মাত্র ১৫ মিনিটে করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) শনাক্তের পদ্ধতি উদ্ভাবনের দাবি করেছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, মাত্র ৩৫০ টাকা খরচে করোনা শনাক্তের এ পদ্ধতির নাম দেওয়া হয়েছে ‘র্যাপিড ডট ব্লট’। ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে ড. নিহাদ আদনান, ড. মোহাম্মদ রাশেদ জমিরউদ্দিন ও ড. ফিরোজ আহমেদ এ পদ্ধতিটি উদ্ভাবন করেছেন।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘ব্লাড গ্রুপ যে পদ্ধতিতে চিহ্নিত করা হয় এটা মোটামুটি সে রকমের একটি পদ্ধতি। ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাস সংক্রমণের সময় বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল সিঙ্গাপুর গবেষণাগারে কয়েকজন সহকারীকে নিয়ে সার্স ভাইরাস দ্রুত নির্ণয়ের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। ‘র্যাপিড ডট ব্লট’ পদ্ধতিটি ড. বিজন কুমার শীলের নামে পেটেন্ট করা। পরে এটি চীন সরকার কিনে নেয় এবং সফলভাবে সার্স মোকাবিলা করে। তারপর তিনি সিঙ্গাপুরেই গবেষণা করছিলেন ডেঙ্গুর ওপরে। গবেষণা চলাকালে তিনি দুই বছর আগে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগ দেন। আমাদের এখানে যখন যোগ দিলেন তখন তিনি ডেঙ্গু নিয়ে কাজ করছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত বছরের ডিসেম্বরে নতুন করোনাভাইরাস দেখা দিলে তিনি ধারণা করেন, এটা হলো সার্সের রূপান্তরিত রূপ। এরপর থেকে তিনি গবেষণায় মনোযোগ দেন এবং পদ্ধতিটি উদ্ভাবন করেন। বর্তমানে এটি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। অনুমোদন পেলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র বাজারজাত করবে।’ আমেরিকার একটি সংস্থাও এটি উৎপাদন করবে বলে জানিয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ।
গবেষণা দলের সদস্য ড. নিহাদ আদনান বলেন, ‘অনুমোদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ড. বিজন কুমার শীল ও ড. মহিবুল্লাহ ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে গিয়েছিলেন এবং আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। সাধারণত এ ধরনের অনুমোদন একটু সময়সাপেক্ষ। তবে জাতীয় স্বার্থের গুরুত্ব বিবেচনায় আমরা আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে অনুমোদন পেয়ে যাব।’