করোনা আতঙ্কে শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৭ মার্চের আয়োজন নিয়ে সিদ্ধান্ত আজ

করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের মধ্যেও দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রাখায় উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।  তারা বলছেন, সরকারের উচিত এখনই স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেওয়া। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলেও চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এ পরিস্থিতিতে ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকীর দিন জাতীয় শিশু দিবস ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা

দিবসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়োজনসহ সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য আজ রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও দুই বিভাগের সচিব মাধ্যমিক ও শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ও শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। এ বৈঠকেই এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন মাউশির একাধিক কর্মকর্তা।

এর আগে ১১ মার্চ এক চিঠিতে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সব ধরনের সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও জনসমাগম হয়Ñএমন অনুষ্ঠানের আয়োজন থেকে বিরত থাকতে বলেছে মাউশি। ওই চিঠিতে ১৭ মার্চের আয়োজন নিয়ে কোনো দিকনির্দেশনা নেই। ফলে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দিবসটি উদযাপনের জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

জাতীয় শিশু দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে ছুটি থাকলেও প্রতি বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশু সমাবেশ, আনন্দ শোভাযাত্রা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর আয়োজনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। তবে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) বলছে, দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। এর সূত্র ধরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ইতিমধ্যে বলেছেন, ‘নিয়মিত বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। স্কুল বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।’

এবার ১৭ মার্চে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আয়োজন জানতে চাইলে রাজধানী ঢাকা ও বাইরের মাধ্যমিক ও প্রাথমিক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা বলেন, প্রতি বছর যে ধরনের আয়োজন করা হয় এবার সেটা হবে না। সামান্য কিছু আয়োজন থাকবে। তারা আপাতত মাউশির নির্দেশনা অনুসরণ করছেন। রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাজু আহমেদ বলেন, ‘মাউশি সর্বশেষ আমাদের যে নির্দেশনা দিয়েছে, সেটাই মেনে চলার জন্য স্কুল কর্র্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।’

গতকাল কয়েকজন অভিভাবক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ক্রমেই দেশে করোনাভাইরাস সন্দেহে কোয়ারেন্টাইনের সংখ্যা বাড়ছে। আমরাও আমাদের সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত। আতঙ্কের মধ্যে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে হচ্ছে। অনেকেই স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এভাবে আর কত দিন আতঙ্কে থাকব? সরকারের উচিত স্কুল বন্ধ করে দেওয়া।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘করোনাভাইরাস থেকে আমাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাখতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। স্কুলে সব ধরনের আয়োজন থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। তারপর যদি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার উপক্রম হয় তাহলে বন্ধ ঘোষণা করা হবে।’ এবার ১৭ মার্চের আয়োজন ছোট পরিসরে হতে পারে বলেও জানান তিনি।

মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক বেলাল হোসেন বলেন, ‘মাউশি থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তবে আগামীকাল (আজ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে।  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ১৭ মার্চের আয়োজন হবে কি না, হলেও কেমন পরিসরে হবে, নাকি স্কুল বন্ধ ঘোষণা হবে তা জানা যাবে এই বৈঠক শেষেই। এখানে সব বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে।’