কোয়ারেন্টাইন

দিয়াবাড়ীতে সেন্টার স্থাপনে স্থানীয়দের ক্ষোভ

রাজধানীর উত্তরায় দিয়াবাড়ীতে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার স্থাপনের বিরুদ্ধে প্ল্যাকার্ড দেখিয়ে প্রতিবাদ করেছেন কিছু স্থানীয় বাসিন্দা। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে প্রায় শতাধিক এলাকাবাসী এ সেন্টারটিকে তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ আশঙ্কা করে রাজউকের ফ্ল্যাট প্রকল্প এলাকার সড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে তারা তাদের উদ্বেগের কথা রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (রাজউক) ও সেনা কর্মকর্তাদের জানান।

এ বিষয়ে রাজউকের চেয়ারম্যান মো. সাঈদ নূর আলমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার নাভিদ কামাল শৈবাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঘটনাস্থলে আমরা উপস্থিত ছিলাম। তবে কিছু বলতে পারব না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইএসপিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা দেশ রূপান্তরকে জানান, আবাসিক এলাকায় কোয়ারেন্টাইন সেন্টার স্থাপন করলে এখানে বসবাসরত প্রায় তিন হাজার মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়বেন। এজন্য এ সেন্টার এখানে স্থাপন না করে কম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ও দিয়াবাড়ীর দোলন চাঁপা ভবনের সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে না, কিন্তু বসতি এলাকার মধ্যে কেন কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করা হবে? আমরা যারা এই এলাকাতে থাকি তাদের ৯০ ভাগই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। এখানে আমাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই কোয়ারেন্টাইন সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি। এখানে ভবনগুলো পাশাপাশি রয়েছে। কোয়ারেন্টাইন সেন্টার স্থাপন করা হলে আমরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ব। আজ (শুক্রবার) সারাদিন আমরা বিক্ষোভ করেছি, বলার চেষ্টা করেছি এই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোয়ারেন্টাইন সেন্টার স্থাপন না করে অন্য কোথাও করা হোক। সরকারের কাছে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছি। তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি এখন স্কুল-কলেজ বন্ধ। সেখানে স্থাপন করা যেতে পারে। অথবা কোনো ফাঁকা স্থানেও স্থাপন করা যেতে পারে। তাছাড়া রাজউক যখন আমাদের প্লট বুঝিয়ে দেয় তখন চুক্তিনামায় লেখা আছে এই আবাসিক এলাকায় কোনো হাসপাতাল স্থাপন করা যাবে না। যদি আমাদের দাবি মানা না হয় তাহলে সবাই চাবি ফিরিয়ে দেব এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

গত বৃহস্পতিবার করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আশকোনা হজ ক্যাম্প ও উত্তরা দিয়াবাড়ীর রাজউকের ফ্ল্যাট প্রকল্প এলাকায় দুটি কোয়ারেন্টাইনের দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয়।

গতকাল থেকে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর এলাকার দিয়াবাড়ীতে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ভবনে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার স্থাপনের যাবতীয় কাজ শুরু হয়েছে। কুঞ্জলতা নামের ওই কম্পাউন্ডের চারটি ভবনের প্রত্যেকটিতে ৮৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে। ভবনের সর্বমোট ৩৩৬টি ফ্ল্যাট কোয়ারেন্টাইনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তুরাগ থানার ওসি মো. নুরুল মোত্তাকিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুক্রবার সকাল থেকে প্রায় শতাধিক এলাকাবাসী অবস্থান নিয়ে এখানে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার না করার দাবি জানান। আমরা তাদের বুঝিয়েছি। তারা বেশিরভাগই বিকেলে এই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। দুই-চারজন ঘোরাফেরা করছেন। আইনশৃঙ্খলার যাতে কোনো অবনতি না হয় সেজন্য আমরা অবস্থান করছি।’

গত বৃহস্পতিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তৃতির সম্ভাব্যতা এবং প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দুটি কোয়ারেন্টাইনের দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। সেগুলো হলো বিমানবন্দর সংলগ্ন হজ ক্যাম্প এবং উত্তরার দিয়াবাড়ী সংলগ্ন রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট কোয়ারেন্টাইন। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং শেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচিত ব্যক্তিদের বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন শেষে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। হস্তান্তরের পর সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসব যাত্রীকে বিমানবন্দর থেকে কোয়ারেন্টাইনে স্থানান্তর, ডিজিটাল ডেটা এন্ট্রি কার্যক্রম, কোয়ারেন্টাইনে খাওয়া থেকে আনুষঙ্গিক সেবার ব্যবস্থা করা হবে।