কভিড-১৯

বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত ২ লাখ ছাড়াল মৃত ৮৮৮৫

নভেল করোনাভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯ এ বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ১৫ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৮ হাজারের ঘর। ডিসেম্বরের শেষদিকে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটি উৎসস্থলে নিয়ন্ত্রণে এলেও  ইতালি, ইরান, স্পেন ও জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইউরোপে পর্যটক ঢোকায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রুখতে দুই দেশের মধ্যকার সীমান্তে লাগাম টানতে রাজি হয়েছেন। প্রয়োজনীয় নয় এমন সব ভ্রমণের ক্ষেত্রে সীমান্তটি বন্ধ থাকবে, দুই দেশের কর্র্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ভারতীয় সেনাবাহিনীতেও ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। লাদাখের রাজধানী লেহ-তে মোতায়েন এক সেনার শরীরে কভিড-১৯ ভাইরাস ধরা পড়েছে। ৩৪ বছর বয়সী ওই জওয়ানের বাবা সম্প্রতি ইরান থেকে বাড়ি ফেরেন।

নভেল করোনাভাইরাস বাতাসে কয়েক ঘণ্টা ও কোনো কিছুর উপরিভাগে কয়েক দিন পর্যন্ত সংক্রামক হিসেবে কার্যকর থাকতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি এক গবেষণায় উঠে এসেছে। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধীন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের (এনআইএআইডি) বিজ্ঞানীরা গবেষণাটি চালান বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আক্রান্ত দেশগুলোর স্বাস্থ্য কর্র্তৃপক্ষের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, ভাইরাসটির কারণে সৃষ্ট রোগ কভিড-১৯ এ মৃতের সংখ্যাও ৮ হাজার ৮৮৫ জন পেরিয়েছে। আক্রান্ত সংখ্যায় চীনের পরই ইতালি, ইরান, স্পেন ও জার্মানির অবস্থান। বুধবার রাত পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ২ লাখ ১৫ হাজার ১৭৭ জনের দেহে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে সেরে উঠেছেন ৮৪ হাজার ৩১৪ জন। চিকিৎসাধীন ১ লাখ ২১ হাজার ৯৭৮ জনের মধ্যে সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন ৬ হাজার ৬৩৬ জন।

আক্রান্তদের মধ্যে চীনের অবস্থান এখনো সবার উপরে। দেশটিতে গত কয়েক সপ্তাহে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে এলেও এখন পর্যন্ত ৮০ হাজার ৮৯৪ জনের দেহে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ২৩৭ জনের। সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ৬৯ হাজার ৬১৪ জন। চিকিৎসাধীন ৮ হাজার ৪৩ জনের মধ্যে সংকটাপন্ন ২ হাজার ৬২২ জন।

চীনের পর কভিড-১৯ ইতালি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার ৭১৩ ছাড়িয়ে গেছে। মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৯৭৮ জনের। সেরে উঠেছেন ৪ হাজারেরও বেশি। ২৮ হাজার ৭১০ চিকিৎসাধীনের মধ্যে বিপজ্জনক অবস্থায় আছেন আরও ২ হাজার ২৫৭ জন। দেশটিতে আক্রান্তদের মধ্যে ৮ দশমিক ৩ শতাংশই স্বাস্থ্যকর্মী। ইরানে আক্রান্তের সংখ্যা শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৭ হাজার ৩৬১; মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২০০ ছুঁইছুঁই। স্পেনে একদিনে ২ হাজার ৮৪ নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার পর দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ হাজারের কাছে পৌঁছে গেছে।  দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৬২৩।

মৃত্যু সংখ্যা বিবেচনায় এরপরের অবস্থানগুলো যথাক্রমে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, জাপান ও জার্মানির। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুক্রবার থেকে স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের সব স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বিশ্বজুড়ে মহামারী রূপে ছড়িয়ে পড়া উচ্চমাত্রার সংক্রামক নভেল করোনাভাইরাস বাতাসে কয়েক ঘণ্টা ও কোনো কিছুর উপরিভাগে কয়েক দিন পর্যন্ত সংক্রামক হিসেবে কার্যকর থাকতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি এক গবেষণায় উঠে এসেছে। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধীন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের (এনআইএআইডি) বিজ্ঞানীরা গবেষণাটি চালান বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনটি গত মঙ্গলবার নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, হাঁচি বা কাশির তরল ফোঁটায় বাহিত হলে অ্যারোসলের মধ্যে নতুন করোনাভাইরাস অন্তত তিন ঘণ্টা কার্যকর থাকে। প্লাস্টিক ও স্টেইনলেস স্টিলে তিন দিন পরও ভাইরাসটিকে কার্যকর অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে কার্ডবোর্ডে ২৪ ঘণ্টা পরে ভাইরাসটিকে কার্যকর পাওয়া যায়নি। আর তামার মধ্যে নতুন করোনাভাইরাস অকার্যকর হতে ৪ ঘণ্টা লেগেছে।

গবেষক দলের নেতৃত্বে থাকা এনআইএআইডির রকি মাউন্টেইন ল্যাবরেটরির নিল্ট্জ ভ্যান ডোরেমালেনের মতে, তৃতীয় ঘণ্টার পর কার্যকর ভাইরাসের পরিমাণ দাঁড়ায় সাড়ে ১২ শতাংশ। আর স্টেইনলেস স্টিলে ভাইরাসটির অর্ধেক কার্যকারিতা হারাতে ৫ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট এবং প্লাস্টিকে ৬ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট সময় লেগেছে বলে গবেষকরা দেখেছেন।