শ্রদ্ধা প্রার্থনায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ পালন আ.লীগের

মুজিববর্ষ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। গতকাল সকাল ৭টা ৮ মিনিটে ধানমণ্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। প্রথমে সরকারপ্রধান হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা। পরে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলের নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে দলীয় শীর্ষ নেতা ছাড়াও তার বোন শেখ রেহানা ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন, বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থা প্রধান, দেশের বিশিষ্টজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ’৭৫ সালের পরে যারা জাতির পিতার নাম মুছে ফেলতে চেয়েছিল, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের নাম একদিন মুছে যাবে। তারা আজ নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে।

কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলেছে। আরও এগিয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে এসে আমরা নতুন করে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা কায়েম করবই।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি। দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, মাদক, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলে মুজিববর্ষে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা আজ নতুন করে শপথ নিচ্ছি উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার।

এদিকে দিনটি উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বনানী করাইল বস্তি এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে এতিম ও দুস্থদের মধ্যে খাবার ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়। সারা দেশের মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনা সভা করা হয়।

এছাড়া গতকাল সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল সোয়া ১০টার পর বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। জাতির পিতার স্মরণে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল সশস্ত্র সালাম জানায়। এরপর বঙ্গবন্ধুর আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। রাষ্ট্রপতি সেখানে রাখা পরিদর্শন বইতে মন্তব্য লিখে স্বাক্ষর করেন। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে ছোট বোন শেখ রেহানা ও দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন, শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আমির হোসেন আমু, মুহাম্মদ ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, হাসান মাহামুদ, ড. আব্দুর রাজ্জাক, আকম মোজাম্মেল হক, আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডা. দীপু মনি, মতিয়া চৌধুরী, জুনায়েদ আহম্মেদ পলক, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, শেখ হেলালউদ্দিন, শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল, শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, বাহাউদ্দিন নাসিম, শেখ সারহান নাসের তন্ময়, নুরে-আলম চৌধুরীসহ অনেকে।

এদিকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বেলা আড়াইটার দিকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় সমাধিসৌধ এলাকা। যে যেভাবে পেরেছেনে হৃদয়ছোঁয়া ভালোবাসা জানিয়েছেন মুজিব ভক্তরা। নড়াইল, বাগেরহাট, মাদারীপুর, পিরোজপুর, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুজিব ভক্তরা বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে ছুটে আসেন। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ, জেলার অন্যান্য উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন জাতির পিতার সমাধিসৌধের বেদিতে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ বেদি ফুলে ফুলে ভরে ওঠে।