রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় ঝুটপট্টির গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন গোডাউনের আশপাশের তিনটি ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে বিকেল ৫টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নেভাতে গিয়ে মো. হোসাইন (২২) ও ইসরাফিল (২০) নামে দুজন আহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ঝুটপট্টিতে কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিমা খানম বলেন, ‘শনিবার দুপুর ১টা ২৫ মিনিটের দিকে ঝুটপট্টির গোডাউনে আগুন লাগে। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ শুরু করে। পরে আরও দুটি ইউনিট যুক্ত হয়। ১২টি ইউনিটের দুই ঘণ্টার চেষ্টায় দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বিকেল ৫টায় আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা সম্ভব হয়। আগুন কীভাবে লেগেছে তা এখনো জানা যায়নি। তিনি বলেন, ‘আগুনে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে আগুন নেভাতে গিয়ে হোসাইন ও ইসরাফিল নামে স্থানীয় দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন। হোসাইনকে মিরপুরের অলক হাসপাতাল ও ইসরাফিলকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
খান গার্মেন্টসের মালিক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘দুপুরে খাবার বিরতি থাকায় গার্মেন্টসের অধিকাংশ শ্রমিক বাইরে ছিলেন। যারা ভেতরে ছিলেন আগুন দেখে তারাও বেরিয়ে যান। অগ্নিকাণ্ডে গার্মেন্টসের বেশকিছু যন্ত্রপাতি ও মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’ স্থানীয়রা জানান, ঝুটপট্টি থেকে আগুনের ফুলকি উড়ে পাশের ভবনগুলোতে গেছে। এরপর ওই ভবনগুলোতেও আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান আগুন নিয়ন্ত্রণের পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঝুটপট্টির গোডাউন থেকে আগুন পাশের তিনটি ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ভবনে প্রবেশ করার মতো পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না। এছাড়া ঝুট থাকায় আগুন নেভানো একটু কঠিন ছিল। ঝুটপট্টির সামনে রয়েছে খান গার্মেন্টস (৬ তলা ভবন)। এর পাশে রয়েছে ঝুটের গোডাউন (দোতলা ভবন)। ভবনগুলোতে এককভাবে ঢোকার পথ ছিল না। খান গার্মেন্টসের নিচ থেকে চারতলা পর্যন্ত আগুন ছিল।’ ঝুটপট্টি ও পাশের ভবন তিনটিতে কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না বলেও জানান জিল্লুর রহমান।
তিনি আরও বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন স্টেশনের পাশাপাশি পুলিশ, ওয়াসা, র্যাব, আনসার ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কাজ করেছে। আগুন লাগার কারণ তদন্তের জন্য ফায়ার অ্যান্ড ডিফেন্স সার্ভিস চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ পল্লবী থানার ওসি (তদন্ত) মো. আবদুল মাবুদ বলেন, ‘ঝুটের কারখানার গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত। এতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।’ এর আগে গত বুধবার মিরপুরের রূপনগর বস্তিতে ভয়াবহ আগুন লাগে। এতে দুই হাজারের বেশি ঘর পুড়ে যায়।