স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, দ্রুত দেশের আট বিভাগে করোনা ইউনিট স্থাপন করা হবে। ইউনিটগুলো স্থাপনের ফলে প্রতিটি বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের তথ্য, চিকিৎসা সুবিধাসহ সব ধরনের মনিটরিং ব্যবস্থা সহজ ও জোরদার হবে। গতকাল বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা জানান।
সভায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী বাড়লে কী উদ্যোগ নেওয়া হবে তাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশ থেকে যাত্রীরা যেন বাংলাদেশে এই মুহূর্তে না আসে সে বিষয়ে কিছু নির্দেশনা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। করোনাভাইরাসের কারণে বেশি মানুষ কোয়ারেন্টাইনে রাখার প্রয়োজন হলে ঢাকার কুয়েত মৈত্রী, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালসহ কিছু হাসপাতাল প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান প্রস্তুত করার জন্যও নির্দেশনা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
ঢাকার বাইরে বিদেশফেরত যাত্রীরা কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম না মানার প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিদেশফেরত প্রতিটি ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টাইনে ১৪ দিন থাকার সব নিয়ম মেনে চলতে হবে। নিয়মের অন্যথা হলে দেশের সংক্রামক রোগের নির্ধারিত আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ সময় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, গোয়েন্দা শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জোরালো ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যসেবা সচিবকে নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, অতিরিক্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম, সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরাসহ মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সভায় দেশের চিকিৎসকদের সুরক্ষার জন্য বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান ছয় হাজার বিশেষ গাউন প্রদানের আশ্বাস দেন। আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সামাজিক মাধ্যমে করোনার বিষয়ে অবগত হতে নতুন একটি ইমেইল আইডি ও ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট খোলার কথা জানান। তিনি জানান, সন্দেহভাজন রোগীর ব্যাপারে সরাসরি যোগাযোগের জন্য (আইইডিসিআর) ১৭টি হটলাইন খোলা হয়েছে। নম্বরগুলো হচ্ছে ৩৩৩, ১৬২৬৩, ০১৫৫০০৬৪৯০১, ০১৫৫০০৬৪৯০২, ০১৫৫০০৬৪৯০৩, ০১৫৫০০৬৪৯০৪, ০১৫৫০০৬৪৯০৫, ০১৪০১১৮৪৫৫১, ০১৪০১১৮৪৫৫৪, ০১৪০১১৮৪৫৫৫, ০১৪০১১৮৪৫৫৬, ০১৪০১১৮৪৫৫৯, ০১৪০১১৮৪৫৬০, ০১৪০১১৮৪৫৬৩, ০১৪০১১৮৪৫৬৮, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯৩৭১১০০১১।