আড়াই মাসে মহামারীর আকার পাওয়া নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্বের ১২৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ ভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯-এ আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২৯ হাজার ছাড়িয়েছে। মারা গেছে ৪ হাজার ৭৫০ জনের বেশি। এছাড়া সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৬৮ হাজার ৬৭২ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত ও মৃত্যুর অধিকাংশ ঘটনা ঘটেছে চীনে, তবে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশটি নানা ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি সামলে ওঠার পর এখন সংক্রমণ বাড়ছে ইউরোপ, আমেরিকায়।
ডিসেম্বরের শেষে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম ঘটনা ধরা পড়ে। সেই হুবেই প্রদেশে গত বুধবার নতুন রোগীর সংখ্যা আবার এক অঙ্কের ঘরে নেমে এসেছে। চীনের মূল ভূখণ্ডে বুধবার নতুন করে ১৫ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যাদের মধ্যে আটজন হুবেই প্রদেশের। তাদের নিয়ে চীনে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ৯৮০ জনে। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৬২ হাজার ৭৯৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন, যা মোট সংক্রমণের প্রায় ৮০ শতাংশ। বুধবার আরও ১১ জনের মৃত্যু হওয়ায় চীনের মূল ভূখণ্ডে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৬৯ জনে। আর ১ হাজার ৪৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে চীনের বাইরে বিভিন্ন দেশে।
চীনের পর আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ইউরোপের দেশ ইতালিতে। সেখানে ১২ হাজার ৪৬২ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, মৃত্যু হয়েছে ৮২৭ জনের। ইরানে ৪২৯, স্পেনে ৮৮, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৬৬, ফ্রান্সে ৪৮ ও যুক্তরাষ্ট্রে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া জাপানে ১৬, ইরাকে ৮, যুক্তরাজ্যে ১০, নেদারল্যান্ডস ও সুইজারল্যান্ডে ৫ জন করে মারা গেছে। জার্মানি, হংকং ও অস্ট্রেলিয়ায় ৩ জন করে; সান মারিনো ও আর্জেন্টিনায় ২ জন করে এবং কানাডা, মিসর, লেবানন, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনে মৃত্যু হয়েছে ১ জন করে।