বলিউডে যারা কাজ করতে আসেন, তাদের সবাই ভাবেন, একদিন সে সেরা তারকার কাতারে নিজের নাম লেখাবেন। কিন্তু সবার পক্ষে তা সম্ভব হয় না। কেউ কেউ সেই দুর্গম পথ পাড়ি দিতে পারেন। রাধিকা মাদান হয়তো তেমনি একজন। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই পণ করেছেন, একই ধরনের চরিত্রে দ্বিতীয়বার অভিনয় নয়। রাধিকা মাদানের ছবি আর চরিত্র বাছাই দেখলে তার প্রতিজ্ঞার কথা বোঝা যায়। অভিষেক বিশাল ভরদ্বাজের ‘পাটাখা’ দিয়ে। এরপর করেছেন ‘মর্দ কি দর্দ নেহি হোতা’র মতো সমালোচকপ্রিয় ছবি। দুটি সিনেমাতেই নিজের জাত চিনিয়েছেন এই নায়িকা। দর্শক ও সমালোচরা বুঝে গেছেন, রাধিকার মেধার জোর আছে। তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া। এবার ‘আংরেজি মিডিয়াম’-এ রাধিকাকে দেখা যাবে আরও অন্য রকম চরিত্রে। সিনেমায় ১৭ বছর বয়সী কিশোরীর চরিত্র করেছেন তিনি। ‘প্রতিটি ছবিতেই দর্শককে চমকে দিতে চাই। সে জন্য গল্প বাছাই করি সতর্কতার সঙ্গে। ভবিষ্যতেও এই নীতিতে অটল থাকতে চাই। মনে করি শিল্পী হিসেবে সেটাই আমার দায়িত্ব,’ বলেন রাধিকা। তার অভিনয়ে মুগ্ধ সমালোচকরা। ‘পাটাখা’র জন্য বেশ কয়েকটি পুরস্কার জিতেছেন। আগের দুই ছবির জন্য মনোনীত হয়েছিলেন ফিল্মফেয়ারেও। তবে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই যে বড় পর্দায় সাফল্য পাবেন সেটা আন্দাজ করতে পারেননি রাধিকা নিজেও। কালার্স টিভিতে ‘মেরি আশিকি তুমসে হি’ সিরিয়াল দিয়ে শুরু হয়েছিল। একই চ্যানেলের রিয়ালিটি ডান্স শো ‘ঝালাক দেখ লা জা’র অষ্টম সিজন নিয়ে আলোচায় আসেন। রাধিকার নতুন ছবি ‘আংরেজি মিডিয়াম’ মূলত ‘হিন্দি মিডিয়াম’-এর সিক্যুয়েল। ছবিতে ইরফান খানের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। যে নিজের উচ্চশিক্ষার জন্য লন্ডন যেতে চায়। এদিকে বাবার সামর্থ সীমিত। মেয়ের স্বপ্ন পূরণে তাই পড়তে হয় নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। এই ছবিতে অভিনয় বড় চ্যালেঞ্জ ছিল রাধিকার জন্য। ‘অডিশন দিয়ে সুযোগ পেতে হয়েছিল। সুযোগ পাওয়ার পর কী যে আনন্দ হয়েছিল! কারণ ইরফান খানের সঙ্গে কাজ করা অনেক দিনের স্বপ্ন। এত দ্রুতই সেটা পূরণ হবে ভাবিনি,’ বলেন রাধিকা। গুঞ্জন আছে, এই চরিত্রটি আগে করার কথা ছিল সারা আলী খানের। রাধিকা অবশ্য খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেননি।