পাঁচ জেলায় ১২৪ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে

করোনাভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯ মোকাবিলায় ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় কোয়ারেন্টাইন ইউনিট খোলা হয়েছে। এর মধ্যে জামালপুরের মনিরাজপুরে ১০০ শয্যার কোয়ারেন্টাইন হাসপাতাল ও সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ৬ শয্যার আইসোলেশন কর্নার প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি করোনা আক্রান্ত সন্দেহে ৫ জেলায় ১২৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

এদিকে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে দায়সারাভাবেই চলছে করোনা শনাক্তের কাজ। সেখানে মাত্র দুটি হ্যান্ড হেল্ড থার্মোমিটারে পরীক্ষা আর জিজ্ঞাসাবাদ শেষেই পার পেয়ে

যাচ্ছেন যাত্রীরা। পবেশমুখে বসানো হয়নি ডিজিটাল থার্মাল স্ক্যানার। অথচ বন্দরটি দিয়ে ব্যবসা, পর্যটন ও চিকিৎসাসহ নানা কাজে প্রতিদিন যাতায়াত করে ৩৫০ থেকে ৪৫০ পাসপোর্টধারী। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে :

বুড়িমারীতে দায়সারাভাবেই চলছে করোনা শনাক্তের কাজ : করোনাভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কার মুখেও লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে দায়সারাভাবেই চলছে ভাইরাস শনাক্তের কাজ। ব্যবসা, পর্যটন ও চিকিৎসাসহ নানা কাজে বন্দরটি দিয়ে প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪৫০ পাসপোর্টধারী মানুষ যাতায়াত করছেন। দুটি হ্যান্ড হেল্ড থার্মোমিটারে পরীক্ষা আর জিজ্ঞাসাবাদ শেষেই পার পেয়ে যাচ্ছেন যাত্রীরা। সেখানে বসানো হয়নি ডিজিটাল থার্মাল স্ক্যানার।

জানা গেছে, বুড়িমারী স্থলবন্দরে করোনাভাইরাস শনাক্তের জন্য গত ২৭ জানুয়ারি থেকে একটি মেডিকেল টিম কাজ করছে। এটি চালুর সময় শুধু মৌখিক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হতো। পরে এখানে একটি হ্যান্ড হেল্ড থার্মোমিটার দেওয়া হয়। সেটি দিয়েই কাজ করে আসছে মেডিকেল টিম। আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনের জন্য বন্দরটি দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছে প্রায় পাঁচ শ ট্রাক। অথচ করোনাভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কার মুখে সতর্কতা হিসেবে নেওয়া পদক্ষেপ একেবারেই নেই বললেই চলে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুজন কোয়ারেন্টাইনে : চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের সতর্কতা হিসেবে দুজনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এরমধ্যে একজন ইতালি ও অপরজন ভারত থেকে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সদর উপজেলার এক নারী চিকিৎসা শেষে ভারত থেকে ফিরেছেন এবং শিবগঞ্জ উপজেলার এক পুরুষ ফিরেছেন ইতালি থেকে। তাদের শরীরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকায় বাড়তি সতর্কতা হিসেবে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জামালপুরে প্রস্তুত ১০০ শয্যার কোয়ারেন্টাইন : জামালপুরে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ১০০ শয্যার কোয়ারেন্টাইন হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে। শহরের মনিরাজপুরে নির্মাণাধীন শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ জামালপুরের একটি ছাত্রী নিবাসে এ হাসপাতাল চালু করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রসাশক মোহাম্মদ এনামুল হক এ কোয়ারেন্টাইন হাসপাতালটির উদ্বোধন করেন।

জামালপুরে করোনাভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হলে তাদের এ কোয়ারেন্টাইন হাসপাতালে রেখে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ, মাইকিংসহ নানা প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

ঝালকাঠিতে ৫ প্রবাসী কোয়রেন্টাইনে : ঝালকাঠির রাজাপুরে প্রবাস ফেরত ৫ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রেখেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। গত বুধবার থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সবাইকে তাদের নিজ ঘরে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। খবরটি প্রথমে গোপন করা হলেও বুধবার রাতে বিষয়টি সবাই জেনে যায়। সন্দেহভাজন ওই পাঁচজনই রাজাপুরের বাসিন্দা।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, কয়েক দিন আগে চীন থেকে একজন, গতকাল সকালে সৌদি আরব থেকে দুজন, ইতালি থেকে একজন ও রাতে সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে আসেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে প্রত্যেকের বাড়িতে গিয়ে তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মীরা। এ সময় তাদের শরীরে করোনাভাইরাসের আলামত পাওয়া না গেলেও ওই পাঁচজনকে তাদের নিজ ঘরে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।

মানিকগঞ্জে বিদেশফেরত ১০৯ জনকে কোয়ারেন্টাইনে : মানিকগঞ্জের সাত উপজেলায় গত তিন দিনে বিদেশফেরত ১০৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তাদের শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ না থাকলেও বিদেশফেরত হওয়ায় তাদের নিজ নিজ বাড়িতে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন করে আরও ৩০ জন বিদেশফেরত ব্যক্তিকে নিজ নিজ বাড়িতে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল আমিন আখন্দ জানান, গত বুধবার ২০ জন এবং মঙ্গলবার ৫৯ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। করোনা প্রতিরোধে জেলা হাসপাতালে ১২ বেডের আইসোলেশন ইউনিট ও সদর উপজেলার কেওয়ারজানি এলাকায় আঞ্চলিক জনসংখ্যা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ১০০ শয্যার কোয়ারেন্টাইন ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রামে ইতালিফেরত ৭ জন কোয়ারেন্টাইনে : চট্টগ্রামে ইতালিফেরত সাতজনকে তাদের নিজ বাসায় থাকার পরামর্শ দিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। গত ৮ মার্চ তারা ইতালি থেকে বাংলাদেশে আসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ইতালি থেকে দেশে ফেরা বেশ কয়েকজন নিজেরাই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাদের মধ্যে কোনো লক্ষণ না থাকলেও তাদের নিজ বাসায় (হোম কোয়ারেন্টাইনে) থাকতে পরামর্শ দিয়েছি। তাদের ফোন নাম্বার রাখা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

শাহজাদপুরে ৬ শয্যার আইসোলেশন প্রস্তুত : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ শয্যার আইসোলেশন কর্নার প্রস্তুত করা হয়েছে। এরমধ্যে পুরুষের জন্য ৩টি ও মহিলাদের জন্য ৩টি শয্যা সংরক্ষণ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা অফিসার ডা. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান এ কর্নারের উদ্বোধন করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, শাহজাদপুরে এখনো করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিদেশফেরত কোনো প্রবাসী দেশে এলে তাকে অবশ্যই নিজ বাড়িতে দুই সপ্তাহ আইসোলেশনে রাখতে হবে। এ রোগের লক্ষণ দেখা গেলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। আক্রান্তের পরিমাণ বৃদ্ধি অনুযায়ী হাসপাতালের ২০টি শয্যা আইসোলেশনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হবে।

সীতাকুণ্ডে ইতালিফেরত প্রবাসী কোয়ারেন্টাইনে : সীতাকু-ে ইতালিফেরত এক প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। দেশে ফেরার তিন দিন পর গত মঙ্গলবার ওই প্রবাসীকে কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে তার পরিবারের সদস্য ও ইতিমধ্যে তার সঙ্গে যারা দেখা-করমর্দন করেছেন তাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আজিজ জানান, মঙ্গলবার ওই ব্যক্তি দেশে আসার পর বারবার তাকে সতর্ক ও ঘর থেকে বের না হতে বলা হলেও তিনি শুনছিলেন না। এরপর ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তৎপরতায় তাকে সতর্ক করা হয়। এ সময় তাকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয় এবং এ কদিন আশপাশের সবার থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়।