করোনা আতঙ্ক

চসিক নির্বাচন স্থগিত চেয়ে ইসিতে বিএনপির চিঠি

করোনার কারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন ২৯ মার্চ হচ্ছে কি না, এ নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন প্রার্থী ও ভোটাররা। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। গতকাল শুক্রবার দুপুরে চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামানের কাছে চিঠিটি হস্তান্তর করেন তিনি। নির্বাচন স্থগিতের দাবি

সংবলিত চিঠি নিয়ে দুপুরে নোমানের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যায়। তার সঙ্গে ছিলেন মেয়র প্রার্থী শাহাদাতসহ দলের সিনিয়র নেতারা।

পরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নোমান বলেন, ‘সারা বিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করেছে এবং ইতিমধ্যে আমাদের দেশেও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজন মারা গেছেন। করোনাভাইরাসের কারণে সরকার সারা দেশে আন্তঃজেলা বাস সার্ভিস এবং খাবারের দোকান, ওষুধের দোকান ছাড়া শপিং মলসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে জনসমাগম, মিছিল, সমাবেশ ও গণসংযোগ পরিহার করার জন্য ইসিকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আগামী ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য চসিক নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি কাজ করছে। যেখানে চট্টগ্রাম মহানগরীর অধিকাংশ ভোটার জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না, সেখানে করোনা আতঙ্কের মধ্যে জনসমক্ষে লাইন ধরে ভোটকেন্দ্রে আসবে বলে আমাদের মনে হয় না। ভোটারদের উপস্থিতির মাধ্যমে যেখানে নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকার কথা সেখানে করোনাভাইরাস আতঙ্কের কারণে ভোটারদের অনুপস্থিতিতে এই নির্বাচন হাস্যকর ও প্রহসনে পরিণত হবে। তাই নির্বাচন স্থগিত করা জরুরি।’

বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত সাংবাদিকদের বলেন, ‘চট্টগ্রামবাসীকে করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত রাখতে প্রয়োজন হলে নির্বাচন থেকে সরে যেতেও প্রস্তুত আছি। আমাদের কাছে নির্বাচন মুখ্য নয়, মানুষের জীবন আগে। আমাদের দল এবং আমরা জনগণের পক্ষে আছি। জনগণের বিপরীতে গিয়ে আমরা নির্বাচনে যেতে চাই না।’

এদিকে গতকাল দুপুরে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই মুহূর্তে চসিক নির্বাচন বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার নামে করোনাঝুঁকির মধ্যে চসিক নির্বাচন করতে চায় নির্বাচন কমিশন। দেশের মানুষকে এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছেএর দায়দায়িত্ব কারা নেবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষজ্ঞদের মতে, হাতের মাধ্যমে বেশি ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাস। ইভিএম পদ্ধতিতে নির্বাচনে একজনের পর একজন ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে থাকবে। ভোট দিতে আসা কেউ করোনাভাইরাসে অসুস্থ হয়ে থাকলে পরে যারা ভোট দেবে সবাই আক্রান্ত হবে। এর দায়দায়িত্ব কে নেবে? তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই মুহূর্তে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া দরকার।’