এবার শরীরে করোনাভাইরাসের লক্ষণ আছে শোনার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল থেকে পালিয়েছেন কাতারফেরত এক প্রবাসী। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত বুধবার সন্ধ্যায় পালিয়ে যাওয়া ওই ব্যক্তি জেলার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের ধনতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া ভারত থেকে ফেরার পর দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামের এক বাসিন্দা (৪০) জ্বর নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এর আগে গত রবিবার করোনাভাইরাস আক্রান্ত কি না, সেই পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের খবর পেয়ে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান বাহরাইনফেরত এক ব্যক্তি। তিনি জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক এ বি এম মুছা চৌধুরী বলেন, ওই প্রবাসী নিউমোনিয়া, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তার শরীরের তাপমাত্রা ছিল ১০০ থেকে ১০১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সে জন্য গত বুধবার সন্ধ্যায় তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের লক্ষণ থাকায় তাকে পরীক্ষা করা হবে শুনেই ভয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি।
সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শওকত হোসেন বলেন, ‘ওই প্রবাসী ৩ মার্চ কাতার থেকে দেশে ফিরেছেন বলে জানতে পেরেছি। তার হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে জানানো হয়েছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তাকে উদ্ধারে নাসিরনগরে মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি পলাতক ব্যক্তির কোয়ারেন্টাইন সম্পন্ন হয়েছে আগেই।’
এদিকে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. সোলায়মান হোসেন মেহেদি বলেন, গত বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন চোরাইপথে ভারত থেকে ফেরা এক ব্যক্তির (৪০) জ্বর হওয়ার খবর পেয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দিতে বাড়িতে গেলে তিনি পালিয়ে যান। ওই ব্যক্তি ১০ মার্চ ভারত থেকে বাড়িতে আসার পর জ্বরে আক্রান্ত হন। এরপরও তিনি প্রকাশ্যে ঘোরাঘুরি করলে স্থানীয়রা বিষয়টি প্রশাসনকে জানায়। এরপর ইউএনও মো. তৌহিদুর রহমান, ওসি মো. মনিরুজ্জামানসহ তিনি তার বাড়িতে যান। তাদের গ্রামে যাওয়ার খবর পেয়েই ওই ব্যক্তি পালিয়ে যান।
ইউএনও মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, ওই ব্যক্তির সন্ধান দিতে গ্রামপুলিশসহ গ্রামবাসীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।