রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের শিয়ালদহে গত এক সপ্তাহে হামে আক্রান্ত অন্তত ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেখানকার তিনটি গ্রামে আরও শতাধিক শিশু হামে আক্রান্ত বলে বৃহস্পতিবার রাতে জানিয়েছেন রাঙ্গামাটির সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা।
ডা. বিপাশ খীসা বলেন, ‘আমরা জেনেছি দুর্গম ওই এলাকায় হঠাৎ হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। হাম থেকে শিশুরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। আমরা জরুরি মেডিকেল টিম সেখানে পাঠিয়েছি। শুক্রবার বিজিবির সহযোগিতায় সেখানে হেলিকপ্টারে করে বিশেষ আরেকটি মেডিকেল টিম যাবে।’
রাঙ্গামাটির সবচেয়ে বড় উপজেলা বাঘাইছড়ির দুর্গম ইউনিয়ন সাজেক। ৬০৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ইউনিয়নের জনসংখ্যা প্রায় ৫২ হাজার। শিয়ালদহ এলাকাটিকে ইউনিয়নের সবচেয়ে বেশি দুর্গম বলে বিবেচনা করা হয়। যোগাযোগ দুর্গমতা ও সীমান্তবর্তী অনতিক্রম্য এলাকা হওয়ায় সরকারি জরুরি চিকিৎসাসেবা সেখানে নিয়মিত পৌঁছায় না। ২০১৫ সালের মে মাসে পানিবাহিত রোগে ওই এলাকায় ৭ জনের মৃত্যু হয় এবং আক্রান্ত আরও ৩০ জন জরুরি চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠে।
সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা নয়ন বলেন, ‘৭নং ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী তিনটি গ্রাম অরুণপাড়া, নিউথাংপাড়া এবং হাইচপাড়ায় গত কয়েক দিনে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে মূলত শিশুরাই আক্রান্ত হচ্ছে ও ইতিমধ্যে ৫ জন শিশু মারা গেছে। বিষয়টি যথাযথ কর্র্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’ দুর্গমতার কারণে তিনি নিজেও ঠিক সময়ে সঠিক খবর পাননি বলে জানিয়েছেন এই জনপ্রতিনিধি।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব জিতু বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে শিয়ালদহ এলাকার তিনটি গ্রামের শিশুদের হামে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাচ্ছিলাম। বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগকে জানানোর সঙ্গে সঙ্গেই তারা পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে গ্রামগুলো অত্যন্ত দূরে ও দীর্ঘ পায়ে হাঁটা পথ হওয়ায় সঠিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছানো কঠিন হচ্ছে। শুক্রবার আরেকটি মেডিকেল টিম যাচ্ছে, সেখানকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনে আক্রান্ত শিশুদের হেলিকপ্টারে করে চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি শহরে নিয়ে যাওয়া হবে।’