১৪ জেলায় গতকাল বৃহস্পতিবার আরও ২০৭৯ জনকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে রেখেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এদের মধ্যে বেশিরভাগই প্রবাসী। গত বুধবার ১৩ জেলায় ৯৭২ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছিল। হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশনা না মানলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য ও প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিদিন প্রবাসীদের পর্যবেক্ষণ করছেন, পরামর্শ দিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে এসব স্বাস্থ্যকর্মী নানা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।
এদিকে শরীয়তপুরে বিদেশফেরত ২ হাজার ৮৩৮ জনকে খুঁজছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এই ব্যক্তিরা হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশনা মানছেন না। এখন তাদের খুঁজে বের করে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে ২ হাজার ৮৩৮ জন শরীয়তপুরে এসেছেন। বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন থেকে শরীয়তপুর জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে এই তালিকা সরবরাহ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে শরীয়তপুর সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
গতকাল লালমনিরহাটে বিদেশফেরত ২৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তাদের কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন। গোপালগঞ্জে গতকাল আরও ৫২ প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত গোপালগঞ্জে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার সংখ্যা দাঁড়াল ১২৩ জনে।
সুনামগঞ্জে গত ১ মার্চ থেকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, ফ্রান্স, সৌদিআরব, ওমানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ২ হাজার ২২৮ জন প্রবাসী দেশে ফিরলেও হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে মাত্র ৪৩ জন। নেত্রকোনায় আরও ২৫ প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ প্রদান করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। গত বুধবার পর্যন্ত ৯ জন থাকলেও বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ২৫ জন মিলিয়ে মোট ৩৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।
নীলফামারীতে পৌরসভা মেয়র এবং এক চিকিৎসক দম্পতিসহ নীলফামারী জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৫২ ব্যক্তি। তাদের মধ্যে নীলফামারী পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ এবং চিকিৎসক দম্পতি ভারত ভ্রমণ শেষে সম্প্রতি দেশে ফিরে নিজ নিজ বাড়িতে স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌর এলাকাসহ ১৩টি ইউনিয়নে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক সতর্ক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিদেশফেরত ৩৭১ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। ফেনীতে প্রবাসফেরতসহ ৪৮৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর মেয়র লিয়াকত আলী সরকারসহ ছয়জন বিদেশফেরত ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
বাগেরহাটে বিদেশ থেকে ফিরেছে ৩১৯৪ নাগরিক, কোয়ারেন্টাইনে ২৪৯ জন। সাতক্ষীরায় ৮৭ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। পঞ্চগড়ে বিদেশফেরত এক নারীসহ আটজনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। মোংলায় বিদেশফেরত ২১৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
করোনাভাইরাস সন্দেহে মেহেরপুরে ৫০ জন সৌদি প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনায় বিদেশফেরত এসব মানুষ তাদের নিজ নিজ বাড়িতে বন্দি অবস্থায় স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারিতে আছে। মানিকগঞ্জে ৪০৪ জন প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ জনকে কোয়ারেন্টাইন থেকে অবমুক্ত করা হয়েছে।