মৃত্যু ১১ হাজার ছাড়াল

মহামারীর আকারে ছড়াতে থাকা নভেল করোনাভাইরাসে প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। এখন পর্যন্ত ১৭৯ দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। সারা বিশ্বে আক্রান্ত ২ লাখ ৬৬ হাজার ২৪০। মারা গেছে ১১ হাজার ১৮৭ জন। এ ছাড়া চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯০ হাজার ৬০৩ জন। মৃত্যুর সংখ্যায় ভাইরাসটির উৎসস্থল চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে ইউরোপের দেশ ইতালি। 

গতকাল শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আক্রান্ত দেশগুলোর স্বাস্থ্য কর্র্তৃপক্ষের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, করোনা আতঙ্কে অনেক দেশই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। দোকানপাট, ব্যবসাবাণিজ্য, স্কুল, কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

গত বছরের শেষদিকে নিউমোনিয়ার মতো লক্ষণ নিয়ে নতুন এ রোগ ছড়াতে দেখে চীনা কর্র্তৃপক্ষ সে সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এরপর ১১ জানুয়ারি প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব  মারাত্মক আকার নিতে শুরু করায় এর বিস্তার ঠেকাতে জানুয়ারির শেষে উহান এবং এক পর্যায়ে প্রায় পুরো হুবেই প্রদেশ কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়। চীন থেকে বিভিন্ন দেশে ভাইরাস ছড়াতে থাকায় বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

নানা কঠোর পদক্ষেপে চীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ পর্যন্ত সফলতা পেলেও নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের ১৭৯ দেশে।

অপরদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় এখন সবার ওপরে আছে ইতালি। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে আরও ৪২৭ জনের প্রাণহানির সঙ্গে সঙ্গে তারা ছাড়িয়ে গেছে করোনার উৎস চীনকেও। এ নিয়ে ইউরোপের দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪০৫ জনে। কভিড-১৯-এ এখন পর্যন্ত চীনে ৮০ হাজার ৯৬৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। দেশটিতে মারা গেছে ৩ হাজার ২৪৮ জন। তবে আগে থেকেই যে সংক্রমণ রয়েছে চীনে তার সংখ্যা ৮১ হাজার যেটা ইতালির চেয়ে এখনো অনেক বেশি। ইতালিতে এখন সংক্রমণ ৪১ হাজার ৩৫ জন।

মার্চের ১২ তারিখে ইতালিতে লকডাউন করা হয়। সব নাগরিককে বলা হয়েছে বাসায় থাকতে। তবে এইসব পদক্ষেপ নেওয়ার পরও নতুন সংক্রমণ এবং মৃতের সংখ্যা বাড়তেই থাকে।

তবে তারা চেষ্টা করছে এই ভাইরাস যাতে আরও ছড়িয়ে না পড়ে সেটা ঠেকাতে। বার, রেস্টুরেন্ট, বেশিরভাগ দোকান, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে।

কিছু কিছু গবেষণা বলছে, বড় সংখ্যায় মানুষ যারা আক্রান্ত হয়েছে তারা বয়স্ক এবং তাদের সঙ্গে যারা বাসায় রয়েছেন তাদের বেশিরভাগের বয়স ১৮ থেকে ৩৪ বছর।

অন্যান্য দেশের ভিন্ন জনসংখ্যাতত্ত্ব এই মৃতের সংখ্যা কম করতে সাহায্য করবে।

ফ্রান্স গত মঙ্গলবার সকাল থেকে লকডাউন শুরু করেছে। যারা বাইরে বের হচ্ছে তাদের কাগজপত্র দেখাতে হচ্ছে যাতে বাইরে বের হওয়ার কারণ লেখা রয়েছে। না হলে তাদের জরিমানা করা হচ্ছে।

ফ্রান্সের মন্ত্রী ক্রিসটোফে কাস্টানের ইউরোপ ওয়ান রেডিওকে বলেছেন, লকডাউন পূর্বে ১৫ দিনের কথা বলা হলেও সেটা বাড়তে পারে।

স্পেনে একদিনে মৃতের সংখ্যা ২০৯ জন। সংক্রমিত লোকের সংখ্যা ৩৪৩১ থেকে বেড়ে ১৭১৪৭। স্পেন বিশ্বের চতুর্থ দেশ যেটা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত। দেশটি লকডাউন অবস্থায় রয়েছে।

জার্মানি এখনো কঠিন ব্যবস্থা নেয়নি। যদিও তারা স্কুল এবং অনেক ব্যবসা, জনসমাগমস্থল বন্ধ করেছে। কিন্তু বুধবার চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের এক ভাষণে মনে হয়েছে বাধ্যতামূলক লকডাউন এড়িয়ে চলার একটা সবশেষ হুঁশিয়ারি ছিল। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি গুরুত্বর, এটা গুরুত্বের সঙ্গে নাও।’

যুক্তরাজ্যও এখনো কোনো কঠিন ব্যবস্থা নেয়নি তবে ঘোষণা দিয়েছে স্কুল বন্ধ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, তিনি কোনো তারিখ দিতে পারছেন না কখন আবার খোলা হবে। লন্ডনে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে। গণপরিবহন কমিয়ে দিচ্ছে। তবে একেবারে বন্ধ করে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

করোনা মোকাবিলায় ৬৫ হাজার অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক এবং নার্সকে কাজে ফেরার অনুরোধ জানিয়েছে দেশটি। একই সঙ্গে করোনার এই লড়াইয়ে দেশটির মেডিকেল কলেজের শেষবর্ষের শিক্ষার্থীদের মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় নেদারল্যান্ডস সরকারের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেওয়া দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্রুনো ব্রুইনস পদত্যাগ করেছেন। পার্লামেন্টে কভিড-১৯ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে অচেতন হয়ে পড়ার পরদিনই তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

৫৬ বছর বয়সী এ রাজনীতিবিদ পরে জানান, কয়েক সপ্তাহের টানা কাজের ক্লান্তির কারণেই তিনি বুধবার প্রশ্নোত্তর পর্বের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

এদিকে করোনাভাইরাসের কারণে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন গভর্নর। শুক্রবার এ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে গভর্নর আনিস বাসুয়েদান বলেছেন বার, সিনেমা হলসহ জনবিনোদনমূলক সবকিছুই সোমবার থেকে বন্ধ থাকবে।