত্যুর মিছিলে। মৃত্যু মিছিলের নাম ছিল ‘দ্য ইনফ্লুয়েঞ্জা প্যানডেমিক’ অথবা ‘স্প্যানিশ ফ্লু’। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের নানা দেশে রোগটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও পৃথিবীর সব দেশের মানুষ কমবেশি এতে আক্রান্ত হয়েছিল। এ মহামারীতে পরের দুই বছর মিলিয়ে মারা যায় প্রায় পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষ। কিছু গবেষকের মতে, সংখ্যাটি ১০ কোটির বেশি। এ ভাইরাসে ২০-৪০ বছর বয়সীরাই সাধারণত বেশি আক্রান্ত হতো। শুরুতে মাথাব্যথা, জ¦র, ক্লান্তিসহ নানা উপসর্গ থেকে রোগীর ত্বক ধীরে ধীরে নীল বর্ণ ধারণ করত। পরের ধাপেই থাকত ফুসফুসে রক্তপাত। ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা মানুষের মরদেহ কাটাছেঁড়া করতে গিয়ে ডাক্তাররাও বিচলিত হয়ে উঠতেন। তাদের নীল এবং স্যাঁতসেঁতে ফুসফুস দেখে মনে হতো তারা পানিতে ডুবে মারা গেছে। সে সময় দেশে দেশে সরকার সাধারণ মানুষকে মাস্ক পরিধানের জন্য আইন পাস করে, দীর্ঘদিনের জন্য বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়, খাদ্যদ্রব্যের বাজারগুলোতে লোক সমাগম নিয়ন্ত্রণ করা হয় কঠোরভাবে।

সোয়াইন ফ্লু : ২০০৯ সালে বিশ্ববাসীর মনে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী রোগের নাম ছিল সোয়াইন ফ্লু। বিজ্ঞানীরা ভাইরাসটির নাম দেন ‘এইচওয়ানএনওয়ান’। শূকরের শরীর থেকে আসা প্রাণঘাতী এ ভাইরাসটি সম্পর্কে জরুরি অবস্থা জারির আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, অবিলম্বে ভয়ানক মহামারী হয়ে উঠতে চলেছে এইচওয়ানএনওয়ান নামের এই অজানা জ¦র। সোয়াইন ফ্লুর যাত্রা শুরু হয় মেক্সিকো থেকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তৎকালীন প্রধান সে সময় জানিয়েছিলেন, মহামারী বাধিয়ে দেওয়ার যাবতীয় ক্ষমতা রয়েছে এ প্রাণঘাতী এবং এখনো পর্যন্ত অজানা ভাইরাসটির। এর মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা জারিসহ প্রতিষেধক উদ্ভাবনের জন্য কঠিন পর্যালোচনা ও নিরীক্ষণ চালানো হয়। এ ভাইরাসটিও সংক্রমণ ঘটাচ্ছিল ২০-৪০ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে।

করোনাভাইরাস : করোনাভাইরাস এক ধরনের সংক্রামক ভাইরাস। এর অনেকগুলো প্রজাতি আছে, এর মধ্যে মাত্র ছয়টি মানবদেহে সংক্রমিত হতে পারে। এর আগে এটি কখনো মানুষের মধ্যে ছড়ায়নি। নতুন এ রোগটিকে প্রথমদিকে ‘চায়না ভাইরাস’, ‘করোনাভাইরাস’, ‘২০১৯ এনকভ’, ‘নতুন ভাইরাস’, ‘রহস্য ভাইরাস’ ইত্যাদিসহ নানা নামে ডাকা হচ্ছিল। এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগটির আনুষ্ঠানিক নাম দেয় কভিড-১৯, যা ‘করোনাভাইরাস ডিজিজ ২০১৯’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। জানা যায়, মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাটি ঘটেছে চীনের উহান শহরে সামুদ্রিক মাছ পাইকারি বিক্রি হয় এমন একটি বাজারে। যদিও বেশকিছু সামুদ্রিক প্রাণী করোনাভাইরাস বহন করতে পারে (যেমন বেলুগা তিমি), ওই বাজারটিতে থাকা অনেক জীবন্ত প্রাণী যেমন মুরগি, বাদুড়, খরগোশ, সাপ এসব প্রাণীও করোনাভাইরাসের উৎস হতে পারে। গবেষকরা বলছেন, চীনের হর্সশু নামের একপ্রকার বাদুড়ের সঙ্গে এ ভাইরাসের ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে। করোনাভাইরাস ভাইরাস পরিবারে আছে তবে আগের ছয়টি ভাইরাস পরিচিত থাকলেও এখন যেটিতে মানুষ সংক্রমিত হচ্ছে সেটি নতুন। বেশিরভাগ করোনাভাইরাসই বিপজ্জনক নয়, কিন্তু আগে থেকে অপরিচিত এ নতুন ভাইরাসটি ভাইরাল নিউমোনিয়াকে মহামারীর দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।