একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে দিনাজপুরের ১৩ উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় ৫৬৩.৯৪৩ কিলোমিটার রাস্তার কাজ উদ্বোধন করা হয়েছিল। যার চুক্তিমূল্য ধরা হয় ৩৮১ কোটি ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই কাজ এখনো শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ফান্ড নেইÑ তাই রাস্তার কাজ বন্ধ আছে। ফান্ড পেলে সব কাজ পর্যায়ক্রমে শেষ করা হবে।
দিনাজপুর এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রংপুর বিভাগীয় পল্লী উন্নয়ন অবকাঠামো প্রকল্প-২-এর আওতায় ২০৯টি প্যাকেজের মাধ্যমে ছোট-বড় ৫৬৩.৯৪৩ কিলোমিটার রাস্তার কাজ শুরু করা হয়েছিল গত জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে। এ প্যাকেজের মধ্যে কোনো কোনো ইউনিয়ন, গ্রাম ও উপজেলায় তিনটি, পাঁচটি, ছয়টি ও আটটি করে রাস্তার কাজ শুরু হয়। পুরো জেলায় ৫৬৩ কিলোমিটার রাস্তার কাজের চুক্তিমূল্য ৩৮১ কোটি ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। কিন্তু এর আগে প্রকল্প-১-এর কাজ ২০১৮ সালে নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হলেও প্রকল্প-২-এর কাজ শুরুর পর অর্থ সংকটে এখনো মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। উদ্বোধন করা হলেও সেই কাজ এখনো শেষ হয়নি। দিনাজপুর এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম জানান, গত অর্থবছরে চুক্তির ৭০ কোটি টাকা এসেছিল। আর এ অর্থবছরে ২০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে চুক্তির ৩০ শতাংশের মতো অর্থ পাওয়া গেছে।
চিরিরবন্দরের কারেন্টেরহাট এলাকা থেকে দেবীগঞ্জ যাওয়ার প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তার কাজের উদ্বোধনের প্রায় এক বছর হয়েছে। ওই এলাকার মো. জামালউদ্দিন (৪২) বলেন, ‘আগে মাটির রাস্তা ছিল সেটাই ভালো ছিল। বহুদিন হচ্ছে রাস্তাটা খুঁড়িয়া ইটের খোয়া ফেলে রাখা হয়েছে। এখন রাস্তা দিয়ে হাঁটতেও কষ্ট হয়, আবার অটো, ভ্যান চালাতেও কষ্ট হয়।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে এক ঠিকাদার বলেন, ‘প্রায় এক বছরের কাছাকাছি হচ্ছে আমরা কাজ করেও টাকা পাচ্ছি না। এলজিইডি অফিস বলছে ফান্ড নেই। আমরা সরকারি কাজ করেও ফান্ডের অভাবে নিজেদের অন্য কাজ করতে পারছি না।’ লোন করে রাস্তার কাজে টাকা লাগিয়েছেন বলে জানান তিনি।
দিনাজপুর এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. রেজাউর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফান্ড না থাকায় রাস্তার কাজ বন্ধ আছে। ফান্ড আনতে চেষ্টা চালাচ্ছি। আশা করছি মে মাসের মধ্যে ফান্ড আসবে।’