৭২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে গণফোরাম। কমিটিতে বাদ পড়েছেন দলটির সাবেক নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুসহ অন্তত ছয়জন জ্যেষ্ঠ নেতা। গতকাল বৃহস্পতিবার গণফোরামের আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব নেতাকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে রেজা কিবরিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, সংগঠনে কার কী অবদান এসব চিন্তা করেই কমিটি দেওয়া হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দলের ভেতরে কোন্দল সৃষ্টির বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরীর বাদ পড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে পার্টির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলেও সংগঠন শক্তিশালী করতে কতটুকু অবদান রাখতে পেরেছেন তিনি?
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৭২ সদস্যের নতুন কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি ও গণফোরাম প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাইরে যে ৭০ জনকে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য করা হয়েছে তাদের মধ্যে আছেন এম মোকাব্বির খান এমপি, আ ও ম শফিকউল্লাহ, আবদুল আজিজ, মহসিন রশীদ, এ এইচ এম খালেকুজ্জামান, শান্তিপদ ঘোষ, জানে আলম, সগির আনোয়ার, সুরাইয়া বেগম, সেলিম আকবর, মোশতাক আহমেদ, ড. মাহবুব হোসেন, ড. শাহজাহান, আবদুর রহমান জাহাঙ্গীর, মেসবাহউদ্দীন আহমেদ, ডা. মিজানুর রহমান, এনামুল হক (যুক্তরাজ্য), ফরিদা ইয়াসমীন, মুজিবুল হক, মির্জা হাসান, আইয়ুব করম আলী, হিরণ কুমার দাস মিঠু, আনসার খান, ইসমাইল, এম শফিউর রহমান খান বাচ্চু, রবিউল ইসলাম তরফদার রবিন, আবুল কালাম আজাদ, রতন ব্যানার্জি, আবুল হাসেন জীবন, হারুনুর রশিদ তালুকদার, এস এম শাফি মাহমুদ, লিংকন চৌধুরী, আমজাদ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।
৪ মার্চ গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বহিষ্কার-পাল্টা বহিষ্কারের মধ্যে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিয়েছেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. কামাল হোসেন। একই সঙ্গে পরবর্তী কাউন্সিল না হওয়া পর্যন্ত দুই সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি হিসেবে থাকেন কামাল হোসেন নিজেই এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়াকে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক স্থবিরতা দূর করতে গত বছরের ২৬ এপ্রিল গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিল হয়। কাউন্সিলে কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয় সভাপতিকে। নিয়ম অনুযায়ী সাবজেক্ট কমিটি গঠনের পরিবর্তে তিন-চারজন কেন্দ্রীয় নেতা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী কমিটি গঠন করে সভাপতির অনুমোদন করিয়ে নেন। নবগঠিত কমিটি সাংগঠনিক অবস্থা গতিশীল করার পরিবর্তে অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছে।