মাইক্রোসফটের বোর্ড ছাড়ছেন বিল গেটস

মাইক্রোসফট করপোরেশপন পরিচালনা পর্ষদে থাকছেন না বিল গেটস। জনসেবায় বাড়তি সময় দিতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৬৪ বছর বয়সী ধনকুবের। তিনি বলেছেন, এখন বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন, শিক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চান।

বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, মাইক্রোসফটের পাশাপাশি অন্যতম ধনী ওয়ারেন বাফেটের বার্কশায়ার হাথাওয়ের পরিচালনা পর্ষদ থেকেও সরে দাঁড়াচ্ছেন বিল গেটস। এর মধ্য দিয়ে মাইক্রোসফটে এক যুগ ধরে দৈনন্দিন কাজে তার ভূমিকার অবসান ঘটবে। তবে তিনি বলেছেন, এই কোম্পানি তার জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে। এর নেতৃত্বে যারা থাকবেন তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবেন। বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, জীবনের দ্বিতীয় পর্বে প্রবেশের সুযোগ নিতে চাই, সেখানে বন্ধুত্ব ও অংশীদারত্ব থাকবেÑ এটা আমার জীবনে সবচেয়ে অর্থপূর্ণ। এই দুই কোম্পানিতে আমার যতটুকু অবদান রাখা সম্ভব তা রেখে যাব, এ কোম্পানি দুটির জন্য আমি গর্বিত।

এক বিবৃতিতে মাইক্রোসফটও জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সত্য নাদেলাসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রযুক্তি উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করবেন গেটস। ২০০৪ সালে বার্কশায়ার হাথাওয়ের পর্ষদ সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।

ব্লুমবার্গ বিলিওনেয়ার ইনডেক্স অনুযায়ী, ১০ হাজার কোটি বেশি সম্পদ নিয়ে বিশে^র দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী বিল গেটস। শীর্ষ ধনকুবেরের তালিকায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের পরেই তার অবস্থান। বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বৈশি^ক স্বাস্থ্য, শিল্প উন্নয়ন ও শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন তিনি। ২০১৪ সালে মাইক্রোসফট পর্ষদের প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ান গেটস।

পারসোনাল কম্পিউটারের জন্য সফটওয়্যার তৈরি করে সম্পদ অর্জন করেছেন তিনি। তরুণ বয়সে বন্ধু পল অ্যালেনকে নিয়ে নিউ মেক্সিকোতে প্রতিষ্ঠান করেন মাইক্রোসফট। ২০১৮ সালে মারা গেছেন পল অ্যালেন। ১৯৮০ সালে বড় সুযোগ আসে মাইক্রোসফটের জন্য। ওই বছর একটি অপারেটিং সিস্টেম তৈরির জন্য মাইক্রোসফট চুক্তিদ্ধ হয় আইবিএমের সঙ্গে। ১৯৮৬ সালে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয় মাইক্রোসফট। সেই সুবাদে মাত্র ৩১ বছর বয়সে বিল গেটস হয়ে যান স্বনির্মিত বিলিওনেয়ার।