মুজিববর্ষে ভ্যাট নিবন্ধনের সংখ্যা ৩ লাখে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ লক্ষ্যে ১২টি ভ্যাট কমিশনারেটকে নতুন ভ্যাটদাতা শনাক্তকরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী নতুন ভ্যাটদাতা খোঁজার কাজ শুরু করেছে কমিশনারেটগুলো।
বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে সারা দেশে ভ্যাট নিবন্ধনের সংখ্যা দেড় লাখ। আগামী এক বছরে অর্থাৎ ২০২১ সালের ১৭ মার্চের মধ্যে এই সংখ্যা ৩ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রাজস্ব প্রশাসনের। গতকাল যশোর ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘এনবিআরের নির্দেশ পেয়ে ইতিমধ্যে আমরা নতুন ভ্যাটদাতা শনাক্তকরণের জন্য ভ্যাট জরিপ শুরু করেছি। ভ্যাট কর্মকর্তারা বিভিন্ন শপিং মল বা মার্কেট পরিদর্শন করছেন। যেসব ব্যবসায়ী এখনো নিবন্ধিত হননি, তাদের নিবন্ধন গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করছি।’
যশোর কমিশনারেটের আওতায় ৫ হাজার নতুন ভ্যাটদাতা শনাক্তকরণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
জাকির হোসেন আরও জানান, যশোর ভ্যাট কমিশনারেটের কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের কাছে গিয়ে নিবন্ধন গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে ভ্যাট নিবন্ধন প্রদানের ব্যবস্থা করছে। এতে ব্যবসায়ীরা সহজে নিবন্ধন নিতে পারছেন।
তিনি বলেন, নতুন ভ্যাটদাতা শনাক্তকরণের জন্য প্রতিটি কমিশনারেটকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে এনবিআর। মূলত ভ্যাটনেট সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করাই এর মূল উদ্দেশ্য বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘এখনো বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী ভ্যাট দিচ্ছেন না। তাই বিদ্যমান দেড় লাখ ভ্যাট নিবন্ধনকে ৩ লাখে উন্নীত করা খুব বেশি কঠিন কাজ নয়। আশা করি প্রতিটি কমিশনারেট উদ্ভাবনী কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের ভ্যাটনেটের আওতায় আনতে পারবে।’ তিনি মনে করেন যেসব ব্যবসায়ীর নিবন্ধন নেই বা ভ্যাট দিচ্ছেন না, তাদের ভ্যাটনেটের আওতায় আনা ছাড়া রাজস্ব আয় বাড়ানো কোনভাবেই সম্ভব নয়।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে এনবিআর ভ্যাট দাখিলপত্র দাখিলের হার ৮০ শতাংশে উন্নীতকরণ, ২ লাখ ইএফডি ও ৫০০ এসডিসি স্থাপন, ৫ কোটি ও তদুর্ধ্ব টার্নওভারযুক্ত প্রতিষ্ঠানে সফটওয়্যার ব্যবহার, উন্নত করবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, ভ্যাট সংক্রান্ত প্রচার-প্রচারণা চালানো, অনলাইনে দাখিলপত্র দাখিলের হার ৬০ শতাংশে উন্নীতকরণ এবং সঠিকভাবে ভ্যাট দাখিলের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের কলমে প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে।