মালয়েশিয়ায় আকিজের বিনিয়োগ

৩২ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে অর্থমন্ত্রীকে ড. মসিউরের চিঠি

বাংলাদেশের আকিজ জুট মিলস মালয়েশিয়ায় কেনা কোম্পানিতে স্থানান্তরের জন্য সহযোগী কোম্পানি শেখ আকিজুদ্দিন লিমিটেড থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় ৩২ মিলিয়ন ডলার ঋণ নিতে চায়। ইক্যুইটি স্থানান্তরের রেওয়াজ থাকলেও বাংলাদেশ থেকে এভাবে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ নেওয়ার বিধান নেই বলে আকিজ গ্রুপকে জানিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় গিয়ে আকিজের কেনা প্রতিষ্ঠান সরেজমিন ঘুরে এসে ওই ঋণ দিতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে চিঠি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান।

আকিজ জুট মিলস লিমিটেড মালয়েশিয়ায় ‘আকিজ রিসোর্সেস এসডিএন বিএইচটি নামে একটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছে। কোম্পানিটি পার্টিকেল বোর্ড তৈরি করে। গত ৩ মার্চ অর্থমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে ড. মসিউর রহমান লিখেছেন ‘গত ৯-১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ আমি ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের আইসিডি’র আমন্ত্রণে মালয়েশিয়া যাই। মূল উদ্দেশ্য মালয়েশিয়ার শরিয়া অনুবর্তী আর্থিক বাজার সম্পর্কে জানা। ওই সময় আকিজ লিমিটেডের মালয়েশিয়ায় নতুন কেনা সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনে যাই।’ সেখানে আকিজ গ্রুপের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা ও পরে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি চিঠিটি লিখেছেন বলে উল্লেখ করেছেন, যার কপি দেশ রূপান্তরের কাছে রয়েছে।

আকিজ সিগারেট কোম্পানি ইতোপূর্বে জাপান টোব্যাকো কোম্পানির কাছে কোম্পানিটি বিক্রি করে, বিক্রয়মূল্য ১১৭ বিলিয়ন ডলার।

মসিউর রহমান লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে তারা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ১৯৫ মিলিয়ন ডলার জমা রেখেছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংক অফিশিয়াল রিজার্ভের অন্তর্ভুক্ত নয়, বৈদেশিক লেনদেনের জন্যও ব্যবহারযোগ্য নয়। বৈদেশিক মুদ্রা অলস হয়ে পড়ে আছে। (বৈদেশিক মুদ্রার এ ব্যবস্থাপনা অভিনব, ব্যাখ্যাহীন)।’

‘মালয়েশিয়ায় কোম্পানি ক্রয়ের জন্য আকিজ বাংলাদেশ থেকে তাদের এক্সপোর্ট রিটেনশন অ্যাকাউন্ট থেকে মালয়েশিয়ায় ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নেওয়ার অনুমতি পায় (২০১৭ সালে)। মোট মূল্যের তুলনায় ৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঘাটতি ছিল। কিন্তু তারা ডিইজি-কেএফডব্লিউ জার্মানি থেকে ২৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এসসিবি মালয়েশিয়া থেকে ১৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ নিয়ে কোম্পানিটি ক্রয় করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সিস্টার কোম্পানি শেখ আকিজুদ্দিন লিমিটেড থেকে ঋণ হিসেবে মালয়েশিয়া নেওয়ার আবেদন করে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ইক্যুইটি হিসেবে নেওয়ার রীতি আছে, ঋণ হিসেবে নেওয়ার রীতি নেই। তাদের আবেদন অগ্রাহ্য করা হয়। ডিইজি-কেএফডব্লিউ জার্মানি এবং এসসিবি মালয়েশিয়ার কাছে ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বকেয়া হিসেবে আছে’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা।

ড. মসিউর রহমান চিঠিতে লিখেছেন, মালয়েশিয়ায় সাবসিডিয়ারি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায় যে, কোম্পানি ওই ঋণ মূল ও সুদসহ পরিশোধ করছে। বাংলাদেশের আকিজ জুট মিলস লিমিটেড হতে ওই ঋণ নিলে মূল ঋণ ও সুদ বাংলাদেশে ফিরে আসবে। মালয়েশিয়ায় লাভের ওপরে ২৪ শতাংশ কর, ঋণ নিলে কর বাবদ অর্থ ব্যয় হবে না। সিস্টার কোম্পানি থেকে ঋণ নিলে বাংলাদেশে আট বছরে আনুমানিক ৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রত্যাবাসিত হতো, যার একটা অনুমিত হিসাব মালয়েশিয়ার সাবসিডিয়ারি ড. মসিউরকে দিয়েছেন।

এতে বলা হয়েছে ৩২ মিলিয়ন ডলার মূল ঋণ হলে সুদ বাবদ সাশ্রয় হবে ১৫ মিলিয়ন ডলার, কর বাবদ সাশ্রয় হবে ৭ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ডলার এবং সুদ বাবদ সিস্টার কোম্পানি পাবে ৪ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার।

ড. মসিউর রহমান লিখেছেন, জাপান টোব্যাকো কোম্পানি হতে পাওয়া বিক্রয়লব্ধ অর্থের যে পরিমাণ স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে সঞ্চিত ১৯৫ মিলিয়ন ডলার থেকে ৩২ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়া সম্ভব। ওই অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভের অন্তর্ভুক্ত করেনি বা বৈদেশিক বাণিজ্যিক লেনদেনের জন্য বাজারে মুক্ত করেনি। অলস বৈদেশিক মুদ্রা রাখবার পক্ষে যুক্তি স্পষ্ট নয়।

‘আকিজ গ্রুপের বক্তব্যের যথার্থতা সাপেক্ষে আকিজ রিসোর্সেস এসডিএন বিএইচডির জন্য সিস্টার কোম্পানির (শেখ আকিজুদ্দিন লিমিটেড) ঋণ অনুমোদনের প্রার্থনা কোম্পানি ও দেশের স্বার্থের অনুকূল মনে হয়। আকিজ গ্রুপের প্রার্থনা সহৃদয় বিবেচনাযোগ্য’ যোগ করেন ড. মসিউর।