বাংলাদেশ সঠিক পথে, দাবি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। রাজধানী থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ের হাসপাতালগুলোও প্রস্তুত করা হয়েছে। দুই মাস আগে থেকেই পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। করোনা মোকাবিলা করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। সরকার সতর্ক ও সজাগ রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, করোনার ‘টাইম টু টাইম’ আপডেট সাংবাদিকদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকেও জানানো হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। দেশে নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে যে তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে দুজন সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তাদের যেকোনো দিন ছেড়ে দেওয়া হবে। এ সময় মন্ত্রী বিদেশফেরতদের ‘সেলফ কোয়ারেন্টাইনে’ থাকার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, করোনা শনাক্ত ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিদেশ থেকে আসা সবাইকেই থার্মাল স্ক্যানারের মধ্য দিয়ে আসতে হচ্ছে। যারা বিদেশ থেকে আসছেন তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। তাদের নিজ উদ্যোগে হোম কোয়ারেন্টাইনের পরামর্শ দিচ্ছি, অনুরোধ জানাচ্ছি। মানুষ এখন অনেক সচেতন। বিদেশ থেকে কেউ এলে তারা, তাদের আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীরাও আমাদের হটলাইনে ফোন করে পরামর্শ চাচ্ছেন।

এক প্রশ্নে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডাক্তারের সংখ্যা ছিল ১০ জন, এখন ৩০ জন। ডেস্ক ছিল দুটি। এখন চারটি। কাজেই জনবল স্বল্পতার অভিযোগ করা সমীচীন হবে না। তবে এরপরও সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাজ করছে।’ করোনা মোকাবিলায় সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কথা ভাবছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শুধু স্কুলগুলো নয়, দেশের বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা কারখানাগুলোয় যে বিপুল পরিমাণ শ্রমিক কাজ করে তাদের বিষয়েও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভাবছে। স্কুলসহ সব জায়গায় হ্যান্ড স্যানিটেশন করার জন্য বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় নিয়ে বৈঠক করে নিজ নিজ মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তবে সাবান দিয়ে হাত ধুলেও হ্যান্ড স্যানিটেশন হয়।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ৫টি থার্মাল স্ক্যানার দিল সামিট গ্রুপ : বিদেশফেরত যাত্রীদের হেলথ স্ক্রিনিং করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে পাঁচটি থার্মাল স্ক্যানার উপহার দিয়েছে সামিট গ্রুপ। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেকের হাতে গতকাল এগুলো হস্তান্তর করেন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান লতিফ খান। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ছাড়াও সামিট গ্রুপের পরিচালক আজিজা আজিজ খান, ফাদিয়া খান ও সালমান খান উপস্থিত ছিলেন। সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান বলেন, এ সংকটের সময় বিশ্বমানের থার্মাল স্ক্যানারগুলো সরবরাহের মাধ্যমে দেশের সেবার সুযোগ পাওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ।

গত বুধবার সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশফেরত যাত্রীদের চাপ বেশি হওয়ায় শুভেচ্ছা উপহার পাওয়া পাঁচটি থার্মাল স্ক্যানারের মধ্যে একাধিক স্ক্যানার শাহজালালে স্ট্যান্ডবাই রাখা হবে। যাতে যাত্রীর চাপে কোনো একটি নষ্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে অন্য একটি প্রতিস্থাপন করা যায়। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে চট্টগ্রাম, সিলেট ও বেনাপোল স্থলবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার স্থাপন কার্যক্রম চলছে।

সারা দেশে মাস্ক তৈরির আহ্বান : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ সারা দেশে মাস্ক তৈরি করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি জানিয়েছেন, পপলিনের কাপড় দিয়ে তিনটি স্তরবিশিষ্ট এ মাস্ক তৈরি করা যাবে। মাস্ক পরার জন্য পপলিনের ফিতা থাকতে হবে। একবার ব্যবহার করে তা সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে ও শুকিয়ে পুনরায় ব্যবহার করা যাবে। গতকাল দাতা সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। বৈঠকে কভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

আজ থেকে বেনাপোল দিয়ে ভারত যাওয়া বন্ধ : করোনাভাইরাসের কারণে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশিদের ভারতে যাওয়া বন্ধ হচ্ছে আজ শুক্রবার থেকে। বেনাপোল স্থলবন্দরের অভিবাসন বিভাগের ওসি আহসান হাবিব বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে ভারত অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশি যাত্রীদের সে দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে যেতে পারবেন না। তবে বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয়রা ভারতে যেতে পারবেন। এছাড়া ভারতীয় নাগরিক ও ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশি যাত্রীরা বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে আসতে পারবেন।

সব সীমান্ত হাট বন্ধ করছে ত্রিপুরা : নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে সব সীমান্ত হাট বন্ধ করছে ভারতের ত্রিপুরা সরকার। গত বুধবার তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে কলকাতাভিত্তিক টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ত্রিপুরার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের এক নোটিসে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত যেকোনো ধরনের জনসমাগম এড়ানো বা স্থগিতের কথা বলা হয়েছে। ত্রিপুরার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রাধা দেববার্মা বলেছেন, আগরতলা-আখাউড়া চেকপোস্টে করোনাভাইরাস রোধে বসানো থার্মাল স্ক্যানারে একজন বাংলাদেশির শরীরের তাপমাত্রা বেশি ধরা পড়ায় তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই কারণে একজন ভারতীয়কে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে খবর প্রকাশের পর এ ঘটনা ঘটেছে।