করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেই দুজনকে একই বিমানে করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাদের একজন যুক্তরাষ্ট্রের ও আরেকজন আইভরি কোস্টের নাগরিক। এদিকে সৌদি আরবে আটকেপড়া ২৯৯ ওমরাহ হজযাত্রীসহ ৪০৯ জনকে বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরিয়ে এনেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
গতকাল সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল-আহসান জানান, ৩১ মার্চ পর্যন্ত অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ করেছে। এ দুই নাগরিক গতকাল দেশে এলেও তাদের কাছে কোনো ভিসা ছিল না। তারা যে বিমানে এসেছে সে বিমানেই তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ১৬ মার্চ দুপুর ১২টার পর থেকে যুক্তরাজ্য ছাড়া ইউরোপের কোনো যাত্রী বাংলাদেশে আসা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সব দেশের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা বাতিল করা হয়েছে। করোনা আক্রান্ত কোনো দেশ থেকে বাংলাদেশি কেউ এলে সেলফ কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। আমরা এসব বিষয় বাস্তবায়ন করেছি। এসব বিষয়ে সব বিমানবন্দর ও এয়ারলাইনসকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, বিমানবন্দরের সার্বিক অবস্থা ভালো। কোনো থার্মাল স্ক্যানার নষ্ট হয়নি। অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো আছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক কর্মকর্তা জানান, করোনাভাইরাসের কারণে আজ ১৮ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশসহ প্রায় সব দেশের বিমান যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।
৪০৯ যাত্রী নিয়ে এলো বিমান : সৌদিতে আটকে পড়া ২৯৯ ওমরাহ হজযাত্রীসহ ৪০৯ জনকে নিয়ে গতকাল দেশে এসেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বিকেল ৪টার দিকে তাদের বহনকারী বিশেষ ফ্লাইটটি (বিজি-২৩৬) বিমানবন্দরে অবতরণ করে বলে জানান সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. মোকাব্বির হোসেন। তিনি বলেন, যাত্রীদের আনতে ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২৮ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কারও মধ্যে করোনার লক্ষণ-উপসর্গ পাওয়া যায়নি। পরে ইমিগ্রেশন শেষে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। গত ১৫ মার্চ থেকে রিয়াদ, দাম্মাম, জেদ্দা ও মদিনায় বিমানের সব ধরনের ফ্লাইট বন্ধ রাখে ওই দেশের সরকার। আগামী দুই সপ্তাহ এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। এ সময়ের মধ্যে কেউ দেশে ফিরতে পারবেন না। আর এ কারণে ওমরাহযাত্রীদের আনতে বিশেষ ফ্লাইট পাঠানো হয়।