বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন ও ৫ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত দুয়েক দিন পর নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর কেক কেটে বেরিয়ে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২১ মার্চ ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪ আসনে এবং ২৯ মার্চ চসিক, বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনে ভোট হওয়ার কথা।
করোনার কারণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে এবং ভারতও তাদের সব নির্বাচন বাতিল করে দিয়েছে। এ অবস্থায় চসিক ও ৫ সংসদীয় আসনের নির্বাচন বন্ধ হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা নির্বাচন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিইনি। আরও দু-একটা দিন দেখি। কারণ, নির্বাচনের তো ব্যাপক প্রস্তুতি এবং তা শেষের দিকে।’
প্রার্থীদের প্রসঙ্গ টেনে নূরুল হুদা বলেন, ‘তারা বলছেন সাবধানে নির্বাচনী প্রচার করবেন। কিন্তু নির্বাচন যেন বন্ধ না হয়ে যায়। তাদের অনুরোধ আছে।’ ভোটের প্রচারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি যেন বিকল্পভাবে তারা ভোটারদের কাছে ভোট চান, জনসমাগম না করেন। তাই যদি হয়, তাহলে কোনো অসুবিধা নাই। কারণ আমাদের তো জীবনের সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। করোনার কারণে কোথাও কোথাও সীমিত হয়েছে। সীমিত আকারেই করব।’
আরেক প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘২১ তারিখের নির্বাচন করার চিন্তা আছে এখনো। যদি পরিস্থিতি একেবারেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন অবশ্যই আমরা বিবেচনা করব। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা চাচ্ছি, নির্বাচনটা হয়ে যাক।’ চসিকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনো বিবেচনা করা হয় নাই। এটা নিয়েও আমরা চিন্তা করব। পরিস্থিতি আরেকটু দেখি।’
ভোটের দিন তো মাঠে অনেকে থাকবে; পশ্চিমবঙ্গে ভোট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভোট বড় না আমাদের জীবন বড়? এমন প্রশ্নে নূরুল হুদা বলেন, ‘করোনা কতখানি এফেক্ট করবে, সেটা আমরা বিশ্লেষণ করতে চাচ্ছি। আমি তো চলাচল করি, হাটে যাই, বাজারে যাই, নামাজে যাই, অফিসে যাইÑ এগুলো তো বন্ধ হয় নাই। তবুও আমরা আরও একটা-দুইটা দিন দেখব। তখন সবগুলো নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’