গুজবে বেসামাল বাজার

চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা

চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট মুখে মুখে ছড়াচ্ছে। বেশিরভাগ নেতিবাচক পোস্টের প্রভাব পড়েছে বাজারে। সপ্তাহ ব্যবধানে নিত্যপণ্যের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, প্রয়োজনের তুলনায় লোকজন বেশি পণ্য কিনে মজুদ করছেন। এতে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় দাম বেড়ে গেছে।

গতকাল শুক্রবার বন্দরনগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজার, বক্সিরহাট, সদরঘাট, চকবাজার, কাজির দেউড়ি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। ক্রেতারা জানান, সবাই বলাবলি করছে ঘরে আবদ্ধ থাকতে হবে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে। এজন্য এখনই দুই-তিন মাসের জন্য কিনে রাখছেন তারা। কাজির দেউড়ি বাজারের বিক্রেতা লিয়াকত আলী জানান, সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। আগে যারা ১০ কেজির বেশি কিনত না, করোনাভাইরাসে সবকিছু বন্ধ হওয়ার আতঙ্কে তারাই বস্তা বস্তা কিনছে।

বাজারে চিনির দাম ৫ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ৭৫, মিনিকেট চাল ১০ টাকা বেড়ে ৬০, নাজিরশাইল ৫৫, মোটা স্বর্ণা সিদ্ধ চাল ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রসুন প্রতি কেজি ১৯০-২০০, আদা ১৫০-১৬০, গত সপ্তাহে ৭০ টাকা কেজি দেশি পেঁয়াজ এখন ৮০-৯০, ১০ টাকা বেড়ে  মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়।

জুবলী রোডের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, ফেইসবুকে দেখলাম কয়েক দিন পর বাসা থেকে বের না হওয়ার নির্দেশনা আসবে। এজন্য কয়েক মাসের পণ্য কিনলাম। আমাদের দেশে সরকার যা বলে, বাজারে উল্টো হয়। রেয়াজউদ্দিন বাজারে আসা সুদীপ ব্যানার্জি একসঙ্গে দুই মাসের পেঁয়াজ, মাছ, চাল-ডালসহ নিত্যপণ্য কিনেছেন। তিনি জানান, ২০০ টাকা কেজি পেঁয়াজ আর কিনতে চাই না। দোকানপাট বন্ধ হলে খাব কী? এজন্য দরকারি সবকিছু বেশি বেশি কিনছি।

বাজারে সপ্তাহ ব্যবধানে ৪০ টাকা বেড়ে রুই মাছ প্রতি কেজি ২৬০, তেলাপিয়া ১৬০, কাতল ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে এ সপ্তাহেও ৭০০-১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে চিংড়ি ও রূপচাঁদা। মাছ বিক্রেতা মো. ছগির মিয়া জানান, সামুদ্রিক মাছ আসছে না। ভাইরাসের কারণে সরবরাহ কম থাকলেও মানুষ কিনছে বেশি। এ অবস্থা চললে দাম আকাশ ছুঁবে। ফিশারিঘাট বাজারের পাইকার ব্যবসায়ী রফিকউদ্দিন জানান, একজন একসঙ্গে ৮-১০ কেজি মাছ কিনলে দাম না বেড়ে উপায় কি?

নিত্যপণ্যের চড়া দরের মধ্যেও স্থিতিশীল সবজি। রেয়াজউদ্দিন বাজারে আগের মতোই বাঁধাকপি ও ফুলকপি প্রতি পিস ১৫ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ৩০, শসা ২০, টমেটো ২৫, শিম ৩০, গাজর ২০, ঢেঁড়স ৪০, কাঁচামরিচ ৪০, বরবটি ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, ‘বাজার এমনিতেই অস্থির। করোনাভাইরাস আতঙ্কের ফায়দা নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। এখনই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। সাধারণ মানুষেরও উচিত প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য না কেনা।’