করোনার করুণ দিনলিপি

করোনাভাইরাসের কবলে পড়ে পুরো পৃথিবীই এখন বিশৃঙ্খল। ভয়ংকর এই সময়ে অনেকে তাদের প্রিয়জনকে চিরদিনের জন্য বিদায় জানাতে বাধ্য হচ্ছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে এমন বিচ্ছেদের নানা করুণ গল্প। আবার এই সংকটে গানে গানে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও শপথ নিয়েছেন ইতালির মানুষ। লিখেছেন পরাগ মাঝি

মৃত স্বামীর পাশে দুই দিন

বোরগেসো সান্তা স্পিরিটো এলাকাটি ইতালির পশ্চিমাঞ্চলীয় সাভোনা প্রদেশের অন্তর্গত। সাম্প্রতিক সময়ে করোনাভাইরাস মহামারী আকারে ছড়াতে শুরু করলে ছোট্ট ওই শহরটি ভয়াবহ অবস্থার সম্মুখীন হয়। কোয়ারেন্টাইন করে রাখা ওই শহরটিকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ফলে ওই এলাকার বাসিন্দারা বাড়ির মধ্যেই আটকে পড়েছিলেন।

গত ৯ মার্চ থেকে টানা দুই দিন বোরগেসো সান্তা স্পিরিটো শহরের একটি ফ্ল্যাটে মৃত স্বামীর পাশে আটকে ছিলেন এক নারী। নিষেধাজ্ঞার কারণে তার বাইরে বের হওয়ারও কোনো উপায় ছিল না। আর সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো- করোনাভাইরাসের সংক্রমণেই তার স্বামীর মৃত্যু হয়। প্রতিবেশীরা ওই নারীকে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের আশায় কাঁদতে দেখেছেন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা ও সুরক্ষার কথা চিন্তা করেই কেউ তার কাছে এগিয়ে যায়নি।

স্থানীয় এক টেলিভিশনে ওই মুহূর্তটির বর্ণনা দিয়ে এক প্রতিবেশী বলেন, ‘কেউ তাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেনি। আমরা আশা করছিলাম খুব শিগগিরই হয়তো কর্র্তৃপক্ষ তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। কিন্তু আমাদের আশা দুদিন ধরে আশাই থেকে গেল।’

বোরগেসো শান্ত স্পিরিটো শহর থেকে ৪০ মাইল উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থান ইতালির বন্দর নগরী জেনোয়ার। মৃত স্বামীসহ ওই নারীর আটকে থাকা অবস্থায় জেনোয়ার মেয়র জিয়ানকার্লো কানেপা সিএনএনকে বলেছিলেন, ‘এটি সত্য যে, এক নারী তার মৃত স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে সাহায্যের আশায় বসে আছেন। কিন্তু ১১ মার্চ সকালের আগে মৃত ওই ব্যক্তিটির লাশ ওই ফ্ল্যাট থেকে সরানো সম্ভব নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমাদের ওপর অর্পিত নিরাপত্তা খসড়াগুলোকে আমাদের অনুসরণ করতে হচ্ছে।’ মেয়র এও জানান, মৃত ওই ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

৬০ বছরের দাম্পত্যের করুণ পরিণতি

৮৬ বছরের লুইজি ক্যারেরা ও ৮২ বছরের স্যাভেরা বেলোত্তি গত ৬০ বছর ধরে এক সঙ্গেই ছিলেন। তাদের ছিল এক পুত্র আর এক কন্যা সন্তান। ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় বারগেমো প্রদেশের আলবিনো শহরেই ছিল তাদের গোছানো ছিমছাম সুখের সংসার। কিন্তু এই শহরেও মারাত্মকভাবে হানা দেয় করোনাভাইরাস। ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেয় দুজনের শরীরেই এবং নিঃসঙ্গ অবস্থায় দুজনেরই মৃত্যু ঘটে। কারণ তাদের দুঃসহ সেই সময়টিতে দুই সন্তানের কেউই তাদের কাছে ছিলেন না।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোকে লুইজি ও স্যাভেরা দম্পতির পুত্র লুকা ক্যারেরা জানান, শরীরে জ্বর নিয়ে কোনো প্রকার চিকিৎসা সহযোগিতা ছাড়াই ৮ দিন ধরে বাড়ির ভেতর আটকে ছিলেন তার বাবা-মা। অবসরের আগে তার বাবা লুইজি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। গত ৭ মার্চ তাকে বারগেমো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আর তার মা স্যাভেরা ছিলেন একজন গৃহিণী। বারগেমো হাসপাতালেই ৮ মার্চ তাকে ভর্তি করা হয়। কিন্তু ১০ মার্চ লুইজি ও স্যাভেরা দুজনেরই মৃত্যু ঘটে দুই ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে। এর মধ্যে সকাল সোয়া ৯টায় মৃত্যু হয় লুইগির এবং সকাল ১১টায় তার পথ অনুসরণ করেন স্যাভেরা বেলোত্তি।

খুব দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে লুকা ক্যারেরা এও জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর মুহূর্তে তিনি তার বাবা-মায়ের কাছে ছিলেন না।

বারগেমোর একটি পানি সরবরাহ কোম্পানিতে কাজ করেন লুকা। তিনি বলেন, ‘আপনার প্রিয় কেউ নিঃসঙ্গ অবস্থায় মরে যাচ্ছে, আপনি তাকে বিদায় জানাতে বা জড়িয়ে ধরতে পারেননি কিংবা মিথ্যে করে বলতেও পারেননি যে, সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে...।’ বাবা-মায়ের দুঃসময়ের মুহূর্তে দুই সন্তান এবং স্ত্রী-সহ লুকা ক্যারেরাও কোয়ান্টোইন অবস্থায় তার গৃহে অবস্থান করছিলেন। তিনি জানান, তার বাবা-মা এমন একটি এলাকায় আটকে পড়েছিলেন যে, তাদের আশপাশে কোনো ডাক্তারও ছিলেন না। বাবা-মা’কে সাহায্য করার জন্য লুকা বেশ কয়েকবারই জরুরি সেবা পাওয়ার জন্য নির্ধারিত ‘১১২’ নম্বরে কল করেছিলেন। কিন্তু কেউই ওই বৃদ্ধ দম্পতিকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেনি। বেঁচে থাকার জন্য তারা নিজেরাই আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।

লুকা অভিযোগ করেন, বারগেমোর যে হাসপাতালটিতে তার বাবা-মা’কে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেই পাপা জুয়ান হাসপাতালটি প্রচ- বিশৃঙ্খল অবস্থায় আছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হাসপাতালের কর্মীরা বুঝে উঠতে পারছেন না কীভাবে তারা রোগীদের সেবা দেবেন। আর অপেক্ষাকৃত বয়স্ক ব্যক্তিদের বাঁচিয়ে রাখার ক্ষেত্রে তারা খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এমন অবস্থায় অনেকটা অসহায়ের মতোই নীরবে নিভৃতে মৃত্যুকে বরণ করে নেন লুইজি ও স্যাভেরা দম্পতি।

বাবা-মায়ের শেষকৃত্যও করতে পারেননি লুকা ক্যারেরা। কেবল ফেইসবুকে মৃত বাবা-মায়ের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, ‘হ্যালো, প্রিয় মা আর বাবা, এই দানব ভাইরাস একই দিনে তোমাদের কেড়ে নিয়েছে। স্বর্গে গিয়েও তোমরা আর খুনসুটি কোরো না।’

লুকা দাবি করেন, তার বাবার বয়স ৮৬ বছর হলেও তিনি শারীরিকভাবে খুব সামর্থ্যবান ছিলেন। তার বাবা-মা দুজনের কারোরই বড় কোনো অসুখের ইতিহাস ছিল না।

মার্কিন দম্পতির করোনা বিচ্ছেদ

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ফলে ৮৯ বছরের জেন ক্যাম্পবেল এখন ওয়াশিংটনের কির্কল্যান্ডে অবস্থিত একটি লাইফ কেয়ার সেন্টারে আইসোলেশন অবস্থা পাড়ি দিচ্ছেন। এখানে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন করোনা সংক্রামিত মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। এমন অবস্থায় ক্যাম্পবেলের স্ত্রী ৮৮ বছরের ডরোথিকে কিছুতেই হাসপাতালটির কাছ থেকে সরানো যাচ্ছে না। তাদের আত্মীয়রাও খুব বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েছেন। কারণ শহর কর্র্তৃপক্ষ ভাইরাসটির সংক্রমণ ঠেকাতে কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে নিকটাত্মীয়দের সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করেছে। ফলে ক্যাম্পবেলের কাছে যাওয়ার ক্ষেত্রে ডরোথিকেও নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু ডরোথি হাসপাতালটির একটি জানালার পাশে গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে গত ৬ মার্চে প্রকাশিত কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, কির্কল্যান্ডের লাইফ কেয়ার সেন্টারটির জানালার কাচের ভেতরে ক্যাম্পবেল আর বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন ডরোথি। তারা একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণে মৃত ইতালিয়ান বয়স্ক দম্পতির মতো তারাও ৬০ বছর ধরে সংসার করছিলেন। কিন্তু করোনাভাইরাস তাদের মধ্যে এমন বিচ্ছেদের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। ডরোথির সঙ্গে এসময় তার ছেলে শার্লিও ছিলেন। আর ছিলেন একজন নার্স। বাধ্য হয়ে কর্র্তৃপক্ষ ক্যাম্পবেল ও ডরোথির কাছে ফোন সরবরাহ করেছে যেন তারা কাচের এপাশ ওপাশ থেকে কথা বলতে পারেন।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ অঙ্গরাজ্যেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশটিতে ২ হাজার ৩২৯ জনের শরীরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এই সময়ের মধ্যে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ওয়াশিংটনে কির্কল্যান্ডের লাইফ কেয়ার সেন্টারকে ঘিরে অনেকে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন। তাদের কেউ কেউ দাবি করেন, হাসপাতালটির ভেতরে তাদের প্রিয়জনরা কীভাবে আছেন সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ধারণা দিতে পারছে না কর্র্তৃপক্ষ। তাদের একজনকে হাসপাতাল থেকে ফোন করে জানানো হয়, তার মায়ের মৃত্যু ঘটেছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আরেক কর্মী জানান, তার মা ভালো আছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠছেন।

গান গেয়ে দুঃসহ সময় পাড়ি

করোনাভাইরাস ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ার ফলে সমগ্র ইতালিতেই এখন কোয়ারেন্টাইন অবস্থা জারি করা হয়েছে। ফলে পুরো দেশটিই এখন থমকে গেছে। নাগরিকরা বাড়ির ভেতরেই অবস্থান করছেন। একঘেয়ে বন্দি জীবনকে অনুপ্রাণিত করার জন্য সম্প্রতি তারা একটি ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছেন। জানা গেছে, গত ১৩ মার্চ কোয়ারেন্টাইনে থাকা ইতালিয়ানরা তাদের বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত ও ফুটবলের অনুপ্রেরণাদায়ক কয়েকটি গান সমস্বরে গেয়েছেন। কোনো একটি শহর নয়, বরং সেদিন পুরো ইতালিজুড়েই এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তারা নিজেরা অনুপ্রাণিত হওয়ার পাশাপাশি একে অন্যকে অনুপ্রাণিত করার প্রয়াস চালাচ্ছেন।

গান গাওয়া কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইতালির মিলান শহরে দেখা যায়, বিখ্যাত অপেরা গায়িকা লরা বালদাসারিও তার বাড়ির জানালায় দাঁড়িয়ে গলা মেলাচ্ছেন। কেউ কেউ সপরিবারে বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গান গেয়েছেন। অনেকেই সংগীতের নানা সরঞ্জাম নিয়েও পারফর্ম করেছেন। এসব সরঞ্জামের মধ্যে কারও কাছে ছিল গিটার, কারও হাতে ছিল বীণা, কেউ বাঁশিও বাজিয়েছেন। একজনকে দেখা যায়, তিনি রান্নাঘরের বাসন-কোসন নিয়েই তাল দিয়ে যাচ্ছেন। মনকে চাঙ্গা রাখতেই তারা দেশজুড়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওই সংগীত আয়োজনে যোগ দেন।

এ ধরনের আয়োজন গত ১২ মার্চ ইতালির নেপলসেও অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন সন্ধ্যায় শহরের বাসিন্দারা সমস্বরে গেয়ে ওঠেন ফুটবলের সেই অনুপ্রেরণাদায়ক গান- ‘উই উইল নেভার গিভ আপৃ।’ পরের দিনও তারা একই আয়োজন করেন। সমস্বরে তারা ভয়াবহ করোনাভাইরাসকে বিদায় হওয়ার আহ্বান জানান।

একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, নেপলসের বাসিন্দারা গেয়ে চলেছেন ‘উই উইল স্টে এট হোম। দ্য পিপল নেভার গিভ আপ, সো কাম অন নেপলস!’

ফেইসবুকে এই ভিডিওটি পোস্ট করেছিলেন সুসি ইউনিকা নামে এক ইতালিয়ান নারী। তার ওই ভিডিওটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। এক রাতের মধ্যেই ওই ভিডিওটি ১৫ হাজারবার শেয়ার করা হয়। অবরুদ্ধ ওই শহরের বাসিন্দারা তাদের স্থানীয় ফুটবল ক্লাব ‘সোসিয়েত্তা স্পোর্টিভা ক্যালসিও ন্যাপলি’র একটি গানও কোরাসের সঙ্গে গান। ইতালির প্রথম সারির এই ক্লাবটিকে দেশটির সিরি-এ লিগেও নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। গানে গানে তারা জানায়, ‘আমাদের মতো মানুষেরা কখনো ছেড়ে কথা কইব না। আমাদের মতো মানুষেরা.../ জেগে ওঠো ইতালি, জেগে ওঠো নেপলস/ চিরদিনের জন্য, আমরা এক হলাম আজ।’ তারা আরও গায়- ‘বেরিয়ে আসো তোমার বারান্দায়। বেরিয়ে আসো.. /আমাদের মুখোমুখি এই ভাইরাস কখনো আমাদের পরাজিত করতে পারবে না।’

নেপলসের মতো অন্যান্য শহরের বাসিন্দারাও তাদের স্থানীয় ফুটবল দলগুলোর গান গেয়েছেন। ইতালির তুসকানি প্রদেশের সিয়েনা শহরেও এমন দৃশ্য দেখা গেছে। তারা গেয়েছেন, ‘সিয়েনা যখন ঘুমিয়ে থাকে...’ শিরোনামে একটি গান।

ইতালির উত্তরাঞ্চলে করোনাভাইরাসের বিপুল সংক্রমণ ছড়ালেও দক্ষিণের প্রদেশ নেপলসে ততটা ছড়ায়নি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এই প্রদেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ৯৫ জন। তারপরও ইতালিয়ান সরকারের পক্ষ থেকে ওই প্রদেশের সব নাগরিককে বাড়ির ভেতরেই অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

১৩ মার্চ পর্যন্ত ইতালিতে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৬৬০ জন। আর এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে অন্তত ১ হাজার ২৬৬ জন। করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের পরই ক্ষয়ক্ষতির দিক দিয়ে এগিয়ে আছে ইতালি।

উত্তর ইতালির লম্বারদি অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন। ইতালিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের ৫৫ শতাংশ এবং এই ভাইরাসে মৃত মানুষের ৭০ ভাগই এই অঞ্চলের। যদিও পুরো দেশকেই কোয়ারেন্টাইনের আওতায় নিয়ে এসেছে ইতালির সরকার। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব দোকানপাট, রেস্তোরাঁ, গণপরিবহন। এই কোয়ারেন্টাইনের অংশ হিসেবে দেশটির ৬ কোটিরও বেশি মানুষ এখন নিজ নিজ গৃহে অবস্থান করছেন। নিতান্ত প্রয়োজন না হলে গৃহত্যাগ করা তাদের জন্য নিষিদ্ধ। এসব প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছে নির্ধারিত কিছু স্থান থেকে গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় নানা পণ্য সংগ্রহ করা কিংবা স্বাস্থ্যসম্পর্কিত কোনো প্রয়োজন কিংবা শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ কোনো সেবার প্রয়োজন।