দক্ষিণ এশিয়ায় করোনাভাইরাসের হুমকি মোকাবিলায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সার্কভুক্ত দেশের নেতাদের একসঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশ এ কনফারেন্সে যোগ দেবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। গতকাল শুক্রবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা জানান তিনি।
করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় এরই মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিএইচও) ‘বৈশ্বিক মহামারী’ ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ ছাড়াও সার্কভুক্ত আটটি দেশেই করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণ ঠেকাতে ইতিমধ্যে ভারত সব দেশের ভিসা স্থগিত করেছে। স্থলবন্দর দিয়ে আসা-যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। প্রাণঘাতী এ রোগের ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণে গতকাল টুইটারে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বসার অনুরোধ জানান মোদি। তিনি লেখেন, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে যৌথভাবে একটি শক্তিশালী কৌশল প্রণয়নের জন্য আমি সার্কভুক্ত দেশগুলোর নেতৃত্বের কাছে প্রস্তাব রাখছি। আমাদের নাগরিকদের কীভাবে সুস্থ রাখা যায়, সে বিষয়ে আমরা ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা করতে পারি। একসঙ্গে আমরা বিশ্বের সামনে একটি উদাহরণ তৈরি করতে এবং একটি স্বাস্থ্যকর গ্রহ গড়ে তুলতে অবদান রাখতে পারি।
মোদির এ টুইটের পর সন্ধ্যায় আবদুল মোমেনের বাসভবনে বৈঠক করতে যান রীভা গাঙ্গুলি। বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার করোনাভাইরাস ইস্যুতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের ভিডিও কনফারেন্সে বসার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, করোনাভাইরাস সার্কভুক্ত সব রাষ্ট্রের জন্য সমান চ্যালেঞ্জ। আমরা ভারতের উদ্যোগে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিতে আগ্রহী। এটা নিয়ে আমাদের আপত্তি নেই। সার্কের সব সদস্য রাষ্ট্র বিশেষ করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানও এ কনফারেন্সে যোগ দেবে বলে প্রত্যাশা করি আমি।
২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে দেশটির সেনা ছাউনিতে সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯তম সার্ক সম্মেলন বয়কট করে ভারত। ওই বছরের নভেম্বরে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সম্মেলনটি হওয়ার কথা ছিল। ভারতের সঙ্গে মিলে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও ভুটান এ সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার কথা জানায়। এতে গত কয়েক বছর ধরে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক এ সহযোগী সংস্থাটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।