বাংলাদেশের বিতর্কিত ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের ক্যাসিনো কারবারের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন গত রবিবার বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্যাসিনো কারবারের মাধ্যমে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের অর্জিত সম্পদের তথ্য জানতে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের তথ্য এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে আয়কর বিবরণী সংগ্রহ করেছে কমিশন। শিগগিরই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলবি নোটিস পাঠানো হবে।
দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজিজ মোহাম্মদ ভাই বর্তমানে দেশে নেই। তার আয়ের অধিকাংশ অদৃশ্য ও জ্ঞাতআয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। নামে-বেনামে দেশে-বিদেশে তার পরিবারের ‘বিপুল সম্পদ’ রয়েছে। সেগুলোর খোঁজখবর নিচ্ছে কমিশন।
গত বছর ১৭ অক্টোবর রাজধানীর গুলশানে আজিজ মোহাম্মদের বাসায় অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, গুলশান-২-এর ৫৭ নম্বর রোডের ১১/এ এবং ১১/বি নম্বর দুটি ভবনে একযোগে অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে ১১/এ ভবনের ছাদে ছিল মদের মিনিবার। সেখানে আলমারিতে বিপুল পরিমাণ মদ পাওয়া যায়। বিভিন্ন কক্ষে সিসাবারের সরঞ্জাম এবং ক্যাসিনোতে ব্যবহৃত কয়েন, কার্ড ও ঘুঁটি পাওয়া যায়। অন্য ভবনের চারতলার একটি কক্ষেও পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ মদ, সিসা ও বিয়ার। সেদিন নবীন ম-ল ও পারভেজ নামে বাড়ির দুই তত্ত্বাবধায়ককে গ্রেপ্তার করা হয়। গুলশানের বাড়ি দুটি দেখাশোনা করতেন আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের ভাই রাজা মোহাম্মদের ছেলে আহাদ মোহাম্মদ ও ওমর মোহাম্মদসহ কয়েক স্বজন। সেদিন তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক খুরশিদ আলম দেশ রূপান্তরকে জানান, অভিযানের পর তারা দুটি মামলা করেছেন। সেগুলো দুজন পরিদর্শক তদন্ত করছেন। আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের বাড়ির দুই কেয়ারটেকারকে মামলায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অন্য দুই আসামি আজিজ মোহাম্মদের দুই ভাতিজাকে গ্রেপ্তারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তৎপরতা অব্যাহত আছে। এ দুই মামলার কোনোটিতে আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে আসামি করা হয়নি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, আজিজ মোহাম্মদের গুলশানের দুই বাড়িতেই ক্যাসিনো খেলা হতো মার্কিন ডলার দিয়ে। এক সেন্ট থেকে একশ ডলার সমমানের কয়েন পাওয়া যায়। এ কয়েন দিয়েই খেলা চলত। খেলা শেষে কয়েনের বিপরীতে ডলার দেওয়া হতো। সেখানে ‘হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিদের’ যাতায়াত ছিল।
দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজিজ মোহাম্মদ ভাই ‘অঢেল সম্পদের’ মালিক। তার ১১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে অলিম্পিক ব্যাটারি, অলিম্পিক বলপেন, অলিম্পিক ব্রেড ও বিস্কুট, এমবি ফার্মাসিটিউক্যাল, এমবি ফিল্ম ইত্যাদি। মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, হংকং ও সিঙ্গাপুরে রয়েছে তার হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসা। বাংলাদেশে মাদক কারবারেও তার সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে।
১৯৯৬ সালে প্রতারণার মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ও আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গুলশানের বাড়িতে অভিযানের দুদিন আগেই দেশ ছাড়েন তার ভাতিজা আহাদ। অভিযানের পর থেকে আত্মগোপনে অন্য ভাতিজা ওমরও।
আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের ভাগ্নে আমিন হুদা মাদক মামলায় ৭৯ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। কারাবন্দি থাকা অবস্থায় গত শুক্রবার (৬ মার্চ) তিনি মারা যান।